সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘পাস মার্ক পেলেই মেয়র’

5. dhaka cityডেইলি সিলেট ডেস্ক::
আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবে যে তরুণেরা, তাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। মোট ভোটারের ৩৩ শতাংশই এই তরুণেরা। আর এই ৩৩ শতাংশ ভোট জয় করতে পারলেই কিস্তি মাত। তাই এই পাস মার্কের জন্য উঠেপড়ে লে‌‌‌গেছেন মেয়র প্রার্থীরা। পাশাপাশি সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে ফেলতে পারে নারী ভোটাররাও। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে তরুণদের আকৃষ্ট করে পার পাওয়া গেলেও দক্ষিণে সে সুযোগ নেই। দক্ষিণে কেবল নারী ভোটারদের সিদ্ধান্তেই পাল্টে যেতে পারে জয় পরাজয়ের হিসাব। ভোটাররা একদিকে যেমন নতুনদের সুযোগ করে দিতে চান, তেমনি বিরোধী দল-সমর্থিত প্রার্থীরা আসলেই মেয়র হয়ে কোনও কাজ করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়েও চিন্তা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র, সে সিদ্ধান্তে আসতে নারী ও তরুণ ভোটাররাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুই সিটিতে মোট ভোটার ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৬ জন। দক্ষিণে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৯ হাজার ৭০ আর নারী ভোটার ৮ লাখ ৬১ হাজার ২৯৩ জন।

ঢাকা দক্ষিণে বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িতে-বাড়িতে ঢুকে নারীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সব প্রার্থীই নারী সমর্থকদের ব্যবহার করতে চাইছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ এলাকায় ১৮ লাখ ভোটারের মধ্যে ৮ লাখের ওপর নারী ভোটার। এর ৪৬ শতাংশ নারীই ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন।

দক্ষিণে মেয়র পদে দুই দলের বড় প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাঈদ খোকন ও বিএনপি-সমর্থিত মির্জা আব্বাস। তাদের মধ্যে সাঈদ খোকন প্রচারণা চালাতে পারলেও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েপড়া মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘৪৬ শতাংশ ভোটারের কাছে যদি বার্তা পৌঁছানো যায়, তাহলেই জয় সম্ভব। এই বড় অংশটাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আমরা।’

পশ্চিম ধানমণ্ড‌‌‌ির ভোটার সালেহা খাতুন, পেশায় দোকানদার। তিনি বলেন, ‘আমার এখানে চা খায়, নির্বাচনের আলাপ করে চলে যাই। আমার কাছে ভোট চায় নাই এখনও। ভাবছে খালায় এমতে দিব। দিব না।’ কেমন মেয়র চান, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে মেয়র হইলে দোকানের ভাড়া পুলিশরে দিতে হওন না, তারে চাই।’ অন্যদিকে ব্যাঙ্ক অফিসার নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘আমার মনে হয়, তরুণদের সুযোগ দেওয়া দরকার। তবে সেজন্য কেবল তরুণ হলেই হবে না, ইতোমধ্যে এলাকায় কাজ করেছেন, তেমন কাউকে দেখে-শুনে ভোট দেব।’ তিনি বলেন, ‘এ সময় আসলে বিরোধী দলের মেয়র নির্বাচিত হয়েও লাভ নেই। খুব বেশি কিছু সে দিতে পারবে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোট ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৭১ আর নারী ভোটার ১১ লাখ ২১ হাজার ৭৪২ জন। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরে মেজাজটা তরুণদের দিকে বেশি হলেও এখানে নারীদের একেবারেই হেলা করার সুযোগ নেই। তারা এ-ও বলছেন, নতুন ১৪ লাখ ভোটার মানে মোট ভোটারের ৩৩ ভাগই আসলে নির্ধারণ করে দেবে কে জিতবে।

আর তরুণদের আকৃষ্ট করতে তরুণদের মতো করেই ভাবছেন তরুণ থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সব মেয়রপ্রার্থীই। মিডিয়ার দৃষ্টিও উত্তরের দিকে সামান্য বেশি। কারণ এখন পর্যন্ত ভিন্নধারার নজরকাড়ার মতো করে প্রচারণা তারাই শুরু করেছেন। সাইকেল র‌্যালি, পথসভায় গান, রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া, দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়ে উদ্যোম প্রমাণের মতো।

কিন্তু ভোটাররা কি আদৌ এইসব কৌশল নিয়ে ভাবছেন? উত্তরের নারী ভোটাররা কী চান, জানতে চাইলে গার্মেন্টকর্মী রোকসানা বলেন, ‘আমরা যে ছোট ঘরে থাকি, তার ভাড়া দিতে হয় ৫ হাজার টাকা। এই ঘরেই একবছর আগে ছিলাম তিনহাজার দুইশ টাকায়। ভাড়া বিষয়ে যে আমাদের সহায়তা করবে, তারেই ভোট দেব। তবে টেলিভিশনে এক-দুজনের বেশি দেখায় না। তাই সবাইরে চিনিও না। আনিসুল হক আবাসনের ব্যবস্থা করে দেবেন জানালে, রোকসানার প্রতিবেশী যিনি এক বস্তিঘরেই থাকেন, সেই রুণা বলেন, ‘আমরা জানি কেউ কাউরে এমনি কিছু দেয় না। কোনও মেয়র আমাকে ঢাকায় থাকার জায়গা দেবে না। ভোট চাইতে কত কিসু কওয়া লাগে।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কাজীপাড়ার রিজওয়ানা হোসেইন বলেন, ‘আমি আনিসুল হককে ভোট দিতে চাই। তার একইসাথে অভিজ্ঞতা ও উদ্যোম দুই-ই দেখতে পাচ্ছি। তিনি মেয়র হলে কিছু করতে পারবেন। কারণ, তিনি সরকারি দলের। এরপর আর সবাই নানা দলের লোক। কারও কথা ভাবছি না।’

মিরপুর ১০ নম্বরে বসবাসরত স্কুল শিক্ষক সোহেলী পারভীন প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নতুনদের সুযোগ দেওয়া দরকার। শুরু থেকে ক্বাফি রতন (আব্দুল্লাগ আল ক্বাফি) নারীবান্ধব ঢাকা দিতে চেয়েছেন। সেইদিকটা মাথায় রাখছি। আরও কিছুদিন আছে। দেখা যাক কী হয়। তবে আনিসুল হকের কথা ভাবছি না এখনও।

কথা হয় কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। চায়ের দোকানে তারুণ্যেও ঝড় তুলে নির্বাচনি আলাপ তুলতে গিয়ে বেশিরভাগেরই পাল্লা আনিসুল হকের দিকে। কারণ তিনি ‘স্মার্ট’ ঢাকা দেবেন এই বিশ্বাস তরুণদের। যদিও তাদের পাশে বসে থাকা এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা তুলনামূলকভাবে তরুণ মেয়রদের পক্ষে কথা বলছেন।

পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে সেই তরুণদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নামা জোনায়েদ আব্দুর রহীম সাকির প্রতি তরুণ ভোটারদের আগ্রহ দেখা গেলেও এত বেশি প্রার্থীতে তরুণরা কিছুটা বিভ্রান্তও। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়েমা হক বলেন, ‘প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বিষয় ভালো লাগছে। জোনায়েদ সাকি সম্ভাবনাময়, কিন্তু ভোট কাকে দেব এখনও ঠিক করিনি।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, ‘এবার অনেক ধরনের প্রার্থী আসলেও সবার মধ্যে তরুণদের আকর্ষণ করার প্রবণতা আছে। ফলে তরুণদের ভোটটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তার মতে, ‘গ্রহণযোগ্য তরুণ নেতৃত্ব যত বেশি নির্বাচনে অংশ নেবে, ভোটের সংস্কৃতিতে তত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’

সূত্র : ট্রিবিউন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: