সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

২২দিন পর উদ্ধার : শিশু ইমনের কঙ্কাল দেখে কাঁদলেন ছাতকবাসী

9. imonডেইলি সিলেট ডেস্ক::
অপহরণের ২২ দিন পর উদ্ধার হলো শিশু ইমনের মস্তক বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল। স্বজনদের স্বান্তনা দিতে এসে গ্রামের লোকজন ও উপস্থিত সকলকে অশ্রসিক্ত করেছে এ ঘটনা। শিশু ইমনের জন্য কাঁদলেন গ্রামের লোকজনসহ দূর থেকে আগত লোকজন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘাতকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বজনদের নিয়ে হাওরের একটি ধানী জমি থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা কঙ্কাল উদ্ধার করে ছাতক থানা পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারকালে ছুঁটে যান গ্রামের লোকজন।

কঙ্কাল দেখে স্বজনদের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামবাসী। আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে বাতিরকান্দি হাওরের বাতাস। নিহত শিশু মোস্তাফিজুর রহমান ইমন ছাতক উপজেলার বাতিরকান্দি গ্রামের জহুর আলীর ছেলে এবং ছাতক লাফার্জ কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

গত ২৭ মার্চ বিকেলে ইমনকে অপহরণ করে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন ও তার দুই সহযোগী। বিষ খাইয়ে, গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর শিশুটির লাশ হাওরের একটি ধানী জমিতে রেখে দেয় ঘাতকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এতোদিনে জীবজন্তুরা টেনে হিঁচড়ে মৃতদেহটি ক্ষত-বিক্ষত করে। হাড় থেকে খসে পড়েছে মাংস। বিচ্ছিন্ন করা মস্তক। আর দেহ হয়েছে কঙ্কালসার। বড়ই মর্মান্তিক এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেই অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের দেখানো মতে বাতিরকান্দি হাওরে এক জমি থেকে শিশু ইমনের মস্তক বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ইমনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা জহুর আলী বাদি হয়ে তিন জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এরপর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টায় সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে সুয়েবুর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করা হলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। পরবর্তীতে তার সহযোগী একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৭) ও জাহেদকে (২৭) আটক করে পুলিশ।

বুধবার সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামকান্তি সিনহা দ্বিতীয় দফায় তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের দেওয়া তথ্যে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন অর্থের লোভে পড়ে ইমনকে প্রথমে অপহরণ করে ও পরে সহযোগীদের নিয়ে তাকে খুন করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর পরই সে প্রতিনিয়ত অবস্থান পাল্টাত। সে ইমনের পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের ২০-৩০ হাজার টাকাও নিয়েছিল। আরও নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: