সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কবি তাবেদার রসুল বকুলের ‘পঞ্চাশের স্বর্ণচাপা’র প্রকাশনা

1. kobi newsপ্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেছেন, সাহিত্য চিরদিনই চিরন্তনের কথা বলে। সাহিত্য সাধনা করতে হলে বড়ো মাপের পাঠক হতে হয়। কেননা কবিরা যে শব্দ চয়ন করেন তার নব্বই শতাংশ শিক্ষিত জনেরা জানেনা। কবি তাবেদার রসুল বকুল একজন আলোকিত পরিবারের মানুষ। কোনধরনের অর্থ বিত্ত তাকে কাছে টানেনা। ৩৯ মৌজার পৈত্রিক জমিদারী রেখে তিনি সাহিত্যের জমিদারী করছেন। কবি তাবেদার আসলেই রসুলের তাবেদারী করছেন। কৈতর প্রকাশন সিলেটের উদ্যোগে উৎস প্রকাশন-ঢাকা প্রকাশিত কবি তাবেদার রসুল বকুলের ৫০তম জন্মজয়ন্তী স্মারক ‘পঞ্চাশের স্বর্ণচাপা’র প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গত বুধবার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়।
কৈতর প্রকাশন সিলেটের স্বত্তাধিকারী গল্পকার সেলিম আউয়ালের সভাপতিত্বে ও গীতিকবি সাইয়িদ শাহীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আশির দশকের শক্তিমান কবি মুকুল চৌধুরী, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র সিলেট শাখার সভাপতি কবি লাভলী চৌধুরী, কবি ও আইনজীবি কামাল তৈয়ব।

সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য আব্দুল কাদির জীবনের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধূরী, সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন, পাঠাগার সম্পাদক কবি নাজমুল আনসারী, অধ্যক্ষ কবি বাসিত ইবনে হাবীব, কবি চৌধুরী চপল, কবি আনোয়ার হোসেন মিছবাহ, নগর গবেষক ফজলুল হোসেন মিনা, কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী, রম্য লেখক হারান কান্তি সেন, কবি ও আইনজীবি আব্দুল মুকিত অপি, প্রভাষক কবি মামুন সুলতান, কবি খালেদ সারোয়ার প্রমুখ।

কবি মুকুল চৌধুরী বলেন, কবি তাবেদার রসুল বকুল একজন প্রতিথযশা লেখক। তিনি একজন পরিশ্রমী গবেষক না হলে ‘পঞ্চাশের স্বর্ণচাপা’ প্রকাশ করা সম্ভব হতোনা। উক্ত স্মারক গ্রন্থে বকুলের সিনিয়ররা যে আবেগ প্রকাশ করেছেন তা তিনি চমৎকার একটি বইয়ের মাধ্যমে পাঠকদেরকে উপহার দিয়েছেন। তাবেদার রসুল বকুল বিলেতে প্রথম সাহিত্য সম্মেলন করেছেন। তার দাদা ছিলেন অবিভক্ত বাংলার ১ম ব্যারিষ্টার।

কবি কামাল তৈয়ব বলেন, তাবেদার রসুল বকুলকে শুধু তিনি কবি বলেই ভালোবাসিনি। তার মাঝে বিদ্যমান ৩টি গুণ দেখে ভালোবেসেছি। তার প্রথম গুণ হচ্ছে তিনি ঐতিহ্য সচেতন। তিনি একজন শেকড় সন্ধানীর মতো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গুণ হলো তিনি গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান করে উৎসাহিত করেন। তৃতীয় গুণ হলো তিনি আমাদের দেশের প্রতিথযশাদেরকে মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। কয়েকদিন আগেই কবি কালাম আজাদকে সাহিত্য পুরষ্কারে ভুষিত করেছেন।

কবি আনোয়ার হোসেন মিছবাহ বলেন, একটা মানুষ সাহিত্যসেবা করে একটা সময় তার পথ ধীরে ধীরে প্রশস্ত হতে শুরু করে। তখন সে আর মানুষ থাকেননা। তিনি দেশ ও সমাজের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে যান। কবি তাবেদার রসুল বকুল একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছেন। এক নামেই আমরা তাকে চিনি। তার কাছ থেকে আমরা বহুবিদ সাহিত্য ও গবেষণা গ্রন্থ পেয়েছি। তার একটি গবেষনা গ্রন্থ জাহাঙ্গির নগর ভার্সিটিতে রেফারেন্স বুক হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে।

কবি বাসিত ইবনে হাবীব বলেন, কবি বকুলের জন্মদিনোত্তর সুবাস নিতে আমরা সকলে মিলে একত্র হয়েছি। প্রবাসে থেকেও তিনি সমাজের জন্য যা করেছেন তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আজকের এই অনুষ্ঠানের প্রমাণ। তার মতো ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজের জন্য খুবই প্রয়োজন।
আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ বলেন, দেশের টানে তিনি আমাদের মাঝে চলে আসেন। টাকা রোজগারের অবলম্বন না করে তিনি টাকা খরচের অবলম্বন করেন। তিনি একজন সফল সংগঠক। অত্যন্ত কর্মট প্রানচঞ্চল হিসেবে আমরা সকেল তাকে চিনি ও জানি। সকলের কাছেই তিনি প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

কবি আব্দুল মুকিত অপি বলেন, আমরা উৎসবপ্রিয় মানুষ বলেই কবি তাবেদার রসুল বকুলের প্রকাশনা উৎসবে এসেছি। তার এই স্মারকগ্রন্থে অনেকগুলো জীবনযাত্রার রঙ্গিন পালক সংযোজিত হয়েছে। আমরা অনেকেই নিজের কথা সকলের কাছে বলিনা। এরকম একটি গ্রন্থ প্রকাশ হলে পাঠকের কাছে কোনকিছুই লোকানোর থাকেনা। কবিরা সাধারণত আড়াল প্রিয় হয়। তিনি সেই আড়ালে থেকে তার জীবনের সবকিছু পাঠকের কাছে শেয়ার করেছেন।

কবি নাজমুল আনসারী বলেন, সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনের একজন প্রাণ পুরুষ হলেন কবি তাবেদার রসুল বকুল। নব্বই দশকে তিনি আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে নিয়মিত ছিলেন। সবসময় তার যে হাসিমাখা মুখ দেখতাম আজও তা আমরা দেখে আসছি। তার মুখ দেখলে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। দেশে আসলেই তিনি সবকিছু রেখে সাহিত্য সংসদে চলে আসেন।

অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি তাবেদার রসুল বকুল বলেন, এই জন্মজয়ন্তী স্মারকের পেছনে সবচেয়ে বেশি যার অবদান সে হচ্ছে আমার অনুজপ্রতিম কবি আবিদ ফায়সাল। দুর্ভাগ্য আজকের অনুষ্ঠানে সে আসেনি। আমার সবকিছুতে বটবৃক্ষের মতো যিনি অনুপ্রেরনা দিয়ে এসেছেন তিনি হলেন গল্পকার সেলিম আউয়াল। তিনি কোনধরনের ধন্যবাদ পাবার আশায় কাজ করেননি। অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে ‘পঞ্চাশের স্বর্ণচাপা’ বের হয়েছে। আমি সকলের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।

সভাপতির বক্তব্যে গল্পকার সেলিম আউয়াল বলেন, অর্থের পেছনে ছুটাছুটি না করে বই বের করার পেছনে ছুটতে বলেছেন কবি তাবেদার রসুল বকুলের স্ত্রী। কবি একটি লক্ষ্য সফল করার পেছনে ছুটছেন। আমরা তার সফরসঙ্গী-বিজ্ঞপ্তি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: