সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টা!

কুলাউড়া প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নে ৫ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ অক্টোবর সোমবার স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করার কৌশল ও ভিকটিমের পরিবারকে আপোষ নিষ্পত্তির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে একটি মহল। বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিকটিম লাপাত্তা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইছে।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার শিকার ৯ বছরের ওই শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুটি পার্শ্ববর্তী গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী কুটি মিয়ার বাড়িতে যায় আমলকি আনতে। এসময় বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কুটি মিয়া (৪২) ওই শিশুটিকে পথরোধ করে ২৫ টাকা পাওনা দাবি করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক শিশুটিকে ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন কুটি মিয়া। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশে থাকা লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো শিশুটি রক্ষা পায়। খবর পেয়ে ৩০ অক্টোবর বুধবার ভিকটিমের বাড়িতে তদন্তে যান কুলাউড়া থানার এস আই রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভিকটিম ও তাঁর মাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে একাধিকবার ফোন দিয়েছি কিন্তুু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ভিকটিমের নানিকে বলেছি তাকে নিয়ে থানায় আসার জন্য।

ওই শিশুর নানী জানান, আমার মেয়েকে তাঁর স্বামী (ওই শিশুর পিতা) ১০ বছর আগে ছেড়ে চলে যায়। আমার মেয়ের ঘরে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরি করছে। এজন্য নাতি নাতনী আমার কাছে থাকে। ঘটনার পর আমার নাতনী বাড়িতে এসে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্থানীয় ই্উপি সদস্য মোতাহের উদ্দিন শিশুসহ কয়েকজন লোক আমার বাড়িতে এসে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বলেন এবং এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কোন খবর যাতে না যায় সেজন্য সতর্ক করে দেন।

ওই শিশুর স্বজন (সম্পর্কে নানা) জানান, আমাদেরকে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে জানিয়েছেন মেম্বারসহ স্থানীয় কয়েকজন লোক। পরে শুনেছি কুটি মিয়াকে কুলাউড়ায় এক সাংবাদিকের কাছে পাঠানো হয়েছে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য।
অভিযুক্ত কাঠমিস্ত্রী কুটি মিয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। পরে কথা বলবেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাহের উদ্দিন শিশু বলেন, মঙ্গলবার সকালে কাঠ মিস্ত্রী কুটি মিয়া ও ভিকটিম ওই শিশুটির কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিয়েছি। ওই শিশুর স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কুটি শিশুটিকে জোর করে একটি ঝোঁপে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। কুটি মিয়া বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাদের অনুরোধ করে। পরে তাঁকে কুলাউড়ায় এক সাংবাদিকের কাছে ম্যানেজ করতে পাঠানো হয়।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: