সর্বশেষ আপডেট : ১০ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছিলেন সম্রাট

নিউজ ডেস্ক:: ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার গডফাদার হিসেবে সংসদ সদস্যসহ (এমপি) অন্তত চারজন গডফাদারের নাম বলেছেন। সম্রাট তার অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে রাঘববোয়ালদের কাছে পাঠাতেন মোটা অঙ্কের টাকা। তাদেরকে এবার ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বিভিন্ন মহলের প্রভাবশালী ওই লোকজনের হাতে টাকা পৌঁছে দিতেন তার সার্বক্ষণিক সহযোগী আরেক যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমান। গডফাদারদের ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছেন গোয়েন্দারা।

সম্রাটের পাশাপাশি তার গডফাদারদের অবৈধ সম্পদের খোঁজ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো থেকে সুবিধাভোগী

এসব গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সম্রাট, জিকে শামীম, খালেদ ও আরমান গডফাদার হিসেবে প্রায় একই রকম ব্যক্তিদের এমপিসহ সম্রাটের নাম বলেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে যুবলীগের রাজনীতির পাশাপাশি সম্রাট আগামী নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলায় মঙ্গলবার সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। শনিবার ছিল রিমান্ডের চতুর্থ দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্রাট সবাইকে ম্যানেজ করেই তার ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। কিন্তু এতকিছুর পরও কেউই তাকে রক্ষা করতে পারেননি।

কীভাবে সবকিছু ঘটে গেল সেটি তার কাছে কল্পনার মতো মনে হচ্ছে। সম্রাটের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া কর্তাব্যক্তিদের নাম জানিয়েছেন তিনি। সব ব্যক্তির বিষয়ে এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও আরমান নিজেদের কাজ হাসিল করার জন্য কাজে লাগাতেন কয়েকজন পরিচালক, নায়ক-নায়িকাকে। এজন্য বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্রযোজক হিসেবে বিনিয়োগও করেন তারা।

এসব পরিচালক, নায়ক-নায়িকার সম্পৃক্ততা এরই মধ্যে উঠে এসেছে। খুব শিগগিরই তাদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্রাট ঢাকায় ক্যাসিনো বাণিজ্য পরিচালনার আদ্যোপান্ত তথ্য দিয়েছেন। কাদের কীভাবে কত টাকা দিতেন সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া সম্রাট নিয়মিত সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে সেন্ডে ক্যাসিনো খেলতে যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলার সময় কারা তাকে সঙ্গ দিতেন সে বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে কীভাবে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিতেন এবং প্রতি মাসে কত টাকা ক্যাসিনো খেলে ওড়াতেন সেসব বিষয়েও মুখ খুলেছেন সম্রাট। সম্রাটের সঙ্গে ক্যাসিনো খেলতে সিঙ্গাপুরে যেতেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সম্রাটের টাকা-পয়সার হিসাব রাখতেন আরমান। ঢাকায় কাদের কত টাকা দিতে হবে সেটি সম্রাট বলার পর আরমান বাস্তবায়ন করতেন।

এছাড়া বিদেশে টাকা পাচারের জন্য সম্রাটকে সহায়তা করতেন আরমান ও কাউন্সিলর সাঈদ। সম্রাটের প্রায় সব বিষয়ই জানেন আরমান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সম্রাট ও আরমানের কাছ থেকে পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পৃথকভাবে দেওয়া তাদের দুজনের তথ্য মিলে যাচ্ছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: