সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসাপ্রাপ্তির হার কমেছে

uk_passport_flagপ্রবাস ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস হচ্ছে। আবেদন বাড়লেও প্রাপ্তির সংখ্যাটা কমে আসছে। শতাংশ হিসেবে এর পরিসংখান এখনও জানা না গেলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন ‘অস্বাভাবিক’হারে কমে আসছে। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাতিল করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের আবেদন। এমন অভিযোগও করছেন ভুক্তভোগীরা। যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রসেসিং দিল্লিতে স্থানান্তরের পর থেকেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। একটি সংগঠন দাবি করেছে, বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রাপ্তির পরিমাণ এখন ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন উদ্বেগজনক খবরের মধ্যে আরেকটি খবর যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদনকারীদের জন্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশটির সেটেলমেন্ট ভিসার বার্ষিক আয় ১৮ হাজার পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৩৬ হাজার পাউন্ড করার একটি প্রস্তাব উঠেছে যুক্তরাজ্যে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া দিল্লিতে স্থানান্তর করে দেশটি। হাই-কমিশনের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত থেকেই এই পরিবর্তন বলে দাবি দেশটির। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিংও দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। এই খবর প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশ বিশেষত সিলেটে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। মানববন্ধনসহ নানা মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের এই নীতির সমালোচনা করা হয়।

সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল আলম জানালেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস ছিল। সেই অফিসের মাধ্যমেই সিলেটিরা আবেদন করে যুক্তরাজ্যের ভিসা পেতেন। এরপর বাংলাদেশে দেশটি হাইকমিশনের অফিস করে। সেই অফিস থেকে বিগত ৪২ বছর ভিসা পেয়েছেন সিলেট তথা বাংলাদেশীরা। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদনকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই সিলেটি। এ কারণে ২০০০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে এসে ঘোষণা করেছিলেন, সিলেটিদের যুক্তরাজ্যের ভিসা ঢাকায় নয়, এখন সেটা সিলেট থেকেই হবে। এমনকি ওই দিন ওভারসিজ সেন্টারে ৫৪ টি ভিসা আবেদন পরীক্ষার পর ৪৭ জনকে যুক্তরাজ্যের ভিসাও প্রদান করা হয়। এরপরই সিলেটে হাই কমিশনের অফিস খুলে সেখান থেকে ভিসা দেওয়া হত। কিন্তু কিছুদিন পর হঠাৎ করেই সিলেটে ভিসা প্রসেসিং বন্ধ করে ফের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। আর এখন ঢাকায়ও নয়, সেটা নেয়া হয়েছে দিল্লিতে। একটা স্বাধীন দেশের নাগরিকদের অন্যদেশে ভিসা আবেদন করতে যেতে হবে, এমনটা স্বাধীন সত্তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা টাইমসের সিলেট ব্যুরো চীফ আবু তালেব মুরাদ বলেন, বছর কয়েক আগে যুক্তরাজ্য সরকার সব চেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হাই কমিশন অফিস হিসেবে দিল্লিকে চিহ্নিত করেছিল। এখন সেই দিল্লিতেই বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যের ভিসা-ভাগ্য নির্ধারণ হয়।
দিল্লিতে ভিসা-ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ায় বাংলাদেশিরা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। এই ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এখন সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা। কিন্তু ঢাকা থেকে ভিসা প্রসেসিং দিল্লিতে স্থানান্তর হলেও এ ব্যাপারে কোনো তৎপরাতই দেখায়নি বাংলাদেশ সরকার- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এজন্য বাংলাদেশকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ভিসা প্রসেসিং দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৪ সালে আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হলেও সেটি হঠাৎ করেই থেমে যায়। সেই আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে চলতি বছরের মার্চে নতুন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক দৈনিক সিলেট সংলাপের সম্পাদক ফয়জুর রহমান জানিয়েছেন, সিলেট তথা বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ের জন্যে, দিল্লি থেকে ঢাকায় ভিসা প্রসেসিং ফিরিয়ে আনতে তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ইতোমধ্যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সামনে আরও নতুন কর্মসূচি পালিত হবে।
তবে বাংলাদেশ তথা সিলেটে এমন আন্দোলনের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনাও আছে। যুক্তরাজ্যের মতিগতি সম্পর্কে সম্যক অবগত প্রবাসী ও বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সিলেটে নাগরিক আন্দোলন, মানবন্ধন বা স্মারকলিপি প্রদান করে খুব একটা কাজ হবে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি রাষ্ট্র। সেটি পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রকেই করতে হবে।

একইভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত প্রবাসীরাও যদি সমানভাবে উদ্যোগ নেন, তাহলে হয়তো কাঙ্খিত ফল পাওযা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালের জুলাইয়ে সেটেলেমেন্ট ভিসার জন্যে বার্ষিক আয় ১৮ হাজার ৬০০ টাকা করে যুক্তরাজ্য। এর আগে সেটা সপ্তাহে ১০৫ পাউন্ড ছিল। ওই বছরের ৯ জুলাই থেকে বর্তমান নিয়ম চলে আসছে। এমন অবস্থায় সেটাকে এক ধাপে দিগুণের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যে স্বামী-স্ত্রীর সেটেলমেন্ট ভিসা প্রাপ্তির সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের মত দেশগুলো থেকে সেটেলমেন্ট ভিসার আবেদন কমাতেই নতুন এই প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, প্রস্তাব এলেও এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: