সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কে এই আবুল? যার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:: নবীগঞ্জে লাইসেন্স বিহীন ট্রাভেলস এজেন্সি ব্যবসায় অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে আবুল খান নামে এক ব্যাক্তি। আবুলের প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে এমপি মন্ত্রী, জেলা পরিদষের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের ঘনিষ্টজন দাবি করে ভয়র্ভীতি ও প্রতারনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক সময়ের বিএনপির যুবদলের রাজনীতি করলেও এখন সে যুবলীগ নেতা। তার বংশের টাইটেল নিয়েও রয়েছে জটিলতা একেক সময় তার নামের পাশে আবুল খান,আবুল মিয়া, আবুল হোসেন ব্যবহার করে এই প্রতারক আবুল।

ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন ইউনিয়নের মোঃ দিলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে আবুল হোসেন আমাকে নিঃস্ব করে ফেলছে। ভিসা দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ভিসা দেয়ার কোনো খবর নাই। যদি ভিসা দেয়ার কথা আবুলকে বলি তাহলে সে আমাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করার হুমকি দেখায় এবং সে তার নিকট আত্মীয় সুহেল নামের একজনকে দিয়ে আমার বিরোদ্ধে একটি অভিযোগ করে যা মিথ্যা প্রমানিত হয়।

ভুক্তভোগি দিলু মিয়া আরো জানান, আবুলের এহেন কর্মকান্ডে হতাশ হয়ে স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদের স্বরন্নাপন্ন হয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে আবুল হোসেন এর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। এদিকে একই প্রতারণার শিকার হয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের আঃ করিমের সন্তান কয়েস মিয়া। আব্দুল করিম মিয়া বলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নিজের কৃষি জমি বিক্রি করে টাকা জমা রেখেছিলাম। মানবপাচারকারী আবুল হোসেনের খপ্পড়ে পড়ে এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। দুবাই পাঠানোর জন্য ভিজিটিং ভিসা দেয় আবুল। ছেলে ও পরিবারের অন্য লোকদের নিয়ে ঢাকা এয়ারপোটে যাই। এয়ারপোর্টের ভিতরে গিয়ে আমার ছেলে কয়েস জানতে পারে তার ভিসা ও বিমানের টিকিট জাল (ভুয়া)। হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন কয়েস এর বাবা। পরে আবুল কে যখন ফোন করা হয় আবুল জানান আপনার ছেলে আর কয়েকদিন পর বিদেশে যাবে। কথা অনুযায়ী আবুলকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভি করে শুধু পুলিশ পরিচয় দিয়ে কথা বলে।

এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা করেছেন কি না জানতে চাইলে কয়েস এর পিতা বলেন, এলাকায় আবুলের খুব প্রভাব রয়েছে। সে (আবুল) নিজেকে যুবলীগ নেতা বলে এলাকায় দাপট দেখিয়ে অপকর্ম করে বেড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের চেয়রম্যান ও মন্ত্রী সাথে তার সু-সর্ম্পক রয়েছে বলে লোক মুখে আমরা জানতে পারি। এজন্য ভয়ে মামলা করিনি।

একই ইউনিয়নের ইমামবাঐ গ্রামের আব্দুল হান্নান বলেন, এই আবুল খান ২০১৫ইং সালে আমার ছেলে হেলাল চৌধুরীকে জর্জিয়া নেয়ার কথা বলে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়টি এখন গ্রাম্য শালিস বিচার ব্যবস্থায় আছে। তিনি আরো বলেন মানবপাচারকারী আবুল খান আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে করে আর কোনো নিরহ পরিবারের মানুষ আমার মত প্রতারণার শিকার না হয়। তার প্রতারণা শিকার হয়েছেন বাউসা ইউনিয়নের দক্ষিনগাও গ্রামের বাশার মিয়া, রিফাতপুর গ্রামের নেওর আলী, কুশি ইউনিয়নের ফুটারমাটি গ্রামের জাকির চৌধুরী সহ ঢাকা,সিলেট,হবিগঞ্জ জেলার অসংখ্য মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীগঞ্জ শহরের সোনারখনি আনোয়ার ম্যানশনের নিহাদ ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্টান খুলে এই প্রতারনা করছে।তার বিরোদ্ধে প্রতারণা ছাড়াও পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাদা দাবি,জুয়ার আসর বসানো, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা টাকা নেয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও সরকার দলীয় এমপি,মন্ত্রী,জেলা পরিষদের চেয়াম্যান উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যানদের সাথে ছবি তুলে নিজের ফেইসবুক পেইজে আপলোড করে নিজেকে তাদের আপনজন দাবি করে বিভিন্ন প্রতারণা করার ও অভিযোগ রয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামের জাহির আলীর পুত্র আবুল তার প্রতারণার ভাগ সরকার দলীয় নেতাদের দেয় বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল খানের মোবাইল ফোনে ও তার নিহাদ ট্রাভেলসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি ও তার ট্রাভেলস বন্ধ পাওয়া যায়।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: