সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আগুনের জলপ্রপাত! (ভিডিওসহ)

15. jolpropatরকমারি ডেস্ক::
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি এই অগ্নি জলপ্রপাত ইয়সমিত এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনোরম দৃশ্য। ঝরনাটির নাম হল “হরসেটাইল ঝরনা”। ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সূর্যের আলো জলপ্রপাত এর উপর ডান কোণ বরাবর সূর্যালোক পতিত হয়। এর ফলে ঝরনাটিকে কমলা রংয়ের দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করে। ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে অনেক পর্যটক এই আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখার জন্য একত্রিত হন। কিন্তু ইয়সমিত এর হরসেটাইল ঝরনা একটু খুঁতখুঁতে ধরনের। এই ঝরনাটি ইয়সমিত ভেলির বিভিন্ন স্থান থেকে সরাসরি দেখা যায়। যে পর্যন্ত সূর্যালোক সঠিকভাবে ঝরনার পানির উপর পতিত না হবে, সে পর্যন্ত সেই মনোরম দৃশ্যটি দেখা যাবে না।

প্রথম শর্ত হল, জলপ্রপাতটি অবশ্যই প্রজ্বলিত হতে হবে। ঝরনাটি ১,৫৭০ ফুট উচু থেকে এল কেপিটান এর পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। সেখানকার তাপমাত্রা অবশ্যই অনেক উষ্ণ হতে হবে। তাপমাত্রা ঠাণ্ডা থাকলে বরফ গলবে না এবং ঝরনায় পানি প্রবাহিত হবে না। শরৎকালে সেখানে কোন পানি প্রবাহিত হয় না। অক্টোবর মাসে আবার একই কোণে সূর্যালোক পতিত হবার কারনে ফেব্রুয়ারী মাসের মতই অগ্নি ঝরনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু অক্টোবর মাসের বেশীরভাগ সময় হরসেটাইল ঝরনা শুকনো অবস্থায় থাকে।

দ্বিতীয়ত, সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হতে হবে। যদি সেখানে বরফ পড়তে থাকে, বৃষ্টি হতে থাকে বা আকাশ মেঘলা থাকে তাহলে হরসেটাইল ঝরনার পানি আলোকিত হবে না এবং সে দৃশ্যও দেখা যাবে না। তাই, সূর্যাস্তের সময় অবশ্যই আকাশ পরিষ্কার হতে হবে।

যদি শর্তমতে, সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে হরসেটাইল ঝরনাটির লাল বর্ণ ধারণ করা দেখা যাবে। প্রায় ১০মিনিট সময় ধরে ঝরনার রং গাড় লাল রং ধারণ করে, মনে হয় যেন আগুন ঝরছে। তখন এই প্রাকৃতিক দৃশ্যটি সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই ঝরনাটি তথ্যে সমৃদ্ধ নয়। সেখানে প্রায় ১০০ বছর ধরে মানুষ বসবাস করছেন। তন্মদ্ধে ইন্ডিয়ানদের সংখ্যা বেশী। তারা এই ঝরনার অস্তিত্ব অনেক আগে থেকেই জানত। কিন্তু তারা এ সম্পর্কে কোন তথ্য কোনদিন কারও সাথে শেয়ার করে নি। ১৮৫১ সালে প্রথম সাদা অভিযাত্রীদের দল এই ঝরনার সম্পর্কে জানতে পারেন। এই বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঝরনার কথা তখন প্রচণ্ডভাবে উন্নীত করা হয়। জন মুর যে এই ঝরনা সম্পর্কে সকলকে জানান। তিনি এর আগুনের ন্যায় প্রবাহিত স্রোতের কথা কোথাও উল্লেখ করেন নি। ১৯৭৩ সালে আলোকচিত্রি গেলেন রয়েল ব্যাপকভাবে এর আলোকচিত্রি প্রদর্শন করে এ স্থানের খ্যাতি বৃদ্ধি করেন। সেখানের আকর্ষণীয় সব চিত্রের কারনে মানুষ সেখানে ভ্রমনের উদ্বেগ নেন। এখন, সেই স্থানটি এক বিশাল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: