সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মাথা ন্যাড়া করতে চেয়েছিলাম’

unnamed (3)নিউজ ডেস্ক: মাথা ন্যাড়া করতে চেয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। সোমবার গভীর রাতে তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এমনটিই জানিয়েছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন : সন্ধ্যেয় গিয়েছিলাম চুল কাটাতে। এ শহরের যতগুলো সেলুনে এ অবধি গিয়েছি, সবগুলোই আমাকে ভীষণ ঠকিয়েছে। যে দাম লেখা থাকে মেনুতে, তার চেয়ে দ্বিগুণ দাম হাঁকে। ওরা কি সবার সঙ্গেই এমন করে?

আমার মনে হয় না। হয় আমাকে খুব বোকা ভাবে ওরা অথবা খুব ধনী ভাবে। ধনী ভাবার অবশ্য কোনো কারণ নেই। আমার বাইরের পোশাক-আশাক অতি সাধারণ। শাড়ি যদি না পরি, তবে ঘরে যে পোশাক পরে থাকি, সে পোশাক পরেই আমি বাইরে বেরোই। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করে পরার পাট চুকেছে আজ কুড়ি বছর।

আজ প্রচণ্ড গরমে একটা হালকা সাদা সার্ট আর একটা সুতির শর্টস পরে বেরিয়েছি। যা পরি কোনোটাই দামি কিছু নয়। শহরের যে দোকান থেকে আমি শার্ট, টিশার্ট, শর্টস, স্কার্ফ এসব কিনি, তার খোঁজ আমাকে দিয়েছিল আমার বাড়িতে বাসন মাজতো যে মুন্নি নামের মেয়েটি, সে।

ভারি সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পরতো মুন্নি। একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এগুলো কোত্থেকে কেনো তুমি? এ রকম আমিও কিনতে চাই। সে প্রবল উৎসাহে আমাকে একদিন নিয়ে গেল সরোজিনি মার্কেটের ভেতর একটা ফ্যাক্টরি আউটলেটের ঝুপড়ি দোকানে।

কোন কোন জামা আমাকে মানাবে, নিজেই পছন্দ করে দিল। দোকানিকেও বলে এলো আমাকে যেন এক্সপ্লয়েট না করে। কয়েক বছর আগের ঘটনা। সেই থেকে কাপড়-চোপড় কেনার দরকার হলে আমি ওই দোকানটাতেই যাই।

যা বলছিলাম, আমাকে দেখে ধনী মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ দামি পোশাক পরার অভ্যেস আমার নেই। তাহলে কী কারণে সেলুনের লোকরা আমার কাছ থেকে বেশি দাম নেয়!

নিশ্চয়ই আমাকে খুব বোকা ভাবে। শুধু সেলুনের নয়, আমাকে বোকা ভাবার লোক সংসারে অনেক। বড়লোকরা তো বোকা ভাবেই। ওরা আমার সঙ্গে মেশেও কম। নাম-টাম আছে এমন লোকও আমার সঙ্গে বিশেষ মেশে না।

হয়তো ভাবে, আমার সঙ্গে ওঠাবসা আছে জানলে অনেকে অনেক রকম অসুবিধে করবে ওদের।

শহরের যে কয়টা সেলুনে গিয়েছি, লক্ষ করেছি, সেলুনের লোকগুলো আমার সঙ্গে অনর্গল মিথ্যা কথা বলছে। আমার সেলুন ভাগ্য খুব খারাপ। অনেকটা আমার প্রেমিক ভাগ্যের মতো।

চুল মনে হচ্ছে ভালোই কেটেছে। আসলে আরো ছোট করতে চাইছিলাম চুল। আজ গরমে সারাদিন খুব হাঁসফাঁস করছিলাম। দুপুরের দিকে একবার মনে হচ্ছিল মাথা ন্যাড়া করে ফেলি। মাথার ওপর দুটো পাখা থাকা না থাকা সমান মনে হচ্ছিল।

এসিও ঘর ঠাণ্ডা করতে পারছিল না। সব দোষ গিয়ে পড়ছিল ওই চুলের ওপর। কোনো কেশবতী নই কিন্তু, ফিনফিনে ক’টা চুলই তো মাথায়। সন্ধ্যেয় গিয়ে ওই চুলগুলোকেই ঝেঁটিয়ে বিদেয় করতে বলি। অতঃপর এই হাল। দেখতে কেমন লাগছে? বালক বালক?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: