সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফুড সাপ্লিমেন্টারি ঔষধে সয়লাব বড়লেখার প্রত্যন্ত অঞ্চল

daily-sylhet-barlekha-news1বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ফুড সাপ্লিমেন্টারি আর ভেজাল ও নকল ঔষধে সয়লাব হয়ে গেছে। পৌর শহরসহ প্রতিটি হাট-বাজারের অধিকাংশ ঔষধের দোকানে অধিক মুনাফার লোভে ফুড সাপ্লিমেন্টারি, ভেজাল ও নিুমানের ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। এগুলো বন্ধের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অধিদপ্তর উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ঔষধ, নিম্নমানের ভেজাল ঔষধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্টারি (পট/ডিবি, কৌটা/পাতা কোম্পানীর) বিতর্কিত মেডিসিন আইটেমে বাজার ছেয়ে গেলেও প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কঠোর বলে তাদের দাবি। কিন্তু প্রভাবশালী ঔষধের দোকান মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঠেকাতে পারছেন না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঔষধ ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন। ক্রেতাদের ঠকিয়ে ঔষধ কোম্পানী এবং বিক্রেতাদের উপরি কামাই বেশ জমজমাট।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় নতুন স্থাপিত মৌলভীবাজার ড্রাগ অফিসে জনবল মাত্র ২জন। জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলার দু’শতাধিক ছোট-বড় হাট-বাজার রয়েছে। জেলায় অন্তত ৩ হাজার ঔষধের দোকান থাকলেও লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৩০৭টির। ঔষধ বিক্রয়ের লাইসেন্স, ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানীর ঔষধ উৎপাদনের কাঁচামালের ছাড়পত্র, ঔষধের মান নিয়ন্ত্র¿ণ এবং ঔষধের এমএফজি (ম্যানুফেকচারিং ডেট ও লাইসেন্স) ডিএআর (ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজি:) এমআরপি (মেক্সিমাম রিটেইলার প্রাইজ) সহ ঔষধের ৬টি দিক নিয়ন্ত্রণ করা হয় ঔষধ প্রশাসনের হেড অফিস ঢাকার মাধ্যমে। সে ক্ষেত্রে জেলা অফিস লোকাল মার্কেটগুলো পরিদর্শনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফার্মেসি লাইসেন্স পেতে হলে জাতীয়তা ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি, ট্রেজারি চালান, প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং ফার্মাসিস্টসহ ২টি আবেদন ফরম পূরণ করার বিধান রয়েছে। প্রতিটি ফার্মেসির অবশ্যই একজন করে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ওই ঔষধের বিক্রয় নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু এসব বিধি অনেকাংশে মানা হয় না। ফার্মাসিস্ট প্রেসক্রিপশন পড়বে এবং ঔষধ নিশ্চিত হওয়া, সেবনবিধি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া এবং প্রাথমিক ধারণা থাকবে ঔষধের গ্রুপ জানার জন্য।
সে ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্ট হতে হলে নূন্যতম এসএসসি পাস এবং বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে সনদপ্রাপ্ত হতে হবে। সেই সাথে উক্ত লাইসেন্সটি প্রতি দু’বছরান্তেনবায়ন করার শর্ত রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি ফার্মেসিতে ১জন ফার্মাসিস্ট বাধ্যতামূলক হলেও সিংহভাগ ফার্মেসিতে নেই এবং যেসব ফার্মেসিতে ফার্মেসিস্ট রয়েছে দাবি করা হয় এসবের বেশিরভাগ সনদপত্রবিহীন। এমনকি অনেকে জানেই না যে, ফার্মাসিস্ট সনদপত্র থাকতে হবে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফার্মেসিগুলোতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। এসব বিষয়ে কতিপয় দোকান মালিক ড্রাগ অফিসের ঢিলেমী এবং দুর্নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেন। তবে অনেকেই জানেন না মৌলভীবাজারে ড্রাগ অফিস গত বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যান্য অফিসের ন্যায় এখানে লাইসেন্স নবায়ন করতে কোনো টাকা লাগে না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ফার্মেসি লাইসেন্স পেতে হলে নির্ধারিত সরকারি ফি জেলা শহরে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপজেলার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা। পৌর শহরের এক ফার্মেসি মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নামিদামি চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ফুড সাপ্লিমেন্টারি লেখা থাকে। আর সেগুলো না থাকলে গ্রাহকরা চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ফুড সাপ্লিমেন্টারি দোকানে রাখতে হয়। চিকিৎসকরা টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থাপত্রে ফুড সাপ্লিমেন্টারি দিয়ে থাকেন। তবে ঔষধ কোম্পানী যাতে মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন করে তা নিশ্চিত করা উচিত। আর সব ঔষধের দোকানে ঔষধ বিক্রির পূর্বশর্ত মেনে ড্রাগ লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, লাইসেন্সবিহীন দোকানের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টমহল মনে করেন।

ভোক্তাসহ ব্যবসায়ীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা অধিদফতরের অফিস তদারকি করলে জনগণ মানসম্মত ঔষধ পাবে। কমবে ভেজাল ঔষধ বিক্রির প্রবণতা। আর কোম্পানীগুলোও মানসম্মত ঔষধ তৈরি করবে। রোগীরা এসব ঔষধ খেয়ে উপকৃত হবে। কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক মছনু জানান, ফুড সাপ্লিমেন্টারি এটা কোনো ঔষধ নয়। এটা যদি কেউ বিক্রি করে থাকে, প্রশাসনিকভাবে এদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার জন্য আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। মৌলভীবাজারের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক ফখরুল ইসলাম জানান, ফুড সাপ্লিমেন্টারি, ভেজাল ও নকল ঔষধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারাই অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: