সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে নেপালে ঘটল ভয়াবহ ভূমিকম্প

11146539_649আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রের্ড ওয়েগনার পৃথিবীর মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এক সময় পৃথিবীর মহাদেশগুলো একত্রে ছিল যা কালক্রমে ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়েছে। ওয়েগনারের এই তত্ত্বকে বলা হয় কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট। এ তত্ত্ব বলে পৃথিবীর উপরিতল কতগুলো অনমনীয় প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলোকে বলা হয় টেকটনিক প্লেট। একেকটি টেকটনিক প্লেট মূলতঃ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গলিত পদার্থের বাহিরের আবরণ যা একটি পাথরের স্তর। ভূ-স্তরে যা কিছু রয়েছে তা এই প্লেটগুলোর উপরে অবস্থিত।
টেকটনিক প্লেটগুলো একে অপরের সাথে পাশাপাশি লেগে রয়েছে। এগুলো প্রায়ই নিজেদের মাঝে ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে। কখনও মৃদু, কখনও সজোরে। যেহেতু প্লেটগুলো শিলা দ্বারা গঠিত, তাই ধাক্কার ফলে তাদের মাঝে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। এই ঘর্ষণের মাত্রা অধিক হলে এক ধরনের শক্তি নির্গত হয় যা ভূ-স্তরকে প্রকম্পিত করে। যদিও ভূমিকম্পের আরও কারণ রয়েছে (যেমন আগ্নেয়গিরি), তবে এই কারণটিই অধিকাংশ ভূমিকম্পের জন্যে দায়ী।
শনিবার নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যে তথ্য দিয়েছেন, নিম্নে তা তুলে ধরা হল-
শনিবার নেপালে দুপুর হবার কিছু সময় পূর্বে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯ মাইল নীচে শিলার একটি খণ্ড সরে যায়। তখন কাঠমুন্ডু উপত্যকায় ভূপৃষ্ঠের নীচে শক্তিশালী তরঙ্গের বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়।এখানে সৃষ্টি হওয়া এক একটি অভিঘাত ২০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণের চেয়ে বেশি।
ভূতাত্ত্বিক ভাষায়, নেপালের এই কম্পনটি একই অঞ্চলে ৮১ বছর পরপর সংঘটিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৩৪ সালে এরকম ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।
নেপালের ন্যাশনাল সোসাইটি ফর আর্থকোয়েক টেকনোলজির দেয়া এক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ বছর পর পর নেপালে একটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
নেপালের ভূমিকম্পের পেছনের প্রধান কারণ হল, নেপালের দক্ষিণ সীমানা বরাবর ফল্ট লাইনের নিয়মিত চলাচল। প্রায় ৪০ মিলিয়ন থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে ইউরেশিয়া প্লেট এর সাথে সংঘৃষ্ট, নেপালের দক্ষিণ সীমানা।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ল্যাং এস চ্যান এর মতে, “ভারত ও ইউরেশিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ ভূতত্ত্বের একটি প্রদর্শনী”। তথাকথিত ভারত প্লেট প্রতি বছর উত্তর এশিয়ার দিকে ২ ইঞ্চি বা ৫ সেন্টিমিটার পরিমাণে সরে যাচ্ছে। ল্যাং বলেছেন, “ভূতাত্ত্বিকভাবে তা খুবই দ্রুত”।
তিনি আরও বলেছেন, “প্লেট একে অপরকে ধাক্কা দেয়ার ফলে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, যা ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি করে।” ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট তাপ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্ফোরণের তুলনায় বেশি। “শনিবারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে প্লেট প্রায় ২ মিটার বা ৬.৫ ফুট এগিয়ে যায়”- বলে মন্তব্য করেছেন, হংকং এর চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হংফেং ইয়াং।
শনিবারের ভূমিকম্পে মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে অগভীর ছিল। এই ধরণের ভূমিকম্প আরও ক্ষতি করতে পারে এবং ভূপৃষ্ঠের নীচের গভীরতা ঠিক করার লক্ষ্যে আরও ছোট ছোট কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি ভূমিকম্পের পর প্লেটগুলো এবং ঘড়ি পুনরায় রিসেট করা শুরু হয়। ডঃ চ্যান বলেছেন, “ফুটন্ত পানির পাত্র থেকে ঢাকনা সরিয়ে নিলে পানিগুলো নিজ অবস্থানে চলে যায়, আবার ঢাকনা দেয়ার পর পানিগুলো উপড়ে পড়তে থাকে, ভূমিকম্পও ঠিক তেমনি”।
নেপালের ভূমিকম্পের কারন শুধু টেকনিক্যাল সংঘর্ষ নয়, এর জন্য নেপালের ফল্ট লাইনেরও প্রভাব রয়েছে। সাধারণ ফল্টের কারনে বিভিন্ন স্থানে মাটিতে ফাটল দেখা যায়।
নেপালে এত ভূমিকম্প হবার পরও কবে আবার ভূমিকম্প হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তবে হয়ত প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর পরপর এরকম ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্যা ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: