সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাসে মাসে সরকারি বেতন খাচ্ছেন তা হালাল করছেন তো?

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার ও সমাজসেবা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। তিনি বলেছেন, চারটি স্তরে তথ্য অধিকারের বিষয়ে কমিটি করে দিয়েছে সরকার। এজন্য কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি রয়েছে। দুঃখের বিষয় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মাত্র একটি সভা হয়েছে। কোনো উপজেলায় সভা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই চিৎকার করে বলে যাচ্ছেন। আপনাদের কোনো কাজ নেই? আপনাদের কাজ আপনাদেরই করতে হবে। এখনো অনেকেই বিধবাভাতা পান না। আপনারা যদি কাজ না করেন তাহলে কে করবে। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বিষয়ক জন-অবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলেন প্রধান তথ্য কমিশনার।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব তৌফিকুল আলম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম ও জেলা তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে এসে আমি আনন্দিত। কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে আমার মন খারাপ। সরকার প্রতি ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে একটি জুনিয়র স্কুল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সৌভাগ্যবশত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জুনিয়র স্কুল করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এখন যিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার উদ্যোগে ৩০ জন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জুনিয়র স্কুলের দায়িত্ব না নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে ভাগিয়ে দিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন তিনি কোনো শিক্ষক দিতে পারবেন না। আবার এটাও জেনেছি ওই শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি মাসে প্রায়দিনই অফিসে থাকেন না।

প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেন, সরকার চাচ্ছে দেশের উন্নয়ন। অথচ শিক্ষার্থীদের ভাগিয়ে দিয়ে শুধু শিক্ষকদের দিয়ে বিদ্যালয় চলছে। এ বছর অষ্টম শ্রেণি থেকে তিনজনকে ভাগিয়ে দিয়েছেন শিক্ষক।

ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেনি। কারণ তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। প্রধান শিক্ষক রেজিস্ট্রেশন করেননি। প্রধান শিক্ষক বলেছেন এটা তার কাজ নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাজ। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে এটা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কাজ।

তিনি বলেন, এভাবে অফিসে বসে আরাম করলে চলবে না। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করলে আপনাদের চাকরি চলে যাবে। মাসে মাসে যে সরকারি বেতন খাচ্ছেন তা হালাল করছেন তো? বেতনটা হালাল করে খান। দুর্নীতি দূর করার জন্য আইন করা হয়েছে। আপনি কি করছেন তার হিসাব দিতে হবে।

মরতুজা আহমদ বলেন, স্থানীয় পত্রিকার কয়েকজন সাংবাদিক সাহেব হয়ে গেছেন। কোথায় গেলে বিজ্ঞাপন পাবেন এগুলো দেখেন। কিন্তু সমস্যাগুলো দেখেন না তারা। কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ার জন্য দোকান খুলে বসেছেন। অফিসে যাবে তথ্য চাইবে কিন্তু মূল বিষয় তথ্য নয়। টেবিলের নিচ থেকে কিছু পাবে সেজন্য তথ্য অধিকারের তথ্য চান তারা।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালককে উদ্দেশ্য করে প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, আপনি কি করেন? বিধবারা ভাতা পায় না কেন? আপনি কিছুই জানেন না। আপনি এলাকার চেয়ারম্যানদের ডাকেন। বিধবাভাতা সবাই পায় কি-না তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। আমি অবাক হয়েছি একজন বিধবা তিন সন্তান নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। এসবে আপনার খবর নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সব দায়িত্ব পালন করলে আপনার-আমার কাজটা কি? আপনি আপনার কাজটা ঠিকমতো করেন। এসব সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: