সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছাতকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ২’শতাধিক

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ দু’শতাধিক ব্যক্তি আহত ও একজন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সাদা ব্রীজ এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট -সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জের সাদা বীজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা সাদা ব্রীজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়। উভয় পক্ষ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড টিআরসেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় রাত ৮ থেকে পরদিন সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদ। গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজ করতে বাধা দেয় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানী ফরিদ মিয়া। এসময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকেলে সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাওয়ার পথে সাদা ব্রীজ এলাকায় গাড়ীর গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগিরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ ঘন্টা ব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা পরিনত হয় রণক্ষেত্রে। আশপাশের সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া হয়।

পথচারীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে থানা-ও দাঙ্গা পুলিশ ঘনাস্থলে পৌছে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির , আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যান্য আহদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর পুত্র ইয়াকুব আলী (৩০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে। ছাতক থানার ওসি(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি ও টিয়ারসেল ছোঁড়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: