সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আবরারের খুনিকে কারাগারে গণপিটুনি

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মো. অনিক সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে অনিক সরকারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

জবানবন্দি দেওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছতেই ক্ষুব্ধ বন্দীরা হামলে পড়ে অনিকের ওপর। কারারক্ষীদের প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পান অনিক।

কারা সূত্র বলছে, আবরারের মতো মেধাবী ছাত্রের এমন নির্মম মৃত্যু অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো মেনে নিতে পারেননি কারাবন্দী কয়েদি এবং হাজতিরাও। মদ্যপ অবস্থায় অনিক কয়েক দফায় আবরারকে মারধর করেছিল। গুরুতর অবস্থায় আবরার দুই দফা বমি করলেও অনিকের ভয়ঙ্কর রূপ থেকে রক্ষা পায়নি মৃতপ্রায় আবরার।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড ফলাও করে প্রচার হওয়ায় এর খুঁটিনাটি জানতে পারেন কারাবন্দীরাও। ঘটনার পর দিনই অনিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রথম দফা রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তবে আদালতে যাওয়ার পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হয় সে।

আদালতে জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কেরানীগঞ্জ আদালতে পৌঁছে অনিক সরকারকে বহন করা প্রিজন ভ্যান। আনুষ্ঠনিকতা শেষে প্রধান ফটক দিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে সে। কারাগারের সেলে ঢোকার সময়ই তাকে মারধর করেন কারাবন্দীরা। পরে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। যদিও এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনিক বলেন, আগে থেকেই অর্থাৎ ঘটনার ৪-৫ দিন আগে আবরার আমাদের টার্গেটে ছিল। ঘটনার দিন সে (আবরার) গ্রামের বাড়ি থেকে আসায় আমাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় সন্ধ্যার পর তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হবে। এরপর রাত ৮টার পর আবরারকে ওই কক্ষে ডাকা হয়।

সে সময় সঙ্গে তার মোবাইল ল্যাপটপ আনা হয়। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় আবরার চুপ ছিল। একপর্যায়ে তার মোবাইল ও ল্যাপটপ ঘেটে উস্কানিমূলক কিছু তথ্য পাই আমরা। এরপর মারধর শুরু হয়। এরপরই আবরারকে প্রথম চর-থাপ্পড় মারে মেহেদি। এরপর আমি তাকে কিল-ঘুষি দেই। বলি যে, ক্যাম্পাসে কারা কারা শিবির করে। তখন ইফতিও চর-থাপ্পড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে সামসুল আরেফিন ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে আসে।

এরপর আমি (অনিক) ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকি। তারপর দু’হাত টান টান করে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করি আবরারকে। আবরার তখন চিৎকার করে কাঁদতেও পারেনি। কারণ অন্যরা আবরারের মুখ চেপে ধরে রেখেছিল। এভাবে থেমে থেমে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে ইফতি, মেফতাহুল জিয়ন। একই কায়দায় সেও পেটায় আবরারকে।

এভাবে মার চলছিল রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরপর আবরারকে কক্ষে রেখে দিয়ে ইফতি, জিয়ন ও সেসহ অন্যরা ক্যান্টিনে খেতে যায়। খাবার খেয়ে ফিরে এসে দেখতে পায় আবরার মেঝেতে পড়ে আছে। তখন আবরার বমি করেছে। আমি ভাবি সে ভান করেছে। আবারও স্ট্যাম্প দিয়ে আমি তাকে পেটাই। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে মেঝের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা আবরারের পিঠে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

সে আবরারকে গোসল করিয়ে হাতে-পায়ে মলম লাগিয়ে দিতে বলে। এ সময় আবরার দ্বিতীয়বার বমি করে। তখন আবরারের কক্ষ থেকে তার কাপড়-চোপড় নিয়ে আসে অন্যজন। আবরারকে ওই কক্ষ থেকে বের করে পাশের ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেয়া হয়। ওই কক্ষে আবরার বমি করে। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলেন।

এরপর সে, জেমি, মোয়াজ ও শামীমসহ ৩-৪ জন তাকে কোলে করে সিঁড়ি ঘরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনিক স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিবির শনাক্ত করা। তার কাছ থেকে হলের কিছু শিবিরের নাম জানার চেষ্টা ছিল তাদের। প্রথম দিকে আবরার নামগুলো বলছিলেন না। ওই সময় তিনি এবং শিবির কারা করে তা জানতে তারা আবরারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এর পরও আবরার মুখ খোলেননি। আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারের পায়ের পাতা, হাঁটু, হাতে পেটাই। আবরার মারা গেছে- আমরা বুঝতে পারিনি।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: