সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাণ ফিরে পেল রাজনীতির আতুর ঘর মধুর ক্যান্টিন

নিউজ ডেস্ক:: প্রাণ ফিরে পেল বাংলাদেশের রাজনীতির আতুর ঘর খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন। বিগত কয়েক বছর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের একক প্রাধান্য থাকলেও এখন মধুতে নিয়মিত রাজনৈতিক চর্চা করতে চায় ছাত্রদল।

আজ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আসে। এসময় তার ঢাবি ক্যাম্পারে রাজনৈতিক সহাস্থানে দাবি জনিয়েছেন। যদিও এদিন মধুতে অবস্থানকালে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ষষ্ঠ কাউন্সিলে নয়জন সভাপতি প্রার্থী এবং ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্য থেকে দুই পদে দুজনকে বেছে নিতে ভোট দেন ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন। তুমুল লড়াইয়ে ১৮৬ ভোট পেয়ে সভাপতি হন ফজলুর রহমান খোকন ও ১৩৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

নতুন ছাত্রদলের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধান সম্পাদক হিসেবে আজই প্রথম মধুর ক্যান্টিনে আসেন তারা। যদিও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ ও ‘পাল্টাপাল্টি স্লোগানে’ নতুন কমিটির প্রথম দিনটি ভালো কাটেনি বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে পূর্ব থেকে অবস্থান করা ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। যদিও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সকাল ১১টার আগে মধুর ক্যান্টিনে আসে। তারা আসার পরপরই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসে মধুর ক্যান্টিন দখল করে। এবং বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকে।
অন্যদিকে, ১১টায় ১৫ মিনিটের দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে

মধুর ক্যান্টিনে আসে। তারা আসার সময় সংগঠনটির দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার সমর্থকরা তাদের দেখে চড়াও হন। তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কটুক্তিমূলক স্লোগান দিতে থাকেন। তখন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন মধুর ক্যান্টিন। উভয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও কোন ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

এসময় শ্লোগানে পাল্টা শ্লোগানে উত্তেজনা বিরাজ করে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’,‘খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ’ ‘মুক্তি মুক্তি চাই,খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ ছাত্রলীগ এইসময় প্রতি উত্তরে ভুয়া, ভুয়া বলে শ্লোগান দিতে থাকে। যদিও ‘বাংলাদেশ জিনন্দাবাদ’ না দেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

এদিকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঢাবি ক্যাম্পাসে কার্যকর সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে সেই সহাবস্থান নেই। আমরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করব এবং নতুন কমিটির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এ বিষয়েই আলোচনা করব।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাবিতে সীমিতাকারে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। যেমন মধুর ক্যান্টিনের সামনে আপনাদের সামনে কথা বলছি। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের হল পর্যায়ে সহাবস্থান নেই। ভিন্নমত ধারণ করার কারণে সাধারণ ছাত্ররাও হল পর্যায়ে থাকতে পারছে না। গতকাল গোপালগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের (ছাত্রলীগ) হামলা হয়েছে। যারা ভিসির সমর্থক।

তিনি আরও বলেন, আমরা বলতে চাই, নগর পুড়িলেও দেবালয় এড়ায় না। এদেশের সাধারণ ছাত্ররা এদেশের জনগণেরই একটি অংশ। এদেশে বর্তমানে একটি অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেই পরিবেশের ধারাবাহিকতা বিরাজ করছে। আমরা সাধারণ ছাত্র জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশুনা করি। ছাত্রসমাজের অধিকারের বিষয়ে আমরা ছাত্রদল সবার্ত্মোক প্রচেষ্টা করব।

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ছাত্রদল সবসময় সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলে। তাদের নিয়ে কাজ করেছে। গোপালগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে আমরা প্রথম ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করব। আমরা অলরেডি কাজ শুরু করেছি। আর আপনারা এর বাস্তবায়িত রূপ দেখতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাবিতে যেসব ছাত্র সংগঠনগুলো ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এখানে কোন গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। সহাবস্থান কিছুটা থাকলেও পুরোপুরি নেই। সেকারণে কৌশলগত কারণ হিসেবে আমরা ভিন্ন পথ অবলম্বন করি। যেমন কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ভ্যাট আন্দোলনে আমরা সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছিল।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি সম্পর্কে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বর্তমানের ছাত্রদলের কমিটি করা নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিল কিন্তু তার হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আধারে ছাত্রদলে কমিটি দেওয়া হয়েছে আমার মনে হয় না সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের এই কমিটি মেনে নিবে।

ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান আছে কি না জানতে চাইলে জয় বলেন, সহাবস্থান হতে পারে ছাত্রদের সাথে ছাত্রদের এখন বুড়ো-আধু ভাইরা যদি ক্যাম্পাসে এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাহলে আসলে তাদের কোন সহাবস্থান দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

রাজনৈতিক সহাবস্থানের বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস একটি উন্মুক্ত জায়গা এখানে সবাই আসতে পারে কিন্তু তারা যদি তাদের ছাত্রত্ব দেয়ার দাবি তোলে তাহলে তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, তারা আজকে ক্যাম্পাসে এসেছে আমি তাদের একটা কথাই বলেছি তারা যে স্লোগান দেয় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ এটা যাতে তারা না দেয় কারণ এই ‘জিন্দাবাদ’ শব্দটা অনেক কষ্ট করে এবং অনেক রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: