সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নেপালে ৩ হাজার ২শ’ ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে; আরও প্রাণহানির আশঙ্কা

nepal 6আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নেপালে গত শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২১৮ জনে পৌঁছেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল এ তথ্য জানান। আহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি।

এএফপির খবরে জানানো হয়, ভারত ও চীনে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে গতকাল পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে নেপাল।

গতকাল রোববার নেপালে আবার নতুন করে ভূমিকম্প হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

নেপালের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মীনেন্দ্র রিজাল ভারতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দেশ একটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক সহায়তা ও ত্রাণ প্রয়োজন।’

শনিবার নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে আঘাত হানে শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থলে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কাঠমান্ডুর অদূরে পোখরার কাছে লামজুং। এর ২৬ মিনিট পর দ্বিতীয় এবং ৮ মিনিট পর তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় বিভিন্ন মাত্রার প্রায় চল্লিশটি কম্পন অনুভূত হয় বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

মূল ভূমিকম্প পরবর্তী আঘাতগুলোর মধ্যে রোববার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতে অনুভূত হওয়া কম্পনটি আবারো জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ইউরোপীয়-ভুমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) হিসাবে রিখটার স্কেলে এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫ তবে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্যমতে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।

নেপালের রাজধানী কাঠমুণ্ডু থেকে ৮৫ কিলোমিটার পূর্বে ও কোদারি থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বলে জানিয়েছে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে।

এদিকে, রোববার রাতেও দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে কেটেছে ভূকম্পন বিধ্বস্ত নেপালের বাসিন্দাদের। রাজধানী কাঠমুণ্ডুতে হাজার হাজার মানুষ তাবু খাঁটিয়ে রাত পার করেছেন। এদের অধিকাংশের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। বাকিরা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বলে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঠিক চিত্র এখনো জানা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে কাঠমাণ্ডুর অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ভূমিকম্পের পরের নেপালকে যেন চেনাই যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকের মৃতদেহ মিলছে। উদ্ধারকর্মীরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে।

এদিকে, কাঠমাণ্ডু মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা তাঁবুতে অপারেটিং থিয়েটার তৈরি করে আহত মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ভারতে নেপালের রাষ্ট্রদূত দিপ কুমার উপাধ্যায়া বলেন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আর স্থানের সংকুলান হচ্ছে না। আহতদের খোলা স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সাহায্য
আন্তর্জাতিক বিশ্ব নেপালের ডাকে সাড়া দিয়ে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার সাহায্য দিয়েছে। ভারত হেলিকপ্টার, মোবাইল হাসপাতাল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ৪০টি শক্তিশালী উদ্ধারকর্মী দল ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়েছে।

চীন ডগ স্কোয়াডসহ উদ্ধারকর্মীদের ৬২টি দল পাঠিয়েছে। পাকিস্তান চারটি এয়ারক্রাফট, ৩০টি হাসপাতাল শয্যা, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল, খাবার, তাঁবু ও কম্বল পাঠাচ্ছে। যুক্তরাজ্য আটটি সাহায্যকারী দল ও ৫০ লাখ পাউন্ড সাহায্য পাঠিয়েছে। এছাড়া জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, ইসরায়েল ও স্পেনের কাছ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

এর আগে ১৯৩৪ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প আঘাত হানে নেপালে। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে নিহত হয় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ১৯৮৮ সালে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় হিমালয়কন্যা।

ত্রাণ ও চিকিৎসা দল পাঠাল বাংলাদেশ
নেপালের জনগণকে সহায়তার জন্য ছয়টি চিকিৎসা দলসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে মোট ৩৪ জনের একটি দল কাঠমান্ডু পৌঁছায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: