সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অটিজম-সচেতনতা শিশুকে সম্পদে পরিণত করবে

autism4444ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বছরকয়েক ধরে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আন্দোলন চলছে। কেনো অটিজম হয়, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্যে করণীয় কী প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিদিনই নানামুখী প্রচার-প্রচারণা চলছে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে। এতে কিছুটা ফল এসেছে। তবে, এখনও কাঙ্খিত ফল আসেনি। এর পেছনে অশিক্ষা, কুসংস্কার, দারিদ্র্য সহ অনেক গুলো কারণ আছে। তবে, এসব কারণ অপনোদন করে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন করা গেলে এ বিষয়ে বিষ্ময়কর সাফল্য আসবে। তখন সবার অংশগ্রহণে দেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে এগিয়ে যাবে।

‘অটিজম’, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় নিজের মধ্যে মগ্ন ব্যক্তি। অর্থাৎ যে ব্যক্তি একা একা নিজের মনে, নিজের জগতে বিচরণ করে, নিজের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কারো সঙ্গে শেয়ার করে না। তাদের চলাফেরায় এক ধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। তবে এটি কোনো বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা মস্তিষ্কের একটি স্নায়বিক সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। অটিজম কেন হয় তার সঠিক একক কারণ অদ্যাবধি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে অটিজম বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কয়েকটি কারণকে যথা- মস্তিষ্কের কোনোরূপ গঠনগত ক্ষতি, অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়া, শরীরে নিউরো কেমিক্যাল ক্রিয়ার অসামঞ্জস্যতা, শিশুর জন্মপূর্ব বা জন্মের পরবর্তীকালে কোনো সংক্রমণ, ক্রোমোজমগত অস্বাভাবিকতা, শিশুকালীন টিকা, বিশেষ করে এমএমআর, জন্মের সময় শিশুর অক্সিজেনের অভাব, শিশুর কোনো কারণে খিঁচুনি হলে, প্রসবকালে সিন্টাসিনন ড্রিপ ব্যবহার কিংবা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকে দায়ী করে থাকেন। কোনো কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানী আবার বয়স্ক মা-বাবাকে অটিজম হওয়ার জন্য দায়ী মনে করেন। কারণ বেশি বয়স্ক স্পার্ম দিয়ে মিউটেশন কঠিন হয়।

সর্বশেষ আদমশুমারি মতে, দেশে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো দেশের মোট প্রতিবন্ধিতার ১ শতাংশকে অটিজমের শিকার বলে ধরে নেওয়া হয়। এই উপাত্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা হতে পারে দেড় লাখ। অন্য এক তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি ৫০০ জনে একজনকে অটিস্টিক শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে দেশে আড়াই লাখ শিশু অটিস্টিক। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজমের শিকার। দুই বছর আগেও প্রতি ৮৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত হতো। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে অটিজমের ব্যাপ্তি বেড়ে গেছে ৩০ শতাংশ। আবার মেয়েশিশুর চেয়ে ছেলেশিশুর অটিজমে আক্রান্তের প্রবণতা অনেক বেশি, যা প্রায় সাড়ে চার গুণ। ছেলেদের মধ্যে প্রতি ৪২ জনে একজন এবং মেয়েদের মধ্যে প্রতি ১৮৯ জনে একজন অটিজমে আক্রান্ত।

চিকিৎকদের মতে, মাতৃগর্ভ থেকে শিশুর জন্ম পর্যন্ত কোনো পর্যায়ে শিশুর মস্তিষ্ক ঠিকমতো বিকশিত না হলে অটিজমে আক্রান্ত হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জন্মের তিন বছরের মধ্যে তা প্রকাশ পায়। অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশকে নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তাদের অধিকাংশ স্কুলে স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারে। কিছুসংখ্যক শিশুর জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত স্কুল। বাদবাকি প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও স্বাধীনভাবে বা এককভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারে না, তাদের অন্যের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। তাই এ ব্যাপারে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা প্রদান ও বিশেষায়িত স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

অটিজমের রাতরাতি কোনো জাদুকরী পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে নিবিড় পরিচর্যায় অস্বাভাবিক আচরণের এসব শিশু সমাজের মূলধারায় ফিরতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটি শিক্ষালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব শিশু আলাদা পরিবেশে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারে না। এরা স্বাভাবিক শিশুর মতো মানসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না। তবে, যে হারে অটিজমের সংখ্যা বাড়ছে, সেই অনুপাতে তাদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা নেই দেশে। এই শিশুদের জন্যে স্কুল ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। মফস্বল শহরগুলোতে এই শিশুদের শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। তা ছাড়া এই স্কুলগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ব্যয়বহুল। তাদের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দরকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিশুর জন্য তিনজন শিক্ষক ও আয়াকে নিয়োজিত রাখতে হয়। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা থাকা উচিত। আবার যেহেতু গর্ভকালীন মায়েদের ভাইরাস জ্বর, জন্মের সময় শিশুর অক্সিজেনের অভাব, পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ এবং বংশগত কারণ এ রোগের মূলে রয়েছে, সেহেতু এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগও থাকতে হবে।

আমাদের সবারই মনে রাখতে হবে, অটিজমে আক্রান্ত কোমলমতি শিশুর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হলে তারাও হতে পারে সমাজের মূল্যবান সম্পদ। আলবার্ট আইনস্টাইন, ডারউইন, নিউটন, উইলিয়াম বার্টলার ইয়েটস ও স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্বের বহু বিখ্যাত ব্যক্তি জš§গতভাবেই ছিলেন অটিস্টিক। কিন্তু তাঁদের মেধা বিকাশে অটিজম কোনো বাধা হতে পারেনি। প্রতিবন্ধীরা আমাদের বোঝা নয়, সম্পদ। তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হলে তারা তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে সমাজে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। অবহেলার চোখে না দেখে সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করলে তারা কারো বোঝা না হয়ে দেশ-উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার হতে পারবে। এতে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: