সর্বশেষ আপডেট : ১৯ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে নৌ-দুর্ঘটনায় ১০ বছরে ১২৬ জনের প্রাণহানী

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা :: হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে গত ১০ বছরে ২২ টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২৬ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা মওসুমে হাওরের ও নদী পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীরা রয়েছেন চরম শংকিত। বর্যায় বিশাল জলরাশি বিস্তীর্ণ

হাওর পাড়ের মানুষের যাতাযাতের একমাত্র মাধ্যম নৌযান ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এ কারণেই হাওরে ও নদী পথে প্রতি নিয়তই নৌ-দুর্ঘটনার আশংকা যেন পিছু ছাড়েনা যাত্রীদের।

জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধরমপাশা, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাসহ প্রতিটি উপজেলায় বর্ষাকালে নদী পথে হাওরে যাতাযাতে ও পণ্য পরিবহনে একমাত্র সহজ ব্যবস্থা হিসেবে চলছে ইঞ্জিন চালিত ষ্টীল বডি নৌকা ও কাঠের তৈরী নৌকা। বর্ষা ছাড়াও সারা বছরে জেলার নদী পথে চলে ইঞ্জিন চালিত ষ্টীলবডি বড় বলগেট নামে নৌকা ও যাত্রীবাহী নৌকা। বেশি লাভের আশায় অতিরিক্ত মালামাল নেয়া, পরিবহনে অদক্ষ চালক, অসাবধানতা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, জোড়াতালি দিয়ে ত্রুটিযুক্ত ট্রলার চলাচলের কারণে বিগত কয়েক বছরে এই পথেই পৃথক-পৃথক ২২ টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২৬ জন যাত্রীর করুন পরিণতিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য যাত্রী। তারমধ্যে শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ গরীব অসহায় শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই বেশী। নৌ-যান চলাচলের নীতিমালা না মানার কারণে আর অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, জোড়াতালির নৌকা চলাচলের জন্যই বিভিন্ন সময়ে জেলার নদী পথে ও হাওরে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় দৌড়-ঝাঁপ আর উদ্ধার তৎপরতা। জেলায় ও উপজেলা পর্যায়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোন যন্ত্রপাতি না থাকায় অনেক সময় উদ্ধার কাজও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়না। নদী পথে নৌ-যান চলাচলে আইন মানা হচ্ছে কি-না বিআইডব্লিটির দেখার কথা থাকলেও তাদের কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে জুন মাসে জেলার ধর্মপাশার শৈলচাপড় হাওরে ট্রলার ডুবে শিশু-নারী ও শিক্ষাথী সহ ১৬ জনের প্রানহানী ঘটে। ২০১১ সালে সেপ্টেম্ভর প্রায় শেষের দিকে জামালগঞ্জের দুর্লভপুর গ্রামে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারনে ট্রলার ডুবে ৫ শিশুসহ ৮ যাত্রীর প্রাণহানী ঘটে। একই বছর জুন মাসে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারনে এক নির্বাচনী প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ২০ জুলাই সুরমা নদী পাড়াপাড়ের সময় নৌকা ডুবে মারা যান ছাতক উপজেলার এক ইউপি সদস্য। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্ভর কাঠইর নদীতে বর যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নববধু সহ ২ জনের করুন মৃত্যু হয়। ওই বছরেই ১৮ ডিসেম্ভর জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ধনু নদীতে কামধরপুর গ্রামের বাঁকে পাথর বাহী বলগেট ও যাত্রীবাহী নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪২ জনের মৃত্যু ঘটে। ২০১২ সালে ধরমপাশা উপজেলার সোনা মড়ল হাওরে ট্রলার ডুবে ৪ জন যাত্রী মারা যান। একই বছর ১১ জুন সুনামগঞ্জ সদরের উজান রাম নগরের যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে ১ জনের মৃত্যু হয়। ১০ ফেব্রুয়ারী জামালগঞ্জ ও ধরমপাশা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ট্রলার ডুবে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারীতে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় লক্ষ্মী বাউর দোহালিয়ায় সুরমা নদীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে শিশুসহ ১২ জন মারা যান। ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত পাঠলাই নদীতে খেয়া পারাপারের সময় ১ শিশুর মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে নৌকা ডুবে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বছরই জুনের মাঝামাঝি তাহিরপুরের পাতারগাাঁও সেতুর পাশে নৌকা ডুবে মা-ছেলে-নানীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার মল্লিক পুরে বালু ভর্তি বলগেট নৌকা ডুবে ৩ জন প্রাণ হারান। জুলাই মাসেই শেষের দিকে মধ্যনগর থানার গোমাই নদীতে এক স্কুল শিক্ষক নিহত হয়েছেন। জুন মাসের মাঝামাঝি সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর থেকে মোহনপুর আসার পথে রাত ৯টায় বালুভর্তি নৌকার ২ জন ভলগেট নৌকার ধাক্কায় পানিতে ডুবে মারা যান।

আগষ্টের শেষে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউপির বাংলাবাজার সংলগ্নে নৌকা ডুবে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের শেষে তাহিরপুরের সীমান্তে পাঠলাই নদীতে নৌকা দিয়ে পাড়াপাড়ের সময় রাতে এক বিজিবি সদস্য নিহত হন। নভেম্বরের প্রথমার্ধে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এর কারনে জেএসসি পরীক্ষার্থী সহ প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির কারনে প্রায় ৪০ জনের মতো আহত হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি ভোরে তাহিরপুরের সীমান্ত রাঙ্গাছড়া নদীতে নৌকার সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৫ সালের মাজামাঝি দিরাই চাতল বিলে নৌকা ডুব ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ২০১৭-২০১৮ সালে জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েক জন নৌ-দুর্ঘটনায় মারা গেলেও নিহতদের সংখ্যা নির্ণয়ে সম্ভব হয়নি। এ রির্পোট লিখাপর্যন্ত ২৪ সেপ্টম্ভর দিরাই উপজেলার কালিগুটা হাওরে রাত নৌকা ডুবিতে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছ। হাওর পাড়ের বাসিন্ধারা ও নৌ শ্রমিকরা এই প্রতিবেদককে জানান, সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে ও হাওর পাড়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা যাবে না। তবে নৌ চলাচলে যে নীতিমালা আছে তা নৌ-মালিকরা যদি মেনে চলেন আর শ্রমিকদের উদ্যোগ জনসচেতনতা সৃষ্টি করলে দুর্ঘটনার হার কমবে।

দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার তালুকদার বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এর কারনে যেসব প্রাণ ঝড়ে গেছে, তাদের যন্ত্রানা নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে দুর্ঘটনা কবলিত পরিবার গুলো। নৌ-পথে গুরুত্বপূর্ন স্থানে মেরিন কোট স্থাপন ও বিআইডব্লিউটির শাখা স্থাপন আর জনসচেতনতা তৈরী করলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল-আজাদ বলেন, নৌ চলাচলে যে সব নীতিমালা রয়েছে তা অমান্য করার কারনেই বিভিন্ন সময়ে এই প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী ও সময়ে সময়ে টহলরত থাকলে নৌ-মালিক ও শ্রমিকরা আরো বেশী সচেতন হবেন ও নীতিমালায় চলে আসলে দুর্ঘটনাও দিনদিন কমে যাবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: