সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নেপাল এখন সেলফির স্থান!

18825_64959নিউজ ডেস্ক::
গত শনিবার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর নেপালের বিখ্যাত ধারাহারা টাওয়ার এর সামনে অনেককেই সেলফি তুলে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে।নেপালের ঐতিহাসিক ধারাহারা টাওয়ার একটি নয় তলা বিশিষ্ট ভবন। যা নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুর একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ছিল। শনিবারের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এই স্থানটি ধ্বংসযজ্ঞে রুপান্তরিত হয়। ৪৩০০ এর অধিক মানুষ এই ভূমিকম্পে মারা গেছেন। দ্যা হিন্দু নিউজ পেপার এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাহারা টাওয়ার এর নীচে ১৮০ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের পর অনেক গণকবর দেয়া হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, ধারাহারা টাওয়ার সেলফি তোলার একটি জনপ্রিয় সাইট হিসেবে পরিণত হয়েছে। সেখানে মানুষ তাদের বন্ধুদের সাথে স্মিত ও হাসি মুখে বিভিন্ন ছবি তুলছে ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছে।
সেখানের স্থানীয় একজন ছাত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “এটা একটি ভূমিকম্প পর্যটন। এটা ঠিক নয়। তারা এই অবস্থাকে একটি বিয়োগান্ত ঘটনা মানার তুলনায় সেলফি ক্লিক করতে বেশি আগ্রহী”।

ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল এর তথ্য মতে, ১৮৩২ সালে ধারাহারা টাওয়ার, ভীমসেন টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল। যা রানীর জন্য ওয়াচটাওয়ার হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি ১৯৩৪ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। যা ছিল সবচেয়ে ভয়ানক ভূমিকম্প, যা জাতি কখনও দেখে নাই।
নেপালের জাতীয় সিসমোলজিকাল কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সেই ভূমিকম্পে ১৬০০০ লোক মারা গিয়েছিল। অতঃপর টাওয়ারটি ১৯৩৬ সালে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল।

বছরের পর বছর এই স্থানে পর্যটকেরা ৮ তলা পর্যন্ত সর্পিল সিঁড়ি আরোহণ করে ঘুরে বেড়িয়েছেন। শনিবার দুপুরের খাবারের সময় কাঠমুন্ডুতে কম্পনের ফলে আবার সেই ওয়াচ টাওয়ার ভেঙ্গে পড়ল।

ভূমিকম্পের সময় একজন প্রত্যেক্ষদর্শী দ্যা গার্ডিয়ানকে জানান, “আমি তখন ধারাহারা টাওয়ার এর সামনে ছিলাম। অনেক জোরে কম্পন শুরু হয়েছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধারাহারা টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেল। সকলে তখন বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিল”।
মানুষ দীর্ঘ দিনের ছুটিতে ধারাহারা টাওয়ার এ ঘুরতে যেত। তখন তারা বিভিন্ন ধরণের ছবি তুলতো। আর এখন এই ধ্বংসস্তূপ, লাল ইট ও ধূলিকণার উপর দাড়িয়ে মানুষ সেলফি তুলছে।

এপি এর মতে, যারা সেলফি তুলছে তারা সেখানের পর্যটক নন। তারা সেখানের স্থানীয় মানুষ। তারা মানুষকে খোঁজার জন্য ও এরিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য ছবি তুলছেন। মর্মান্তিক একটি অবস্থায় যারা সেখানে হাস্যজ্জ্বল সেলফি তুলছেন, তাদেরকে সবাই ধিক্কার জানাচ্ছেন এবং এটি একটি ধিক্কারের কাজও বটে।

–সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: