সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নববর্ষে ছাত্রলীগের বস্ত্রহরণ উৎসবে সহযোগির ভূমিকায় পুলিশ ও মিডিয়া

2. TSCশিশির আব্দুল্লাহ::
একটি মেয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল দু’টি ছেলে। তাদের একজন মেয়েটিকে লক্ষ্য করে বলল, ‘দেখছোস দোস্ত? সেইরকম কিন্তু!’ বন্ধুর আশকারা পেয়ে দ্বিতীয়জনও ছুঁড়ে দিল গানের কলি, ‘পড়ে না চোখের পলক…!’ উপরের এই দৃশ্য তেমন আপত্তিকর কিছু নয়। এমনকি, অনেক টিনএইজ মেয়ে আছে যারা এই ধরনের কথাবার্তাকে কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নেয়। কিন্তু আমরা ওই দুটো ছেলের আচরণকে কী হিসেবে ব্যাখ্যা করি? বখাটেপনা। মানে, মেয়েদের সাথে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অল্পস্বল্প কথাবার্তা।

আর যদি ছেলে দুটি উপরের কথাবর্তাগুলো বলে অথবা না বলে মেয়েটির ওড়নাটা টান দিয়ে ফেলে দিত বা নিয়ে যেত তাহলে আমরা তাদের আচরণকে ব্যাখ্যা করতাম ‘শ্লীলতাহানি’ হিসেবে। ওরা মেয়েটির শ্লীলতাহানি করেছে। আবার, যদি ওরা ওড়না টান দেয়ার পর মেয়েটির গায়ের দু/চার জায়গায় হাত দিত (মারধরের উদ্দেশ্যে নয়) তাহলে অতটুকু ঘটনাকেই আমার ‘যৌন নিপীড়ন’ হিসেবে আখ্যা দিতাম। এবার আসেন আমরা এ গুচ্ছ দৃশ্য খেয়াল করি।

২. একটা জাতির সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি চলছে। নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ-ধার্মিক-বিধর্মী সবাই স্বাধীনভাবে জড়ো হয়েছে আড্ডা-ফুর্তি করতে। তখনকার কিছু দৃশ্য বর্ণনা করা হবে এখানে ‘ডেইলি স্টার’ থেকে “ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী ডেইলি স্টার’কে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে একদল যুবক ২৫ বছরের এক মহিলার শরীরের প্রায় সব কাপড় খুলে ছিড়ে ফেলে। এই মহিলাকে উদ্ধার করার সাথে সাথেই দেখি, বেশ কয়েকজন যুবক স্বামী এবং শিশু সন্তানের সামনেই আরেকজন মহিলার ওপর হামলে পড়েছে। আমার তাকেও উদ্ধার করতে যাওয়ায় হামলার শিকার হই। হামলায় নন্দীর ডান হাত ভেঙ্গে যায়।

হামলায় আঙ্গুল ভেঙে যাওয়া সংগঠনটির আরেক কর্মী অমিত দে বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীল সদস্যরা তখন দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তিনি বলেন, মাত্র ২০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কাছে আসরা সাহায্য চাইলাম তখন তারা জবাবে বললেন, ওই এলাকা আমাদের দায়িত্বে নয়। অমিতসহ আরো পাঁচজন কর্মী মিলে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী কয়েকজন নারীকে বখাটে যুবকদের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। তিনি জানান, যুবকরা ১০/১২ জনের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। চারদিকে ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজের কারণে আক্রান্তদের চিৎকার শোনার কোনো উপায় ছিল না। এসময় তারা ১০ বছরের একটি মেয়েকে উদ্ধার করেন। অমতি বলেন, মেয়েটির কাপড় ছিন্নবিচ্ছিন্ন ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ের চিহৃ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। সে মারাত্মকভাবে আহত ছিল। মা আর ভাইয়ের সাথে এসেছিল মেয়েটি। (যুবকদের) এক গ্রুপ তার ভাইকে পিটায় আর অন্য গ্রুপ মাকে ধরে অন্যদিকে নিয়ে যায়। অমিত এবং মাসুদ নামে আরেক কর্মী জানান, তারা দুস্কৃতিকারীদের পাঁচজনকে ধরে পুলিশের কাছে দেন। কিন্তু দু’ঘন্টা পর খোঁজ নিয়ে জানেন ওদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক পাঁচজনের ২জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।” উপরের বর্ণনাটা ডেইলি স্টার-এর ১৬ এপ্রিল সংখ্যার প্রথম পাতায় দুই কলামে বক্স আইটেম হিসেবে প্রকাশিত ‘Outrage over sex assault : Cops were ‘yards away’ as the attack continued for about an hour’ শিরোনামের সংবাদটি থেকে তুলে হুবহু তুলে দেয়া।

মানবজমিন থেকে— “সেখানে এক তরুণীকে ঘিরে উল্লাস করছিল এক দল বখাটে। ইতিমধ্যে ওই তরুণীর শাড়ি-ব্লাউজসহ পরনের সব পোশাক টেনে ছিঁড়ে খুলে ফেলে বখাটেরা। যৌন লালসা পূরণের জন্য বিবস্ত্র তরুণীকে নির্যাতন করতে থাকে তারা। লিটন নন্দী বলেন, মনে হচ্ছিল মানুষ না। যেন হায়েনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে নারীদের ওপর।” “নির্যাতিতাদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর আহত অমিত দে জানান, শুধু তরুণী না। তারা কাউকেই রেহায় দেয়নি। কিশোরী থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীই তাদের হয়রানির শিকার হয়েছেন। ওই তরুণীকে উদ্ধার করার পরপরই আরও একাধিক নারীর চিৎকার শুনতে পান তারা। কাছে গিয়ে দেখতে পান এক নারী দুই হাত জোর করে বখাটেদের অনুনয় করছেন, আমার বাচ্চাকে ফেরত দাও। বাবা, আমাকে কিছু করো না। আমার বাচ্চা ফেরত দাও।ছয় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন ওই নারী। উদ্যানের ওই ফটক দিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বখাটেরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার শিশুসন্তানকে।

শিশুটি তখন ফুটপাথে পড়ে কান্নাকাটি করছিল। প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয় ওই নারীর ভাইকে। এর মধ্যেই লিটন, অমিত, সুজনসহ কয়েকজন তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। বখাটেদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে তাদের। ততক্ষণে বখাটেরা টেনে খুলে নেয় ওই নারীর শাড়ি। পরে ওই নারী ও তার ভাই এবং সন্তানকে উদ্ধার করেন তারা। বখাটেদের আক্রমনের শিকার এক কিশোরী আর্তনাদ করছিল। ওই কিশোরীকে উদ্ধার করতে গেলে বখাটেরা মারধর করে তাদের। বখাটেদের নির্যাতনে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারায় ওই কিশোরী।” অনলাইনবাংলা.কম.বিডি থেকে— “বস্ত্রহরণ করল ছাত্রলীগ, পাঞ্জাবি জড়িয়ে ইজ্জত রক্ষা ছাত্র ইউনিয়নের” শীর্ষক খবরে অনলাইন নিউজ পোর্টালটি জানিয়েছে, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা। ৩০-৪০ জনের একটি গ্রুপ। চারদিক থেকে ঘিরে ধরে নারীদের বস্ত্রহরণ করে তাদের নগ্নদেহ ভিডিও করছিল তারা।” (লিংক ) তিনটি পত্রিকার বর্ণনা থেকে স্পষ্ট শিশু, তরুণী এবং মধ্যবয়সী (সন্তানসহ) মহিলা- কেউ হামলার বাইরে ছিলেন না। জনসমক্ষে গণহারে মহিলাদেরকে বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে উল্লাস করা, শরীরে কামড়ানো এবং সেসব দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করার মতো ওপর পাশবিক আচরণকে কী বলে অভিহিত করা যায়? বা উচিত? বখাটেপনা? শ্লীলতাহানি? নাকি যৌন নিপীড়ন? নাকি অন্য কিছু? আপনার কাছে উপরের তিনটি পত্রিকার বর্ণিত দৃশ্যগুলোকে মিলিয়ে সেদিনকার ওই পরিস্থিতিকে আপনার কাছে যতই নারকীয়, বর্বর এবং পাশবিক মনে হোক না কেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ পত্রিকা কিন্তু আপনাকে জানাচ্ছে, ওখানে বাখাটেপনা হয়েছে! কেউ কেউ ঘটনাটিকে আখ্যা দিয়েছে শ্লীলতাহানী বলে! যারা বস্ত্রহরণের এই নারকীয় যজ্ঞ চালিয়েছে এবং বাধাদানকারীদের হাত ভেঙে দিয়েছে তাদেরকে পত্রিকাগুলো ‘বখাটে’, ‘বখাটে যুবক’, ‘বহিরাগত যুবক’ অথবা শুধু ‘ছাত্র’ বলে অভিহিত করছে! তারা মোটেও ‘সন্ত্রাসী’ বা এরকম সিরিয়াস কিছু নয়।

গণহারে মহিলাদের বস্ত্রহরণের এই ভয়াবহ ঘটনাটির খবর প্রচারে পত্রিকাগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে চারটি বিষয় পাওয়া গেছে— এক. খবরটিকে কম গুরুত্বপুর্ণ হিসেবে ট্রিটমেন্ট দেয়ার প্রবণতা। দুই. ভাষার ব্যবহারে ঘটনাকে হালকা করা। (বখাটে, লাঞ্ছিত, শ্লীলতাহানি, যৌন হয়রানি ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার) তিন. ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটনার ভয়াবহতাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া। চার. দোষীদের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা (যুবকের দল, বহিরাগত যুবক, অথচ আটক ২জন ঢাবির ‘ছাত্র’ বলে মূল অপরাধীকে আড়াল করা)। খবরটিকে কম গুরুত্বপুর্ণ হিসেবে ট্রিটমেন্ট দেয়ার প্রবণতা: ১৪ এপ্রিল পত্রিকা অফিসগুলো বন্ধ থাকায় ওই দিনের ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে ১৬ এপ্রিলের পত্রিকাগুলোতে। ১৬ এপ্রিল বস্ত্রহরণের ঘটনা নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ কোনো সংবাদই প্রকাশ করেনি! তবে অন্য পত্রিকাগুলো একই খবর প্রকাশ করার পর সম্ভবত ‘হিট’ লাভের আশায় এদিনই “কি ঘটেছিলো পহেলা বৈশাখের দিন টিএসসিতে?” শিরোনামে একটি খবর শুধু অনলাইনে প্রকাশ করেছে। দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সমকাল তাদের শেষের পাতায় সিঙ্গেল কলামে সংবাদ প্রকাশ করে। সমকালের শিরোনাম ‘টিএসসিতে বখাটেদের কবলে নারী’। ইত্তেফাকের শিরোনাম, “বর্ষবরণ উৎসবে নারীর শ্লীলতাহানি”। বাংলাদেশ প্রতিদিন শেষের পাতায় ডাবল কলামে ছাপিয়েছে। এর বাইরে প্রথম আলো প্রথম পাতায় খবর (সিঙ্গেল কলাম বক্স) ছাপিয়েছে। ডেইলি স্টার এবং ডেইলি নিউ এইজ সবচেয়ে বড় কভারেজ দিয়েছে ঘটনাটির। স্টার তাদের প্রথম পাতায় ডিসি বক্স আইটেম হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আকারেই খবরটি ছাপিয়েছে। আর নিউ এইজের ট্রিটমেন্ট ছিল প্রথম পাতায় ৩ কলামে (যদিও এই সংবাদের সাথে আরো দুটি ঘটনা যুক্ত থাকায় কভারেজটা একটু বড় হয়েছে হয়তোবা।) ভাষার ব্যবহারে ঘটনাকে হালকা করা: আগেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল যে, বখাটেপনা, লাঞ্ছিত হওয়া, শ্লীলতাহানি বা যৌণ নিপীড়ন- ধরনের শব্দগুলো দিয়ে কি ডেইলি স্টার এবং মানবজমিনে বর্ণিত অবস্থাতাকে বুঝানো সম্ভব? উত্তর খোঁজার দায়িত্ব পাঠকের। আমি এখানে শুধু কে কী শব্দ ব্যবহার করেছে তা তুলে দেব। প্রথম আলোর শিরোনাম- “নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী লাঞ্ছিত: প্রতিবাদকারী আহত”। এটা দেখে কোনোভাবেই বুঝার উপায় নেই যে, ‘লাঞ্ছিত’ নারী এবং আহত প্রতিবাদকারীর সংখ্যা আসলে কত? আবার সেগুলোর ভয়াহতা কতটুকু? পত্রিকাটি সংবাদের ভেতরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে ঘটনার মোটামুটি একটা চিত্র দিলেও শিরোনাম এবং ইন্ট্রোতে তা তুলে ধরতে কনে জানি অনিচ্ছুক ছিল! বাকিদের মধ্যে সমকালের শিরোনাম ‘টিএসসিতে বখাটেদের কবলে নারী’। ইত্তেফাকের শিরোনাম, “বর্ষবরণ উৎসবে নারীর শ্লীলতাহানি”। বাংলাদেশ প্রতিদিন ‘বখাটেদের তাণ্ডব, শ্লীলতাহানি’ শিরোনামে তাণ্ডব শব্দটি ব্যবহার করে ‘বখাটেপনা’কে কিছুটা জোরালো করার চেষ্টা করেছে।

তবে ডেইলি স্টার- এর ‘Outrage over sex assault’ শিরোনামসহ ভেতরের বর্ণনায় ঘটনার ভয়বহতা ফুটে উঠে উঠেছে। মানবজমিনও একইভাবে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছে। ভয়াবহতাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া: আগের পয়েন্টেই বলা হয়েছে যে, উপরে যেসব পত্রিকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো বাদে কেউই প্রকৃত ঘটনা বুঝতে যতটুকু শালীন বর্ণনা দেয়া দরকার তা মোটেও দেয়নি। এক্ষেত্রে কেউ ‘অশালীন’ বা ‘রগরগে’ বর্ণনা দেয়া অনৈতিক’ বলে অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ অবশ্য পাবে না। কারণ, ডেইল স্টার অশালীনতা এড়িয়েও ব্যাপারটা তুলে ধরতে পেরেছে। মানবজমিনের বর্ণনায় এই অভিযোগটা কিছুটা করার সুযোগ থাকলেও তা মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে না। দোষীদের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা: পত্রিকাগুলো সবচেয়ে বড় যে ফাঁকিটা দিয়েছে তা হচ্ছে, তাণ্ডবকারীরা যে পরিচয়ের বলে বলিয়ান হয়ে এমন বর্বতা চালানোর সাহস করেছে তা গোপন করা। কোনো পত্রিকা তাণ্ডবকারীদের বুঝাতে ‘বখাটে’ ‘দুস্কৃতিকারী’ ‘যুবকের দল’ কেউ ‘বহিরাগত যুবক’ ব্যবহার করেছে। আটক করে থানায় পাঠানো ৫ জনের পরিচয় দেয়া হয়েছে- ‘পাঁচ দুস্কৃতিকারী যাদের ২জন ঢাবির ‘ছাত্র’ ইত্যাদি। কিন্তু এসব কোনো পরিচয়ই টিএসসির মতো জায়গায় হাজারো মানুষ, শত পুলিশের সামনে দাড়িয়ে গ্রুপে গ্রুপে ভাগ হয়ে পরিকল্পিতভাবে গণহারে নারীদের বস্ত্রহরণের সাহস যোগাতে, এবং আটকের পর থানা থেকে ‘সসম্মানে’ বিদায় পাওয়ার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে তাদের সেই ‘শক্তিমান পরিচয়’টা কী? উত্তর দিচ্ছে দুয়েকটি পত্রিকাই।

নিউ এইজ থেকে— পত্রিকাটি “BCL rowdies on the loose again” শিরোনামের সংবাদটিতে বলা হয়েছে— “Besides, Chhatra League men harassed females, who came to attend the Pahela Baishakh celebrations at Dhaka University and Jagannath University on Tuesday.” (http://newagebd.net/111990/bcl-rowdies-on-the-loose-again/#sthash.3egpf6eg.dpuf) অনলাইনবাংলা.কম.বিডি থেকে— “ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। আক্রান্ত নারীদের রক্ষার জন্য তাদের কাছে মিনতি জানালে প্রথমে তারা এগিয়ে এসে মৃদু লাঠিচার্জ করে। কিন্তু বস্ত্রহরণকারীদের ছাত্রলীগ পরিচয় জেনে নিস্ক্রিয় হয়ে যায় পুলিশ। ওই সময় এক নারীকে রক্ষা করতে গিয়ে এগিয়ে যান ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা নেতা লিটন নন্দী নিজের গায়ের পাঞ্জাবি খুলে এক বিবস্ত্র নারীর ইজ্জত হেফাজত করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন। এই ঘটনার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীরা জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ছাত্র ইউনিয়ন জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে তাদের বহিরাগত আখ্যা দিয়েছে।” উপরের তথ্যের সাথে কমন সেন্সও ব্যবহার করা যায় নিচের উদ্ধৃতিগুলো পড়ে— মানবজমিন থেকে— “এমনকি পাঁচ বখাটেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পরও ছেড়ে দেয়া হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।” “এমনকি ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদকে ফোনে বিষয়টি জানিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন লিটন নন্দী। কিন্তু প্রক্টর তাকে হতাশ করে বলেছেন, আমার কি করার আছে। পুলিশ তো আমার কথা শুনে না।” “লিটন নন্দী জানান, তারা পাঁচজন বখাটেকে আটক করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর খোঁজ নিলে পুলিশ জানায়, তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলামসহ টিএসসি এলাকায় তিনটি স্থানে অবস্থান করছিল পুলিশ।

তবে এ বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করেনি। জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।” (http://www.mzamin.com/details.php?mzamin=NzE3NDY=&s=Mg==) বাংলাদেশের পুলিশ এবং প্রক্টর নিশ্চয়ই পত্রিকাগুলোর বর্ণিত কথিত বহিরাগত বখাটদের ভয়ে এত তটস্থ নয় যে, এত বড় অপকর্মে হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও তাদেরকে থানা থেকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেবে! বাংলাদেশে এখন একটা প্রবণতা চলছে, মিডিয়া যদি কোনো ইস্যু না ‘পিক’ না করে তাহলে তা ডেড হয়ে যায়। বিশ্বজিৎ হত্যাসহ বহু ক্ষেত্রে তা প্রমাণিত হয়েছে। বেশিরভাগে মিডিয়া ঘটনাটির ভয়াবহতা এড়িয়ে গিয়ে পরোক্ষেভাবে ইস্যুটাকে পেছনের কাতারে ফেলতে সহায়তা করছে। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নিজেদের তৈরি করা ‘হাইপ’ যাতে আগামী বছরগুলোতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এবং ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু এড়ানো বা পছন্দের পক্ষের স্বার্থ রক্ষার মানসিকতাই হয়তো তাদেরকে এত ‘সতর্ক’ বানিয়েছে!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: