সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৪৪ বছর পর এল নববর্ষ!

Sherpur Pic-3নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা নববর্ষ এসেছে যথারীতি। কিন্তু শেরপুরের সোহাগপুরে আসেনি। এসেছে ৪৪ বছর পর। ১৪২২ বাংলা সালে। চোখের জলে। ভালবাসায়। আর স্বজন হারানোর কান্নায়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রাম এক বেদনা বিধুর অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৫শে জুলাই এই গ্রামে ১২০ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। আর এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের কারণে ওই গ্রামের অধিকাংশ বিবাহিত নারী বিধবা হন। তাদের স্বামী হারান। আর তখন থেকে এই গ্রামটির নাম হয় বিধাব পল্লী।

তারপর থেকে এই গ্রামটিতে উৎসব থেমে যায় । জীবনের রং মুছে যায়। বিধবা নারীদের কান্না সঞ্চারিত হয় বছরের পর বছর ধরে। তাই স্বাধীনতার পর গত ৪৪ বছরে ওই গ্রামে কখনো বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ পালিত হয়নি আনুষ্ঠানিকভাবে।

কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম। বাংলা নববর্ষের মাত্র কয়েকদিন আগে গত ১১ এপ্রিল সোহাগপুর গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অপরাধীর শাস্তি হওয়ায় ওই গ্রামের মানুষ এখন খুশি। তাই এবার বাংলা নববর্ষ পালিত হয়েছে সেই গ্রামে।

আর তার উদ্যোক্তা শাহবাগের বহুল আলোচিত গণজাগরণ মঞ্চ। বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানোর এই উদ্যোগে তাদের সঙ্গে ছিল সোহাগপুরে বিধবা পল্লী শহীদ স্বজন সমিতি। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার নেতৃত্ব একটি দল দু’টি বাসে করে সকালেই সোহাগপুর যায়। তারা সাথে করে নিয়ে যান নতুন শাড়ি-লুঙ্গি আর শুকনা খাবার ।

বিধবা পল্লী শহীদ স্বজন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন প্রিয়.কমকে জানান, পহেলা বৈশাখ সকালে বিধবা ও স্বজনরা শহীদের জন্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। আর গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিরা গিয়েও শ্রদ্ধা জানান। পরে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী ঢাকা থেকে যাওয়া গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যদের তাদের ইলিশ-পান্তা দিয়ে আপ্যায়িত করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর সেই অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হিসেবে থাকেন একাত্তরে স্বামী হারানো বিধবরা-বীর মায়েরা। ছিলো শহীদ পরিবারের সন্তানেরা। গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিরা স্বজন হারানোদের সঙ্গে কথা বলেন। জানেন তাদের বেদনা আর কষ্টের কথা। আর এই কথা বলতে গিয়ে অনেক মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জালাল উদ্দিন জানান, ‘আমার বাবা ছবির উদ্দিনও একই দিনে শহীদ হন। আমার মাকে নিয়ে ৪৪ বছর ধরে কস্টের পাথর বুকে বেধে বেঁচে আছি। এবার ঘাতকের দণ্ড কার্যকর হওয়ায় আমরা খুশি। নববর্ষ আমাদের কাছে এবার খুশির খবর নিয়ে এসেছে। তাই এবার আমরা সবাই মিলে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে নানা সময় নানা জন এসেছেন। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। আজ আমরা বিচার পেয়ে কষ্ট ভুলে গেছি।’

আর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার স্বজন হারাদের সঙ্গে সেলফি তুলে তা দিয়েছেন ফেসবুকে। বলেছেন, ‘আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে তেমন কারো সাথে কোনোদিন সেলফি তুলিনি। আজ সৌভাগ্য হলো সোহাগপুরের দুইজন বীর নারী মুক্তিযোদ্ধার সাথে নববর্ষের সেলফি তোলার। এই বীরমাতারা যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী। তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: