সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অভিযোগ এবং ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিতর্কিত রবীন্দ্র স্মরনোৎসব

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: শেষ হলো বহুল আলোচিত রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরনোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান। এর আগে উদযাপন কমিটি বারবার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রধানমন্ত্রী সিলেট আসছেন না বলে নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর না আসার খবরে মর্মাহত হয় সিলেটবাসী। অবস্থা বুঝে উদযাপন কমিটি রবীন্দ্র স্মরনোৎসবে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী -এমন তথ্য জানিয়ে দেন গণমাধ্যমে।কিন্তু সমাপনী অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেননি ভিডিও কনফারেন্সে। ফলে সিলেটবাসীর শত অভিযোগ এবং ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিতর্কিত এই স্মরনোৎসবের।

শুরু থেকেই রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরণোৎসবের কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেয়ায় বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে গোটা সিলেট। প্রতিনিধিত্বশীল সংস্কৃতিকর্মীদের একটি বড় অংশ এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসুচি পালন করে। সংস্কৃতি কর্মীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, স্মরণোৎসবের যুগ্ম আহবায়ক তারেক জিয়ার ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত সাবেক জাসাস নেতা আমিনুল ইসলাম লিটন। কিন্তু পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে পদত্যাগী নেতাকে যুক্ত করে নানা কর্মসূচী পালন করতে থাকে উদযাপন কমিটি।

এ নিয়ে সিলেটের সচেতন সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেও উদযাপন পরিষদের একগুয়েমি মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে বিষয়টি চলে যায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত। বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি কর্মীরা উৎসবের অনিয়ম এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসারীদের যুক্ত করার বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি ফ্যাক্স বার্তা প্রেরণ করেন।

ফ্যাক্স বার্তায় উল্লেখ করা হয়, উৎসবের সদস্য সচিব, শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী বিএনপি নেতা সিসিক মেয়রকে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে মুলত এই পরিষদ রবীন্দ্র সংস্কৃতি বিরোধীদের যুক্ত করেছে- যা সুস্ট রবীন্দ্র চর্চার পরিপন্থি। এ অবস্থায় বিতর্কিত সিসিক মেয়রকে কমিটি থেকে অপসারণ করা না হলে সংস্কৃতি কর্মীরা যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্কৃতি কর্মীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে উৎসব কমিটি থেকে এর আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন ইমজা সভাপতি সাংবাদিক বাপ্পা ঘোষ। কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য, সাবেক সিসিক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আরেক যুগ্ম আহবায়ক সাবেক অধ্যক্ষ মদন মোহন কলেজ ড,আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, কমিটির সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী উৎসবের কোন পর্যায়েই অংশ গ্রহন থেকে বিরত থেকেছেন।

অনেক আলোচিত সমালোচিত রবীন্দ্র স্মরণোৎসব নিয়ে অনৈতিকতারও অনেক অভিযোগ উঠেছে। “প্রধানমন্ত্রীর উৎসব” এই বাক্য ব্যবহার করে প্রায় সকল সেক্টর থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। ব্যাংক, ব্যবসায়ী, সিসিক ঠিকাদার, নগরীর ধনাঢ্য ব্যক্তি কেউ বাধ যাননি চাঁদা থেকে।

সিলেট নগরীর রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতিকে বাধ্য করা হয়েছে ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত চলা উৎসবে আগতদের খাবার সাপ্লাই করতে। গুঞ্জন শোনা যায়, ২৩ কোটি টাকার উৎসবে এরই মধ্যে অনেকেরই ভাগ্য ফিরে গেছে। অভিজ্ঞ এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্ণধার বললেন, যে উৎসব হয়েছে তার সর্বোচ্চ খরচ হতে পারে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। অথচ উৎসবের নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

লুটেপুটে খাওয়ার এই মিশনের সমাপ্তি হলেও, সাধারন মানুষ মনে করছেন-উৎসবের নামে দেদারসে চাঁদাবাজির ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত।






নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: