সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাবিতে উপাচার্যের ‘পরিবারতন্ত্র’

sust5ডেইলি সিলেট ডেস্ক :: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভুইয়া’র উপাচার্য হিসেবে যোগদানের প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছোটবড় পদে নিজ পরিবারের আত্মীয় স্বজনদের চাকরি দিয়ে শাবিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চলছেন অধ্যাপক ড. আমিনুল হক। নীতিমালা লঙ্ঘন করে দুই চাচাতো ভাই, একজন মামাতো ভাই, ভাগ্নে ও নিকট আত্মীয়সহ মোট দশ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি গেস্ট হাউজ প্রধান (২য় শ্রেনীয় কর্মকর্তা) হিসেবে তার শ্যালককে নিয়োগ দিয়েছেন।

বর্তমান ভিসি দুর্নীতির দায়ে পদচ্যুত শাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সিনিয়র শিক্ষকরা।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্যালক হুমায়ুন কবীরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে সরকারী চাকরির নিয়মানুযায়ী শুন্যপদে আবেদনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর থাকলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটকে পাশ কাটিয়ে ৩০ বছরের বেশি বয়সী শ্যালককে নিয়োগ দেয়া হয়।

জানা যায়, একটি জাতীয় দৈনিকে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ উল্লেখ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে তা অবহিত না করেই একটি স্থানীয় দৈনিকে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৩০ উল্লেখ করে পুন:বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদনের জন্য ৯ দিনের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়।

এই নিয়োগ আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বাইরে থেকে অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকলেও তাদেরকে কার্ড ইষ্যু করা হয়নি।

সূত্রে আরো জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া ভিসির শ্যালকের স্থায়ী ঠিকানা নান্দাইল উপজেলার ধরগাও গ্রামে হলেও, কিশোরগঞ্জ জেলার (কিশোরগঞ্জ সদর,উকিলপাড়া, বাসা নম্বর ৭৯১) অস্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নিজ এলাকায় হুমায়ুন কবীর নামে পরিচিত থাকায় তার সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষক। নিয়োগ পাওয়ার পর আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে জাহাঙ্গীর আলমের জন্য গেস্ট হাউজে একটি অফিস করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে ভিসির চাচাতো ভাই মঞ্জুরুল আলমকে ভিসি দপ্তরে এমএলএস পদে এবং সফিকুর রহমান চঞ্চলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনস্থ ওসমানী মেডিকেল কলেজের ডিন অফিসের এমএলএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মামাতো ভাই মো. মারুফকে রেজিস্ট্রার, অফিসের স্ট্রোর কিপার পদে ভাগ্নে সালাউদ্দিনকে এবং ভগ্নিপতির চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনকে ঢাকা গেস্ট হাউজে এমএলএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মামাতো বোন সালমা খাতুনকে আয়া পদে নিয়োগের জন্য ভিসির বাংলোতে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও বাংলোতে মুন্নি ও মুনতাজ নামে দুই আয়া এবং রব্বানী নামে একজন বাবুর্চি রয়েছে।

শাবির অধীনে থাকা রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে একজন ও পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজে তিনজন নিকট আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সার্টিফিকেটের সত্যতা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর মুঠোফোনে জানান, তার ডাক নাম জাহাঙ্গীর আলম। প্রকৃত নাম হুমাযুন কবীর। সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ ১৯৮২ সাল। সেই হিসেবে নিয়োগের সময় তার বয়স ৩৪ বছর হওয়ার কথা।

২০০৬ সালে ঢাকার উত্তরা শাখার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন বলে তিনি জানান। তবে তার শিক্ষাবর্ষ এই মুহুর্ত মনে নেই বলে উল্লেখ করেন।

এবিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা মেনেই সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: