সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তিতাসের মৃত্যু: দায় এড়াতে পারেন না যুগ্ম সচিব

নিউজ ডেস্ক:: কুমিল্লা ফেরিকে যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলকে পারাপারের জন্যই ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তাই তিনি এ ক্ষেত্রে দায়ভার এড়াতে পারেন না। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে দেরিতে ফেরি ছাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য এসেছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদনের উপর শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন রাখেন বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরি আটকে রাখা বা ফেরিতে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগীর থাকার কথা যুগ্ম সচিব জানতেন না। এ কারণে সরাসরি তাকে দায়ী করা যায় না। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপককে দীর্ঘক্ষণ আগে থেকেই পারাপারের জন্য বার্তা দিয়ে তার সঙ্গে বার বার ফোনালাপের মাধ্যমে একটা দায়ভার সৃষ্টি করেছিলেন। সর্বোপরি বিলম্বে ফেরি ঘাটে উপস্থিত হওয়া এবং তার জন্যই ফেরি অপেক্ষমাণ রাখায় এক্ষেত্রে তারও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত ২৩ অক্টোবর আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাতে শুধু ঘাটে দায়িত্বরত তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে। যুগ্ম সচিবের দোষ খুঁজে পায়নি কমিটি।

পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী বুধবার প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি করলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করায় তদন্ত বন্ধ রাখা হয় বলে আদালতকে জানানো হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম, ঘাটের উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম, প্রান্তি সহকারী খোকন ও ইনল্যান্ড মাস্টার সামছুল আলমকেই প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি বসে থাকায় ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার চার দিন পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিতাসের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। এসব সংবাদ সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন।

রিটে অভিযোগ ওঠা যুগ্ন সচিব ও ফেরির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। একইসঙ্গে রিটে তিতাসের মৃত্যু ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও তার পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় এবং ফেরিঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চান রিটকারী আইনজীবী।

এছাড়াও রিটে নৌপরিবহন সচিবের নেতৃত্বে ঘটনার তদন্ত, তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রিটে বিবাদী করা হয়।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: