সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিশ্চিত করা হয়েছে ৪ হাজার প্রাণহানি; হিসেবের খাতায় নেই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো

nepalrefugee007আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধার তৎপরতা চললেও এখনও উৎপত্তিস্থলের আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৭শ’রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও দূরবর্তী ওই এলাকাগুলোতে অনেক প্রাণহানি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয় ওই পার্বত্য গ্রামগুলোতে ক্ষতির মাত্রা রাজধানী কাঠমুন্ডুকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া ওইসব এলাকায় উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারলে আরও অনেক মরদেহ উদ্ধার হবে বলেও আশঙ্কা জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

১৯৫৯ সাল থেকে চীনের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে হিমালয়ান সীমান্ত দিয়ে নেপালে পাড়ি জমাতে থাকে তিব্বতের জনগণ। পালিয়ে আসা তিব্বতিদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের মাত্র অল্প ক’জনের নেপালি নাগরিকত্ব রয়েছে। আর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অল্প কিছু মানুষ আশ্রয় পান কাঠমুন্ডুর শরণার্থী শিবিরে। বাকি তিব্বতিদের বেশিরভাগই বসবাস করছেন অবৈধভাবে। তাদের বসবাসের অধিকার কিংবা পরিচয়পত্র কিছুই নেই।বলা যায় একেবারে রাষ্ট্রহীন ও অদৃশ্য অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকেন এসব শরণার্থীরা। আর এ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোই সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।

নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর একটি গোর্খা জেলা। ওখানকার স্থানীয় এক কর্মকর্তা উদাব প্রসাদ জানান, জেলার গ্রামগুলোর ৭০ শতাংশ ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে । জরুরি ভিত্তিতে সেখানে সহায়তার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

কাঠমুন্ডু থেকে উত্তরে এবং তিব্বত সীমান্তের কাছে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার মিটার উপরে তিব্বতি অধ্যুষিত ব্রিদিম গ্রামের অবস্থান। নেপালের তিব্বতীয় আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করে থাকে দোলমা ডেভেলপমেন্ট ফান্ড নামের বেসরকারি সংগঠনটি। গ্রামের কাছেই একটি স্কুলে ৫শ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি। দোলমার চেয়ারম্যান টিম গোচার তার স্ত্রীর কাছে নিজের এবং ব্রিদিম অবস্থার বর্ণনা দিয়ে রোববার একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন্ সেখানে তিনি লিখেছেন, “স্কুলের বাচ্চারা সব হারিয়ে গেছে। এলাকার গাছপালা, বাড়ি-ঘর সব ধসে পড়েছে। রাতে আমরা গাড়িতে ঘুমিয়েছি। সবার মধ্যে ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

আলভারেস কাসপার নামে দোলমা ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের এক পরিচালনাকারী জানান, তিব্বতি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ঠিক কত মানুষ আটকা পড়ে আছেন তার হিসেব দেয়া মুশকিল। এখনও ওই এলাকাগুলোতে কোন উদ্ধার অভিযান শুরু হয়নি।

নিকটবর্তী ভোরলে উপত্যকার অবস্থাও খুব ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন কাসপার। তিনি বলেন, ‘পর্বত থেকে আসা একটি পাইপই ওখানকার একমাত্র পানির উৎস। যদি তার সংযুক্তি নষ্ট হয়ে যায়, তখন আর পানিই পাওয়া যাবে না। রোগ-ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।”

শনিবারের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে নেপালের ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সেইসব শিশুদের জন্য এ মুহূর্তে নিরাপদ পানি আর খাবার প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এদিকে শনিবারের ভূমিকম্পের পর থেকে কাঠমুন্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে বৃষ্টির কারণে বার বার উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হলেও সোমবার সকালে সূর্যের দেখা মিলেছে দেশটিতে। এছাড়া বেশ কয়েক দফায় ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পনের কারণে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ তৎপরতাও। ধারাবাহিক ভূমিকম্পের কারণে বার বার কাঠমুন্ডু বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঠিকমত পৌঁছাতে পারেনি বিদেশি সহায়তা।

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: