সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে ১১টি উপজেলায় মাদকের জমজমাট ব্যবসা : সরকারি নীতিমালা মানছেনা জেলার ৪টি দেশীয় মদের দোকান

daily sylhetSunamgonj madok newsআল-হেলাল, সুনামগঞ্জ::
নানান অনিয়মের মধ্যে দিয়ে চলছে সরকার অনুমোদিত জেলার চারটি দেশীয় মদের দোকান। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্ষা না করেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় তৈরী চোলাই মদ। পারমিট প্রাপ্তদের মধ্যে দেশীয় মদ বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় মদ। কোন কোন ক্ষেত্রে পানির সাথে নেশাঢল মিশিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ঐ সমস্ত মদ। দু’শ টাকা লিটারের মদ বিক্রি হচ্ছে ৪শ টাকায়। পারমিট প্রাপ্তদের অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন এ ব্যাবসায়। প্রতি মাসে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অবৈধ ব্যাবসায় সহযোগীতা করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিস সুনামগঞ্জের পরিদর্শক মোঃ এমাদ উল্লাহ। জেলার ৪টি মদের দোকান ও শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নিকট হতে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করছেন তিনি। শহরের কালীবাড়িস্থ সার্কেল পরিদর্শকের কার্যালয়ে একাধিক বার সরজমিনে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রোববার দুপুরে শহরের কালীবাড়িস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসকক্ষে গিয়ে দেখা হয় এ এস আই রবি উল¬াহ ও সিপাই সাইফুুল ইসলামের সাথে। তাদের কাছে তথ্য জানতে চাইলে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তারা বলেন, পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া তথ্য দেয়া যাবেনা। তিনি কোথায় জানতে চাইলে রবি উল্লাহ বলেন, তিনি একটু আগে বাহিরে গেছেন। জেলার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে অভিনব কৌশলে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা আদায় করছেন এ পরিদর্শক ।

জেলার চারটি দেশীয় মদের দোকান হলো সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বাজারের গোপাল সাহা’র দোকান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জানান, শহরে প্রায় ৫০০ পারমিটধারী সেবনকারী রয়েছে তাদের। পানি মেশানো ও চড়ামূল্যে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এছাড়াও শহরের উত্তমলাল কলোনীতে গড়ে উঠেছে ১০ মিনি পাট্টা। সন্ধ্যার পর কলোনী সংলগ্ন দোকানগুলো থেকে অনায়াসে পাওয়া যায় দেশীয় মদ। ছাতক উপজেলার কালিবাড়ি এলাকায় দেশীয় মদের দোকান পরিচালনা করেন জনৈক স্বরাজ কুমার দাস ও ফরিদ আহমদ।
এ উপজেলায় পারমিট প্রাপ্ত হচ্ছে রেল কলোনীসহ ১৬০ জন মাদকসেবী। স্বরাজ কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ক্রয় করার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার খরচসহ ২০০ টাকার উপরে। তাই আমাদেরকে বিক্রি করতে হয় চারশ টাকায়। প্রতি মাসে ৮শ লিটার মদ চলে। ছাতকের বাজারে ভারতীয় মদের সয়লাব যার কারণে কম চলে।
পানি মেশানো ও অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন,পানি মিশিয়ে পড়তায় পুষাইয়া বিক্রি করতে হয়, আর পারমিট প্রাপ্তদের ছাড়া মদ বিক্রির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

পরিদর্শকের উৎকোচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, এসব মাইতা লাভ নাই, বাদ দেন। জগন্নাথপুর উপজেলায় দেশীয় মদের দোকান পরিচালনা করছেন সুভাষ বাবু।
এ ব্যবসায়ীর কর্মচারী জিতেন বাবু জানান, উপজেলার পারমিট প্রাপ্ত প্রায় ৩০০ জনের কাছে মদ বিক্রি হয়। পানি মিশিয়ে চড়াদামে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
দিরাই উপজেলার হারানপুরে দেশীয় মদের দোকান পরিচালনা করছেন নিরু সাহা। পারমিটধারী ৫৬০ জনের মধ্যে বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে অবাধে।
নিরু সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একজন পারমিটধারী ৭ লিটার নিতে পারে আমরা এর বাহিরে দেইনা। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়ায় বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবক ও তরুন সমাজ। আর এসব নেশার টাকা যোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলার শতাধিক স্পটে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। স্পটগুলোতে সহজেই পাওয়া যায় ভারতীয় মদ, গাঁজা ও নাসির বিড়ি। এ সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন এমদাদ উল¬াহ ও তার সহযোগীরা।

স্পটগুলো হচ্ছে- জামালগঞ্জ উপজেলার মান্নানঘাট,সাচনা বাজার,বেহেলী রোড,সিএন্ড বি রোড, রামনগর, নোয়াগাঁওবাজার, গজারিয়া, কালিপুর। তাহিরপুর উপজেলার-সদর, ভাটি তাহিরপুর, কাউকান্দিবাজার, শিমুলতলা, কামড়াবন্দ পয়েন্ট, বাদাঘাট বাজার। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর, গামারিতলা, শরিফপুর চিনাকান্দিবাজার, জিগাতলা, মথুরকান্দি, রতারগাঁও, পশ্চিম ডলুরা, রাধানগর, খিদিরপুর। সদর উপজেলার-পৌর এলাকার উত্তম লাল কলোনী, ষোলঘর, নবীনগর, বড়পাড়া, মাইজবাড়ি, লাম্বাহাটি, তেঘরিয়া, সাহেববাড়িঘাট, আরপিননগর, ডলুরা, ভাদেরটেক, গুচ্ছগ্রাম, কামারভিটা, মঙ্গলকাটা, গৌরারং ইউনিয়নের, টুকেরবাজার, ফতেহপুর, জয়নগর বাজার, ধনপুর, সরদারপুর, মোহনপুর। সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর আমপাড়া, সৈয়দপুর, বনগাঁও, চিনাউড়া, শারপিন টিলা,সৈয়দপুর। দিরাই উপজেলার উজানধল, টানাখালী, মজলিশপুর, হারানপুর, আখড়া, বাস-টার্মিনাল, মাছ বাজার। জগন্নাথপুর উপজেলার-রানীগঞ্জ বাজার,ইকড়ছই,ভবের বাজার,ইসহাকপুর। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার-পাগলা বাজার মসজিদের গলি,কান্দিগাঁও,পুরাতন মসজিদের সংলগ্ন এলাকা। ছাতক উপজেলার-ছাতক বাজার,জাওয়া বাজার,গৌবিন্দগঞ্জ,বাংলা বাজার, দোয়ারা বাজার উপজেলার বোগলা বাজার, মাটগাঁও, হরিণাপাটি, আমবাড়ি বাজার, শ্রীপুর পান্ডারগাঁও। ধর্মপাশা উপজেলার – মধ্যনগর বাজার,হামিদপুর চৌরাস্তা,মির্জাপুর,দক্ষিণ উড়া,বাট্টা,মহেশখলা,কার্তিকপুর,বাঙ্গাল ভিটা,সাউদপাড়া,বংশীকুন্ডা। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর চেয়ারম্যানবৃন্দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস কর্তৃক উপজেলাগুলোতে কোন তৎপরতা নেই। এমনকি এ অফিসের পরিদর্শককে কেউ চেনেওনা।

এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিস সুনামগঞ্জের পরিদর্শক মোঃ এমদাদ উল¬াহ উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যেখানে অবৈধভাবে মাদক বিক্রি হচ্ছে সেখানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, দেশীয় মদের দোকনগুলোর অনিয়ম রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের। তাদের আরো আন্তরিক হওয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানান,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসকে আরো কঠোর হতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করব।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: