সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইহা একটি বিয়ের কার্ড

unnamed (7)লাইফস্টাইল ডেস্ক::
রাজনৈতিক ডামাডোল, সিটি নির্বাচন, ভূমিকম্পসহ নানা বিষয় নিয়ে আমরা ভীষণ ব্যস্ত। সময় নেই দম ফেলবার। নিত্যদিনের কাজের চাপে বেড়াতে যাওয়া বন্ধ। সব মিলিয়ে সময়টা সবার ব্যস্ততার সঙ্গেই উপভোগ করছেন। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, যাপিত জীবনের নানা খরচ তো আছেই। তাই বলে কি বিয়ে থেমে আছে? প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিন চলছে বিয়ে। কেউ কেউ আবার সরকারি ছুটির দিন বেছে নিচ্ছেন বিয়ের জন্য। বিয়ে মানেই ফুর্তি হই-হুল্লোড়, আনন্দ আর দাওয়াত। দাওয়াতের কথা উঠলেই আসবে কার্ডের কথা। বিয়েতে দরকার দাওয়াত কার্ড।

ঢাকা শহরের বাসিন্দা হলে পল্টন এলাকা, চট্টগ্রাম হলে আন্দরকিল্লা, রাজশাহীতে নিউমার্কেটে ছুটতে হবে কার্ডের জন্য। অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরের অনেক প্রেসের দেওয়ালেই সাটা থাকে এখানে বিয়ের কার্ড করা হয়। বিয়ের কার্ড বেছে, দেখে শুনে বাছাই করে সংখ্যা বলে অর্ডার দিন, সঙ্গে টেক্সটটা বলে দিন, ব্যাস শেষ হয়ে গেলে আপনার দায়িত্ব। তৈরি হয়ে গেল বিয়ের কার্ড। এবার বিলি করতে শুরু করুন।

খুব সহজে আপনাকে জানিয়ে দিলাম বিয়ের কার্ড তৈরির ঘটনা। কিন্তু খরচ কত পড়বে সে বিষয়ে কি কোনও ধারণা আছে? খুব কম করে হলেও ৫০ টাকা পড়বে খামসহ একটি সাধারণ কার্ড তৈরি করতে। অতিথি যদি ৫০০ হয় তবে আপনাকে গুণতে হবে ২৫ হাজার টাকা। এমনিতেই বিয়ের এত খরচের হ্যাপা, তার ওপর এই কার্ডের ধাক্কা সামলানো খুব কঠিন। আর যদি একটু ভালো কার্ড করতে চান তবে নিদেনপক্ষে ১০০ টাকা গুণতে হবে কার্ড প্রতি। সুতরাং আপনার খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

অবশ্য হবু দম্পতি আশিকুর রহমান ও সিনথিয়া মিতুল এই ভুলটি করেননি। চলতি সপ্তাহেই তাদের বিয়ে, দাওয়াত দিতে বন্ধুর অফিসে হাজির হলেন গাছ নিয়ে। একটি সুদৃশ্য টবে ফুল গাছে ঝোলানো একটি কার্ড। এতে আমন্ত্রিতের নাম লেখা। বিয়ের দাওয়াত হিসেবে ফুল গাছ একটু অভিনবই বটে। দাম কত পড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আশিকুর হেসেই খুন। বললেন সব মিলিয়ে ৩০-৪০ টাকা। ঘরে থাকা নানা জিনিসপত্র দিয়ে আর ১৫ টাকা দরে ফুলে গাছ কিনে একটু সময় খরচ করে বানিয়ে ফেলেছেন এই বিয়ের কার্ড।

প্রথমে পলিব্যাগসহ একটি গাছ কিনেছেন এরপর ডিসপোজেবল কাপে সেটি বসিয়েছেন। কাপটা ডেকোরেশন করতে বেছে নিয়েছেন মায়ের পুরানো শাড়ি। প্রতিটা গ্লাসে মুড়ে দিয়েছেন শাড়ির টুকরো। একটু খানি লেস জড়াতেও ভুল করেননি। অ্যাকুরিয়াম ভেঙে যাওয়ার পর জমিয়ে রাখা পাথরগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন গাছের গায়ে। এত গেল গাছের ডেকোরেশন দাওয়াত কার্ডটা কোথায়? একটু শক্ত কাগজ কিনে প্রিন্টারে প্রিন্ট করে নিয়েছেন মনের সব কথা। প্রতিটি আমন্ত্রিতের নাম লিখে দিয়ে নিচে লেখা ‘উই আর টাইয়িং নট’। এবার ফিতা দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দিয়েছেন গাছের ডালে। কার্ডের ওপরে যে কালো রংয়ের হৃদয় চিহ্ন আছে সেটি আবার হবু দম্পতির আঙুলের ছাপ। নিজের হাতে তৈরি করা দাওয়াত কার্ডে নিজের হাতে ছোঁয়া না থাকলে কি হয়?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: