সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কোরআন যেভাবে বদলে দিল এক বৌদ্ধ নারীর জীবন

Quaranডেইলি সিলেট ডেস্ক::
আধুনিক বিশ্বে মুসলমাননের যখন জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে তুলনা করার অপ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঠিক তখনই হুশিনু নামের জাপানের এক বৌদ্ধ নারী আল কোরআনের প্রেমে পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছেন। ‘অতসুকু হুশিনু’ ইন্টারনেটের মাধ্যমে আল কোরআন খুঁজে বের করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সবার থেকে আড়ালে গিয়ে পড়তেন।

অতসুকু হুশিনু পড়াশুনা করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে। বর্তমানে অতসুকু ইরানে রয়েছেন এবং তিনি ইসলাম ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইত সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

ইসলামের প্রতি ঈমান আনার ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে জাপানি যুবতী অতসুকু জানিয়েছেন, ১১ ই সেপ্টেম্বরের হামলার দৃশ্য বার বার দেখার পর প্রথম দিকে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন। এরপর তার কাছে মনে হয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে হলিউডের ছায়াছবিগুলোর বেশ মিল রয়েছে এবং ঘটনাটি এমন রহস্যময় যে এর পেছনে বা নেপথ্যে অনেক চালিকাশক্তি কাজ করছে। এই ঘটনার সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের জড়িয়ে অনেক নেতিবাচক কথা প্রচার করা হয়। আর সেইসব প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে বরং এ ধর্ম সম্পর্কে সত্যিকারের চিত্র জানতে আগ্রহী হন অতসুকু। এরপর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পান যে ইসলামই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মহৎ ও বড় ধর্ম।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে অতসুকু বলেছেন: ‘আমি বড় হয়েছি এক বৌদ্ধ পরিবারে। বৌদ্ধরা নিজ ধর্ম বিষয়ে খুবই রক্ষণশীল। আমার এক চাচা জাপানি সংসদে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি ছিলেন। তাই এ ধর্ম সম্পর্কে আমার গভীর জানাশোনা ছিল। আমার আরেক চাচা ছিলেন পুরোহিত। তিনি খ্রিস্টানদের বাইবেলও পড়েছেন। ফলে খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গেও আমি পুরোপুরি পরিচিত ছিলাম। আমার মনে কোনো কোনো বিষয়ে কিছু প্রশ্ন জাগতো, কিন্তু কেউই সেইসব প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হননি। কিন্তু ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার জীবনের রঙ ও ঘ্রাণ বদলে যায়।

মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন প্রথমবারের মত পড়েই মনে হয়েছে যে, সত্যিই তা আসমানি বা ঐশী কিতাব এবং অন্য ধর্মগ্রন্থগুলোর সঙ্গে এর রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাই বুঝলাম যে ইসলামই প্রকৃত খোদায়ী ধর্ম। পবিত্র কুরআন আমার মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং দূর করেছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। ফলে ইসলামের দিকে আরো গভীরভাবে ঝুঁকে পড়ি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।’

আমি আমার সমগ্র অস্তিত্বের মধ্যে এই মহাসত্যটি অনুভব করছি। কঠিন অবস্থার মধ্যে আমি যখন বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের দোয়াগুলো পাঠ করতাম তখন মনে হত যেন স্বয়ং মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত যেন আমাকে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই যতই আহলে বাইতের সঙ্গে সম্পর্কিত দোয়া ও জিয়ারত পাঠ করি ততই তাঁদের প্রতি এবং তাঁদের জীবনাদর্শ সম্পর্কে আমার ভালবাসা বাড়তেই থাকে ও তাঁদের মাধ্যমে বাড়তে থাকে খোদাপ্রেম।’

অতসুকুর পরিবার তার মুসলমান হওয়ার প্রবল বিরোধিতা করেছিল। বিষয়টা তাদের কাছে ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। প্রথমে তারা বিষয়টিকে বিশ্বাসই করেননি। পরে দেখলেন যে তাদের মেয়ে নিজেকে অনেক কিছু থেকেই দূরে রাখছে, বিশেষ করে তারা যখন দেখলেন যে অতসুকু হারাম গোশত খাচ্ছেন না তখন তারা বিরোধিতা জোরদার করেন। তারা অতসুকু’র ওপর অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপসহ নানা ধরনের চাপ দিতে থাকে ও তাকে হয়রানি করতে থাকে যাতে সে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। কিন্তু সে তাদের একটা কথায় বলেছে যে, ‘ এতদিন অন্ধকারে ছিলাম কোরআন আমার জীবন বদলে দিয়েছে, তাই আমি মুসলমান হয়েছি।’

সূত্র: রেডিও তেহরান

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: