সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রতি ৪০ সেকেন্ডে আত্মহত্যা করছেন একজন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বব্যাপী প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৯০ জন। যা প্রতিরোধযোগ্য। এই মৃত্যুগুলো থামাতে সব দেশকে আরও বেশি কিছু করা দরকার। যদিও আগের চেয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা কমছে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। নতুন এই রিপোর্ট বলছে, প্রতি ছয় মিনিটে নয়জন মানুষ মারা যাচ্ছেন আত্মহত্যায়। যদিও বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার হার হ্রাস পেয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন প্রতিবছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ পালন করে। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো ‘ওয়ার্কিং টুগেদার টু প্রিভেন্ট সুইসাইড’ অর্থাৎ ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি একসঙ্গে’।

একজন মানুষ নানা কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন এর মধ্যে ব্যক্তিত্ব্যে সমস্যা, গুরুতর মানসিক রোগ বা স্বল্পতার মানসিক, মাদকাসক্তি, এনজাইটি, ডিপ্রেশন অথবা প্ররোচনা ইত্যাদি।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেন, প্রতিটি মৃত্যু পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের জন্য ট্র্যাজেডি। এখনও আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। আমরা সব দেশকে টেকসই উপায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কৌশল অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।

ডব্লিউএইচও বলছে, প্রতিবছর আট লাখ মানুষ মারা যান শুধু আত্মহত্যায়। যা ম্যালেরিয়া, স্তন ক্যান্সার বা যুদ্ধ এমনকি হত্যাযজ্ঞের কারণে মারা যাওয়ার চেয়েও বেশি। এসময় সংস্থাটি আত্মহত্যা সমস্যাটিকে ‘বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের গুরুতর সমস্যা’ বলে আখ্যায়িত করে।

এক গবেষণা দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৩৯ দশমিক ৬ জন আত্মহত্যা করে। ছেলেদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি হলেও বাংলাদেশে এই হার নারীদের মধ্যে বেশি। সাধারণত কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। স্বল্পশিক্ষা, দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহের জন্য অনেকে আত্মহত্যা করে। এ ছাড়াও প্রেম-সম্পর্কিত জটিলতা, আর্থিক অনটন, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব আত্মহত্যার পেছনের অন্যতম কারণ।

গ্রামের সাবসেন্টারে কিংবা উপজেলা হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে অনেক চিকিৎসককে আত্মহত্যার রিপোর্ট লেখতে হয়। আমাদের দেশে বেশির ভাগ নারী পুরুষ আত্মহত্যা করেন কীটনাশক পান করে। তাছাড়া গলায় দড়ি পেঁচিয়েও অনেককে আত্মহত্যা করতে দেখা যায়। এ দৃশ্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। আত্মীয়স্বজনদের কান্না আহাজারি আর বিলাপে হাসপাতাল ভারী হয়ে উঠে। প্রতিবছর বাংলাদেশে এক লাখেরও অধিক নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেন। আর বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ পুরুষ ও নারী আত্মহত্যা করে, যা যে কোনো যুদ্ধে নিহতের চেয়েও অনেক বেশি। অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন নারী বা পুরুষ আত্মহত্যা করছেন।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। কেউ মা-বাবার ওপর অভিমান করে, কেউবা পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করাতে আবার কারো কারো কারণ থাকে অজানা। তবে বেশির ভাগ আত্মহত্যা করেন ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার জন্য।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: