সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পরিচিতজনদের হাতে খুন হলেন বিষু! (ফলোআপ)

unnamed-copy1শামীম আহমদ বালাগঞ্জ::
সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে ভাড়ায় নিয়ে চালককে খুন করে নোহা গাড়ী (মাইক্রোবাস) ছিনতাইয়ের ঘটনায় অবশেষে হবিগঞ্জের সায়েস্তাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১২ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করেন নিহত চালক বিশ্বজিৎ দাস বিষুর পিতা মন্টু দাস। মামলা নং-০২। মামলা করতে বিলম্ব হওয়ার ব্যাপারে নিহতের পিতা মন্টু দাস বলেন আমরা বালাগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছি এবং ঘটনাস্থল সায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকা হওয়ার জটিলতায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ৫এপ্রিল বেরা ১২টার দিকে সিলেট-ছ ১১-০৭২১ নাম্বারের নোহা গাড়ীতে করে চালক বিশ্বজিৎ দাস বিষু (২৬) অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যাত্রী নিয়ে ওসমানীনগর থানার গোয়ালা বাজার থেকে শ্রীমঙ্গলের উদ্যেশ্যে রওয়ানা হয়। ঐ দিন রাত ৮টার পর বিষুর অবস্থান জানার জন্য মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তার ব্যবহৃত দু’টিই সিম (০১৭৩৭-৪১০৯২৬/০১৭১১-০৬২১৯৩) বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ৬ এপ্রিল সোমবার সকালে বালাগঞ্জ থানায় জিডি করেন নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল ইসলাম আরক। অপরদিকে ৬ এপ্রিল ফজরের নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লীগন হবিগঞ্জের সায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দেউন্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পার্শে বিষুর লাশটি অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

সায়েস্তাগঞ্জ থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। বিষুর লাশের ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম হবিগঞ্জ শাখায় লাশটি হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত অবস্থায় লাশটি (দাহ না করে) আংশিক ভাবে সমাহিত করে রাখা হয়। ৬ এপ্রিল সন্ধার দিকে বালাগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার সায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি অজ্ঞাত লাশের ছবি ফেইসবুকে দেখতে পেয়ে নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল ইসলাম আরক এবং স্থানীয় শ্রমিকদেরকে দেখালে তারা বিষুর লাশ শনাক্ত করেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৮ এপ্রিল বিষুর লাশ বালাগঞ্জে এনে বিকেল ৫টার দিকে চানপুর স্মশ্বান ঘাঠে তার অন্তোষ্টিক্রীয়া সম্পন্ন করা হয় হয়।

পরিচিতজনদেরে হাতেই খুন হয় বিষু: সংশি¬ষ্ট সুত্রগুলোর দাবি নোহা গাড়িটি ছিনতাই করার জন্য পুর্ব পরিকল্পনা মাফিক বিষুকে খুন করা হয়েছে। ঐ সুত্রটি আরও জানায় খুনিরা বিষুর পুর্ব পরিচিত ছিল। খুনি চক্রের সদস্যরা চালক বিষুর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিষু যাতে বিষয়টি টের না পায় সেজন্য তারা বিষুর গাড়ী বিভিন্ন সময় ভাড়া করে নিত।
বিষুর কয়েকজন সহকর্মী জানান বিষু বলেছিল তার কয়েকজন পরিচিত বন্ধু-বান্ধব তাকে নিয়ে কমলগঞ্জের ‘হামহাম’ জল প্রভাত দেখতে যাবে। সে অনুযায়ী ৫ এপ্রিল গোয়ালা বাজার থেকে তাদেরকে নিয়ে যায়।
অপর একটি সুত্র বলছে বিষুকে যারা হত্যা করে গাড়ী ছিনতাই করেছে ঐ চক্রের সাথে বালাগঞ্জের কয়েকজর উঠতি ছিনতাইকারী জড়িত রয়েছে। যারা অতিতে এ ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন সিলেট শহরে বসবাস করছে এবং অন্যরা বালাগঞ্জের আশেপাশের গ্রাম গুলোতে বসবাস করে আসছে।
ঐ সুত্রটির দাবী এসব চিনতাইকারীদেকে গ্রেফতার করা হলেই এর রহস্য বেরিয়ে আসবে। মামু আইছি বলে চলে যায় বিষু: নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল ইসলাম আরক বলেন যে দিন বিষু নিখোজ হয় ঐ দিন সকালে সে সিলেট এয়াপোর্টে একটি ট্রিপ নিয়ে যায়। বারটার মধ্যে চলেও আসে। এরপর সে আমার বাসায় যায় এবং আমার পাশেই বসেই চা খাচ্ছিল। হঠাৎ তার মোবাইলে কে যেন ফোন দেয়। ফোন রিসিভ করেই বিষু বলে “মামু আইছি”। এ কথা বলেই সে চলে যায়। সায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো: ইয়াছিনুল হক মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যেহেতু ঘটনাস্থল আমার থানা এরিয়াতে সে জন্য আমার থানায়ই মামলাটি করা হয়েছে। খুনিদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া গাড়ী উদ্ধার করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের গ্রেফতারের সাধ্যমত চেষ্টা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: