সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘প্লিজ, আমার ফ্যামিলিকে টানবেন না’

full_1509040472_1429429118খেলাধুলা ডেস্ক: গত পরশু পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১৩২ রানের ইনিংসটির চেয়ে সেঞ্চুরির পর তাঁর উদ্‌যাপনও কম আলোচিত নয়। তাঁর আগের দুটি আলোচিত উদ্‌যাপন এবং নিজের ইনিংস ও সিরিজ নিয়ে তামিম ইকবাল কাল কথা বললেন-

জয়ের আনন্দ
এই অনুভূতির তুলনা হয় না। ষোলো বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়। এর আগে জিততে জিততেও পারিনি। আমাদের মধ্যেও কথা হতো, এটা কী হচ্ছে! আমরা ৫০০ করলেও যেন ওরা ঠিকই তা করে ফেলবে। ওরা ৫০ করলেও আমরা জিততে পারব না। যাক, শেষ পর্যন্ত জিতলাম। সাকিব যে বলেছিল, এই সিরিজে আমরা ফেবারিট, সেটি কিন্তু এমনিতেই বলেনি। আমাদের সবার মধ্যে এবার সেই বিশ্বাসটা ছিল। প্র্যাকটিস ম্যাচে ওরা হেরে যাওয়ার পর সেটি আরও বেড়েছে। তবে প্রথম ম্যাচে জিতেছি মানে এই নয় যে, পাকিস্তান খারাপ দল। সিরিজ জিততে হলে আমাদের ভালো খেলতে হবে।

নিজের ইনিংস
আমার ভালো ইনিংসগুলোর একটি। প্রচণ্ড চাপে ছিলাম। এমনিতে একটা সিরিজের আগে কীভাবে খেলব, এ ব্যাপারে একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। এবার একটু এলোমেলো ছিলাম। কারণ তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচের কোনোটিতে ১৫-এর বেশি রান করতে পারিনি। কাল (পরশু) ব্যাটিং করতে নামার সময় শুধু নিজেকে বলছিলাম, পজিটিভ থাকার চেষ্টা করো। প্রথম ১০ ওভারে আমি খুব ভালো খেলেছি, ওটাই আমাকে বড় ইনিংস খেলার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

আজমলকে জয়
ভালো লাগার মতো শট বেশ কয়েকটা আছে। তবে সাঈদ আজমলের মতো বোলারদের বিপক্ষে রান করতে পারলে সব সময়ই তা একটু বেশি ভালো লাগে। ওকে আমি আগেও খেলেছি, তবে এত বল খেলিনি। ওর যে ওভারটিতে দুটি চার আর একটি ছয় মারলাম, ওই ওভারটাই আমার কাছে বিশেষ হয়ে আছে। আজমল এদিন ভালো করেনি সত্যি, তবে শুধু এদিনের বোলিং দিয়ে ওকে বিচার করা ঠিক হবে না। উইকেটে একটু টার্ন থাকলে ও ঠিকই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর ব্যাট ফেলে-গ্লাভস খুলে মাথার ওপর দুই হাত তুলে কথা বলার ভঙ্গি করলেন- “আমি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বড় ফ্যান। ও গোল করার পর প্রায়ই এভাবে উদ্‌যাপন করে। আমিও ওর মতোই করলাম, কারণ গত কিছুদিন আমাকে নিয়ে খুব বেশি কথা হয়েছে। সমালোচনায় আমার আপত্তি নেই। খারাপ খেললে সমালোচনা হবে, এটা তো আমি জানিই। কিন্তু এটা যখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। আপনিই বলুন, আমি খারাপ খেললে আমার ফ্যামিলি কেন কথা শুনবে? রাতে আমার স্ত্রীকে ফোন করে কেন কেউ গালাগালি করবে? সবাইকে আমি একটা অনুরোধই করব, খারাপ খেললে সমালোচনা করেন ঠিক আছে, কিন্তু প্লিজ, এর মধ্যে আমার ফ্যামিলিকে টানবেন না। যতটা রাগ থেকে করেছি, তার চেয়ে বেশি হতাশা থেকে।

২০১২ এশিয়া কাপে টানা চার ফিফটির পর এক-দুই করে হাতের চার আঙুল দেখালেন। সে সময়ের বোর্ড সভাপতি মুস্তফা কামাল প্রথমে দল থেকে তাঁকে বাদ দিয়েছিলেন বলে এটি তার উদ্দেশে বলেই ধরে নিয়েছিলেন সবাই- “টানা চার ফিফটির পর আমার ওই উদ্‌যাপনের একটা অর্থই করে নিয়েছে সবাই। তবে সেটি ঠিক নয়। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, আমি কিন্তু এক-দুই-তিন-চার করে আঙুল কোনো ব্যক্তিকে দেখাইনি। আমার টিমমেটদের বলতে চেয়েছি, ‘দেখো, আমি টানা চারটি ফিফটি করেছি।’ পরিস্থিতিটা এমন ছিল যে সবাই ভেবেছে আমি বোধ হয় তা অন্য কাউকে দেখিয়েছি। তা-ই যদি হতো, আমি ড্রেসিংরুমের ওপরের দিকে দেখাতাম। মনে করে দেখুন, আমি কিন্তু ড্রেসিংরুমের দিকেই দেখিয়েছি।

দৌড়ে গিয়ে একটা লাফ দিলেন। তারপর কয়েকবার জার্সির পেছন দিকে হাত দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে দেখালেন- “প্রথম ইনিংসে ৫৫ করে রানআউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফিরে আমি অ্যাটেনডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘শুধু সেঞ্চুরি করলেই কেন অনার্স বোর্ডে নাম লেখা হবে? ফিফটির জন্যও একটা থাকা উচিত।’ বয়স্ক ওই ভদ্রলোক জবাব দিলেন, ‘অনার্স বোর্ডে নাম লেখাতে সেঞ্চুরিই করতে হবে।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, আমি সেঞ্চুরিই করব।’ দ্বিতীয় ইনিংসে তা করার পর আনন্দে দৌড়ে গিয়ে একটা লাফ দিলাম। তখনই মনে পড়ল অনার্স বোর্ডের কথা। জার্সির পেছনে হাত দিয়ে তাই বোঝালাম, এবার ওখানে আমার নামটা লেখো।

সূত্র: প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: