সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পানি ছেড়ে ভারতকে ডোবাচ্ছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: চলতি মাসের শুরুর দিকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত। এরপর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। সেই সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে। এমতাবস্থায় ভারতের বিরুদ্ধে বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগ তোলে পাকিস্তান।

দেশটির অভিযোগ চলতি সপ্তাহে ভারত হঠাৎ করে উজানে বাঁধ খুলে দেয়ায় সুতলেজ নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতিও দেখা গিয়েছে। এছাড়া পানি ছেড়ে দিয়ে নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে বলে দাবি করছে পাকিস্তান। এটাকে ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলেও অভিহিত করে দেশটি।

এদিকে ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার প্রতিবাদে পাল্টা জবাব হিসেবে এবার নিজেদের বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার কাসুর এলাকায় সুলতেজ নদীর ওপর বাঁধগুলো খুলে দেন পাক কর্মকর্তারা।

এতে করে দুইদিনের মধ্যে ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার অন্তত ১৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে একই এলাকার আরও কয়েকটি গ্রাম আগেই ডুবে গিয়েছিল।

পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হুসেইন রয়টার্সকে বলেন, ‘ভারত এখন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ শুরু করেছে।’

তারা পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে ভারত। হুসেইন আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অমান্য করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন হুসেইন।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কৃষি কাজের ৮০ শতাংশই নির্ভর করে ভারতের পানির ওপর। তবে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এটি নিয়মিত কাজের অংশ।’ আর পানি ছাড়ার ব্যাপারটি দুই দেশের চুক্তি মোতাবেকই হচ্ছে। নয়াদিল্লির এ অবস্থানের দু’দিন পরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাঞ্জাবের কাসুর জেলায় সুতলেজ নদীর উজানে নিজেদের বাঁধ খুলে পানি ছেড়ে দেয় পাকিস্তান।

ভারতের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, গেট খুলে দেয়ায় আমাদের অংশ অন্তত ১৭টি গ্রাম ডুবে গেছে। ওই কর্মকর্তা জানান, কাসুর থেকে ট্যানারির বর্জ্য মিশ্রিত পানি আসছে। সেই পানি নদীতে এসে মিসছে। কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই ইসলামাবাদের সঙ্গে ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত ‘হাইড্রোলজিক্যাল ডাটা’ আদান-প্রদান করার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিল ভারত। বুধবার একথা জানিয়েছেন ‘ইন্দাস ওয়াটার’-এর ভারতের কমিশনার পিকে সাক্সেনা।

চুক্তি অনুযায়ী, নদীতে পানি বৃদ্ধির যাবতীয় তথ্য পাকিস্তানকে জানিয়ে দিত ভারত। এর ফলে আসন্ন বন্য পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারত পাকিস্তান। বন্যায় কৃষি বা জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা ভারতের থেকে পাওয়া ‘হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা’র ভিত্তিতে অনেকটাই সামাল দেয়া সম্ভব হত। এখন থেকে সেটা আর সম্ভব হবে না।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: