সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একসাথে ১২০০ গাছ নিধন !

IMG_5705 copyনুরুল হক শিপু ::
প্রায় ২২ বছর আগে বৃক্ষরোপন করা হয় সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে। এগুলো পারাইরচকের সবুজ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২২ বছর আগের শিশু বৃক্ষগুলো আজ অনেক বড় হয়েছে। বৃক্ষগুলোর বয়সও এখন ২২ বছর চলছে। তাদের ডালপাল মেলেছে অনেক। গাছগুলোতে হাজার-হাজার পাখি বাসা বেঁধেছে। রাস্তার দু’পাশের সারিবদ্ধ গাছগুলোর কারণে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পরিবেশ এখন অন্যরকম। এলাকার পরিবেশও সবুজ ও নির্মল। কিন্তু এটি সামাজিক বনায়ন। যার ফলে তা কেটে ফেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বন বিভাগ।

সড়কের দু’পাশে প্রায় ১২’শ গাছ কাটার প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৮’শ গাছ চিহ্নিত করে নাম্বার ফেলা হয়েছে। বাকি গাছগুলোর নাম্বার ফেলা বৃষ্টির কারণে সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে ১২’শ গাছ একসাথে কাটার বিপক্ষে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবেশবিদরা। তাদের মতে, একসাথে এত গাছ কাটলে যেমন পরিবেশর বিপর্যয় ঘটবে, তেমনি গাছে বসবাসকারী পাখিরা হারাবে তাদের বাসস্তান।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দু’পাশে পারাইরচক থেকে খালেরমুখ মাজার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২’শ গাছ রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে রয়েছে। ওই ১২’শ গাছের মধ্যে সাড়ে ৮’শ গাছে নম্বর ফেলা হয়েছে। ছোট গাছে নম্বর ফেলা হয়নি, পাশাপাশি কিছু গাছে ক্রস চিহৃ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন বিভাগ ওই গাছগুলো চিহ্নিত করতে দায়িত্ব দিয়েছে বন সম্প্রসারণ নার্সারী শেখঘাট অফিস কর্তৃপক্ষকে।

শেখঘাট বন সম্প্রসারণ নার্সারী অফিস সূত্র জানায়, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সালে সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে সামাজিক বনায়ন করা হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হলে সামাজিক বনায়নের অধিনের গাছ কেটে ফেলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পারাইরচক থেকে খালেরমুখ মাজার পর্যন্ত প্রায় ১২’শ গাছ কেটে ফেলার জন্য তাদেরকে গাছ চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বন সম্প্রসারণ নার্সারী শেখঘাট অফিসের প্লান্টেসন সহায়ক (পিএম) রুহুল আমিন ও আব্দুর রব জানান, ওই গাছগুলো চিহ্নিত করে তারা তালিকা তৈরি শেষে বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবেন। এরপর টেন্ডার হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই গাছগুলো কাটার কাজ শুরু হবে। তাঁরা বলেন, গাছগুলো পরিপক্ক, তাই এগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়া হবে। পাশাপাশি গাছগুলো কাটার পর প্রতি এক কিলোমিটার রাস্তার পাশে ১’হাজার গাছ লাগানো হবে। এভাবে আবারও রাস্তার দু’পাশে সমাজিক বনায়ন করা হবে।

সিলেট বন বিভাগের অফিস সহকারী আবুল হাসেম জানান, যে গাছগুলো পরিপক্ক হয়নি সেগুলো ও ছোট গাছগুলো কাটা হবেনা। কিছু গাছ পরিপক্ক হয়ে ফেটে যাচ্ছে। গাছগুলো এখন বিক্রির উপযোগী। তাই গাছ চিহ্নিত করা শেষে টেন্ডার কাজ শুরু হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে গাছ বিক্রি করা হবে। বিক্রি শেষে উপকারভোগী পাবেন ৫৫ ভাগ, সড়ক ও জনপদ পাবে ২০ ভাগ, বন বিভাগ পাবে ১০ ভাগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ পাবেন ৫ ভাগ এবং ট্রি ফার্মিং ফান্ড পাবে ১০ ভাগ। তিনি বলেন, যে গাছগুলো কাটা হবে এরমধ্যে আকাশি, রেইন্ট্রি, কড়ই, মন্ডিআম, অর্জুন, মেহগনী, শিশুসহ বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে। ওই গাছ কেটে আকাশমনী, রেইন্ট্রি, মেহগনী, জারুল, অর্জুন, কদম, গামার, বকাইনসহ বিভিন্ন জাতের সল্প মেয়াদী গাছ লাগানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছ কাটার পর বড় হতে নূন্যতম ১৫ থেকে ১৮ বছর লাগবে। পরিবেশ বিনষ্টের ব্যাপারে তিনি বলেন, আশপাশে বাড়ি-ঘর রয়েছে, এসব বাড়িতে গাছ লাগানো রয়েছে। তাছাড়া শতকরা পরিপক্ক ১ভাগ গাছ কাটা হবেনা। পাশাপাশি ছোট গাছও ওই রাস্তার দু’পাশে রয়েছে। তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তিনি।
জেলা বন ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সভাপতি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হলে বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, এক সাথে ১২’শ গাছ কাটা ঠিক হবেনা। এ বিষয়টি নিয়ে জেলা বন ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, যে গাছ বড় হতে ২২ বছর লেগেছে। সে গাছের পরিবর্তে যখন চাড়াগাছ রোপন করা হবে তখন চাড়াগাছ বড় হতে আরো ২২ বছর সময় লাগবে, তাই স্বাভাবিক। তাই একসাথে এত গাছ কারার কোনোযুক্তি নেই, সেজন্য প্রতিবছর গাছ লাগাতে হবে। প্রতিবছর কাটতে হবে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকেনা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’র (বাপা) সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম জেলা বন ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির একজন সদস্য। তিনি জানান, কমিটির সভায় উপস্থাপনের আগেই গাছ কাটার প্রস্তুতি আসলে বিস্ময়কর। এসব কারণেই বন বিভাগ এ কমিটির সভায় তাকে ডাকে না বলে জানিয়ে কিম বলেন, গাছ কাটার পক্ষে আমরা কখনই না। কারণ গাছ কাটলে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়। আর একসাথে এত গাছ কাটলে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখেই পড়বে।

IMG_5592

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: