সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রানা’র আজ আর আগের মতো চিঠি নিয়ে ছুটে না…

daily sylhet postoffice newsজালাল আহমদ::
‘কতো চিঠি লিখে লোকে-কতো সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কতো দুঃখে ও শোকে’ কবি সুকান্তের কবিতার রানা’র আজ আর আগের মতো চিঠি নিয়ে ছুটে না। “চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেল দিস্তা দিস্তা কলম গুটা ছয়” কিংবা “চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাংগা ভাংগা হাতে” এই গানগুলোর এখন নেই কোনো কদর। কোনো যুবক-যুবতী এখন আর তার মনের মানুষের চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করে না। গায়ের কোনো বধূ আজ প্রবাসে থাকা তার স্বামীর পাঠানো পত্র পেতে ব্যাকুল হয়ে ডাকপিয়নের পথ চেয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনে না। কোনো মা-বাবা তার পুত্রের ভালো-মন্দের খবর জানাতে পত্র লিখতে বলে না।

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে চিঠিপত্রের আবেদন কমে যাওয়ায় দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগ। পূর্বে চিঠি আদান-প্রদানের জন্য ডাকঘরে লোকের ভীড় হতো। এখন তা আর নেই। এক সময় ডাকপিয়নের যে কদর ছিল তা একেবারেই কমে গেছে। এ অবস্থা সারা দেশে। সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজারেও এর ব্যতিক্রম নেই। এখানের অধিকাংশ লোক যুগ যুগ থেকে ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। এক সময় পরিবার-পরিজনের খোঁজ-খবর নেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল চিঠিপত্র আদান-প্রদান। আর এর প্রধান মাধ্যম ছিল ডাকঘর।

বর্তমানে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট ও ই-মেইলের মতো উন্নত প্রযুক্তির সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগ। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন গ্রামগঞ্জও আলোকিত। মাত্র কয়েক বছর সময়ের ব্যবধানে পাল্টে গেছে প্রতিটি ডাকঘরের চিত্র। পত্র প্রাপ্তির স্বার্থে ডাকপিয়নের যে কদর ছিল তা এখন আর নেই। তাকে খুঁজতে এখন কেউ আর ব্যস্ত হয় না। বাড়িতে থাকা মহিলারা ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকে না। পুত্রের পাঠানো চিঠি কিংবা মানি-অর্ডারের অপেক্ষার প্রহর গুনেন না মা। কারণ এখন প্রয়োজন হলেই মুহূর্তেই যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে গেছে মোবাইল ফোন। ই-মেইলের কদরও বেড়েছে অনেক। মোবাইল ফোনে এসএমএস, এমএমএস এবং বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থাও যোগাযোগের বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস-আদালতের জরুরী তথ্য এখন ইন্টারনেট ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিছু চিঠিপত্র আদান-প্রদান হলেও ডাক বিভাগের ধীরগতির কারণে তা দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলো।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়াসহ সাত উপজেলার বেশ কিছু সাবপোস্ট অফিস ও শাখা অফিস ঘুরে দেখা যায়, চিঠিপত্র আদান-প্রদানের জন্য মানুষের আনাগোনা নেই। শহরের কয়েকজন পোস্ট মাস্টার জানান, বর্তমানে ব্যাংক ও বীমার কিছু চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়ে থাকে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: