সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার পরকীয়া প্রেমিকার অডিও ফাঁস

নিউজ ডেস্ক:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজ ও তার পরকীয়া প্রেমিকার গোপন অডিও ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া সেই গোপন অডিও থেকে বেরিয়ে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ফাঁস হওয়া ১৯ মিনিটের একটি অডিও থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কথোপকথন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘তুমি লোন করার কথা বলে ব্যক্তিগত কাগজপত্রপত্র নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে আমার নামে অ্যাকাউন্ট কেন খুলেছ? আমি ব্যাংকের হেড অফিস থেকে সব ডকুমেন্ট উঠিয়েছি। আমার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবে না।’

আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তোমাকে এত কায়দাকানুন কে করতে বলেছে?’

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘তুমি তো আমার কথা শোনোই না। আমি এ জন্যেই বলছি দুদকে কমপ্লেন করব।’

ইমতিয়াজ : ‘তুমি কেন এরকম করতেছ।’

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘কারণ তুমি আমাকে মাঝ রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছ।’

আসিফ ইমতিয়াজ: ‘তুমি কি চাও পরিষ্কারভাবে বল। আমার সাড়ে ৩ বছরের একটা ছেলে আছে। শুধু তুমি আর আমি বসব। কোনো ল’ইয়ার লাগবে না। তোমার কোনো দয়ামায়া নাই?

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘হ্যাঁ আছে। আছে বলেই তো চুপ করে রয়েছি। না হলে তো এতদিনে বারোটা বেজে যেত।

আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তুমি আমার বারোটা বাজাইতে গেছ? তুমি ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র সব বের করেছ?’

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘তুমিতো আমার কোনো কথাই মানতেছো না। ছেড়ে দিছো রাজপথে।

আসিফ ইমতিয়াজ : ‘এখন আমি তোমাকে সারা জীবন পালব?’ ভুক্তভোগী নারী : ‘আমি তোমাকে তো সারা জীবন পালতে বলতেছি না।

আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তুমি আমার ক্ষতি করবে কেন? আমি কি তোমার কোনো উপকার করিনি? আমিতো মিউচুয়ালের কথাই বলতেছিলাম। তুমি ব্যাংকে গিয়ে গোপনে অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র উঠাচ্ছ। আর আমাকে দোষ দাও। এটা কি? তুমিতো আমার ক্ষতি করার জন্য এসব কাগজপত্র উঠাচ্ছ।’

পরকীয়া প্রেমিকা : ‘ক্ষতি করতে চাইলে অনেক আগেই দুদকে দিয়া দিতাম। আমি তোমার সঙ্গে থাকতে চাই।’

১০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের আরেকটি অডিওর গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন-

আসিফ ইমতিয়াজ : আমি ও আমার আইনজীবী অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করছি দু’জনই যাতে বাঁচতে পারি সেটা। আমাদের দু’জনের মধ্যে এত বেশি আদান-প্রদান এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি হবে। তোমার একটা কথায় আমি বিপদে পড়ব।

পরকীয়া প্রেমিকা : তুই না একটু বললি, আমরা কোর্টে গিয়ে বিয়ে করব।

আসিফ ইমতিয়াজ : কোর্ট তো বিয়া করায় না। আমরা চিন্তাভাবনা করতেছি আমরা কোর্টে যাব। একটা ওয়ে বের করব।

উল্লিখিত অভিযোগ এবং ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বানোয়াট এবং তার বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্র।’ ফোনালাপের রেকর্ড শোনার পর তিনি দাবি করেন, ‘এটি তার কণ্ঠ নয়। বরং বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি বারবার পুরষ ব্যক্তিকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। এতেই তার অসৎ উদ্দেশ্য বোঝা যায়।’

ইউএনও’র প্রেমিকা অভিযোগ করেন, ‘আসিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। এরপর কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন তিনি। অথচ আমার সম্মতি ও স্বাক্ষর ছাড়া ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যক্তিগত সেই কাগজপত্র দিয়ে আমার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধ লেনদেন শুরু করেন।’

তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ এ জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেরে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। কারণ আসিফ ইমতিয়াজ তখন একজন সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু এ ঘটনার পরই তার আসল রূপ প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর মধ্যে আমার যা সর্বনাশ হওয়ার তা হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বরে ঢাকার বনশ্রীর ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকাকালে হঠাৎ তার মানিব্যাগে আমার নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এটিএম কার্ড দেখতে পাই। ওই সময় ওই কার্ডের নম্বরটি আমি গোপনে রেখে দেই। পরে আমি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটিএম কার্ড দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে।

এরপর এ বিষয়ে আমি তাকে যখন জিজ্ঞেস করি তখন সে (আসিফ ইমতিয়াজ) আমার কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আমার নিজের নিরাপত্তার জন্য ৩ এপ্রিল তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। জিডি নং ১৩০।’

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে কমিটি জানতে পারে, আয়বহির্ভূত লাখ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য তিনি একজন নারীর নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চট্টগ্রামের কদমতলী শাখায় ব্যাংক হিসাব খোলেন। যার নম্বর ২০৪৩৩০০০৩৫৬।

দেখা যায়, যে ভুক্তভোগী নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তার সম্মতি ছাড়াই ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ ব্যাংকে হিসাব খুলেছেন। ঘনিষ্ঠতা থাকার সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে ভোটার আইডিসহ প্রয়োজনীয় যেসব ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়েছিলেন সেগুলো সংযুক্ত করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে হিসাবটি খোলা হয়। এতে ব্যাংকটির শাখা ম্যানেজার খোরশেদ আলমের হাত ছিল।

ওই সময় জমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রাখতে ব্যাংকটিতে পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় বলে সূত্র জানায়। ওই সুবাদে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্যও গড়ে উঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ এপ্রিল কদমতলী শাখা ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

যোগাযোগ করা হলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক কদমতলী শাখার ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম সোমবার বলেন, ‘ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। বিষয়টি তদন্তাধীন।’ – টিবিটি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: