সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুক্তরাজ্যে ছোট্ট ভাইয়ের কবর : কী করে দেশে ফিরবে মারিজ?

Marizপ্রবাস ডেস্ক: ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মত বাবার সাথে যুক্তরাজ্যে যায় মারিজ, সাফাত আর তাদের মা মোসাম্মত। বাবা তখন যুক্তরাজ্যে পিএচডি করছেন। স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হয় মারিজ আর তার ছোটভাই সাফাত। নিউক্যাসেলের একটি বাড়িতে মা-বা আর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দিব্যি আনন্দে দিন কেটে যাচ্ছিল মারিজ খানের। তবে সে সুখ বেশিদিন সয় না।

কয়েক বছর আগে রাবদোমিয়োসারকোমা নামে একধরনের শৈশবকালীন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় মারিজের ছোট ভাই সাফাত। দূরারোগ্য ওই ব্যাধি ধীরে ধীরে সাফাতের মুখের যোজককলা নষ্ট করে দিতে থাকে। সাফাতের চেহারা বিকৃত হতে শুরু করে। রোগ থেকে মুক্তি পেতে শুরু হয় চিকিৎসা। কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে একের পর এক কেমোথেরাপি আর রেডিও থেরাপি। তবে শক্তিশালী কেমোথেরাপি আর রেডিও থেরাপির ধকল সহ্য করার ক্ষমতা সাফাতের ছোট্ট ওই শরীরের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আর তাই ধীরে ধীরে সাফাতের শরীরের গঠনতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মেনিনজাউটিসে আক্রান্ত হয়ে গেল ৪ঠা মার্চ জীবন বাস্তবতার কাছে পরাস্ত হয় ছোট্ট সাফাত।

বাস্তবতা আরও বেশি নির্মম হয়ে ওঠে যখন সাফাত অসুস্থ হওয়ার পর পরই তাদের যুক্তরাজ্যে ফেলে রেখে দেশে ফেরত আসেন তাদের বাবা। ২০১৩ সালে মারিজের মায়ের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের কাছে সেখানে থাকার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মারিজের মা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে আবেদনটি নাকচ করে দেয়। তবে তাতে হাল ছেড়ে দেননি মোসাম্মত। অব্যাহত রেখেছেন একের পর এক আবেদন।

ছোট ভাই সাফাতের মৃত্যুর পর অনেক বেশি ভেঙে পড়ে মারিজ। মারিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তাদের মা মোসাম্মত বলেন, ‘দুই ভাই এত বেশি ঘনিষ্ট ছিল যে দেখে মনে হত যেন তারা অবিচ্ছেদ্য। সাফাতের মৃত্যুর পর এখনও স্বাভাবিক হতে পারছে না মাজিদ। প্রতিদিনই ভাইয়ের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকে সে।’ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মারিজের ঘনিষ্টজনেরা জানায়, নিজেকে সবার কাছ থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে মারিজ। যদি তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়, তবে মারিজের পড়াশোনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

এদিকে মারিজের পরিবারকে যুক্তরাজ্য থেকে যেন ফেরত আসতে না হয় এজন্য উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর দিপু আহাদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মারিজদের ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে অনলাইনে পিটিশন করেছেন তিনি। এরইমধ্যে পিটিশনে সই করেছে সাড়ে তিন হাজার মানুষ। দিপু আহাদ বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়াটা মারিজ আর তার মায়ের জন্য খুবই কষ্টকর হবে। কারণ সাফাতের কবরটা যুক্তরাজ্যে। সেখান থেকে বিতাড়িত হলে হয়তো আর কখনো সে কবরে আসার সুযোগ পাবেন না তারা। আর সেটা কতটা কষ্টকর হবে তা আমি বুঝতে পারছি।’

যুুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কেউ স্কলারশীপ পাওয়ার তা সমাপ্ত করতে যেসময়টুকু লাগে সে পর্যন্ত সেখানে থাকার সুযোগ পান অভিবাসীরা। এরপর সংশ্লিষ্ট চাকরি কিংবা স্বদেশে ফেরার জন্য আবেদন জানাতে পারেন তারা। মানবাধিকার অধ্যাদেশ ১৯৯৮-এর আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে যেন বিতাড়িত না হতে হয় সে ব্যাপারে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে আবেদন করতে পারেন অভিবাসীরা। তবে অপরাধীরা যেন এর সুযোগ নিতে না পারেন এর জন্য কড়াকড়ি অবস্থানে থাকে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ১৯৯৮ সালের মানবাধিকার অধ্যাদেশের ৮ নাম্বার অনুচ্ছেদ (ব্যক্তিগত ও পরিবারের মর্যাদার অধিকার) অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি মারিজের পরিবার যে আবেদনটি করেছিল তা ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে খারিজ হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১৪ সালে ২৬শে আগস্ট প্রাথমিক ট্রাইব্যুনালে খারিজ হয়ে যায়। পরে প্রাথমিক ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখে উচ্চ ট্রাইব্যুনালও।

রায়টি যেন সরাসরি আপিল আদালতে তোলা যায় এর জন্য উচ্চ ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানানো হলে, ২০১৫ সালের মার্চে মোসাম্মতের সে আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্রের মতে আপিল আদালতে সরাসরি চূড়ান্ত আপিলের জন্য আরেকটি সুযোগ রয়েছে পরিবারটির হাতে। তবে কর্তৃপক্ষকে আইনগতভাবে ভুল প্রমাণ না করতে পারলে সে রায়ে জেতার সুযোগ নেয় তাদের।

সাফাত

সাফাত

 

সূত্র: ডেইলি মেইল

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: