সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ভাতিজা ভাগনাকে পথে বসালেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী

যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটের বিশ্বনাথের আব্দুল মন্নান তার স্ত্রী নেওয়ারুন নেছা প্রতারনা করে দুই পরিবারের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। পরধনলোভী, প্রতারক আব্দুল মন্নান ভাগনা ও ভাতিজার কাছে তার মেয়ে রুমি বেগম ও সীমা বেগমকে বিবাহ দেয়। বিয়ের এক বছর পর মেয়েরা লন্ডনে চলে যান। পরে মেয়েরা স্বামীদের সাথে যোগাযোগ করেনি। প্রতারক আব্দুল মন্নান মেয়েদের লন্ডন প্রবাসী অপর ২ ছেলের সঙ্গে ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মন্নানের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে আদালত তাকে কারাদন্ড দেন। বর্তমানে সে জামিনে আছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ চাইলে উল্টো পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোসহ প্রান নাশের হুমক-দমকী দিচ্ছে সে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের ক্ষতিপূরণসহ প্রতারক মান্নানের যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শনিবার (২৪ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামের আব্দুল মনাফের ছেলে মো. শাহজাহান আহমদ এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মৃত মরম আলীর ছেলে আব্দুল মন্নান (৬৫) তার আপন চাচা। তিনি তার পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করা অবস্থায় আব্দুল মন্নান ও তার স্ত্রী নেওয়ারুন নেছাকে নিয়ে ২০১০ সালের প্রথম দিকে সিলেটের নিজ বাড়িতে আসেন। ঐ সময় শাহজাহান মা-বাবা ও ভাইকে নিয়ে জীবনের তাকিদে সৌদি আরবে বসবাস করে করছেন। আব্দুল মন্নান সন্তানদের নিয়ে আসতে চান। বিয়ের সময় আব্দুল মন্নান ও তার স্ত্রী মোচ্ছা. নেওয়ারুন নেছা জানান, তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। যদি আমরা দেশে যাওয়া আসাসহ বিবাহের সার্বিক খরচ বহন করেন তাহলে মো. শাহজাহান আহম্মদের সাথে রুমি বেগমের এবং মো. মাছুম আহমদের সাথে মোচ্ছা. সীমা বেগমের বিয়ে দিবেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে আত্মীয়দের মধ্যস্থতায় শাহজাহান রুমী বেগমকে বিয়ে করেন। আরেক মেয়ে মোচ্ছা. সীমা বেগমকে আব্দুল মন্নানের আপন ভাগিনা বিশ্বনাথ থানার কারীকোনা গ্রামের রইছ আলীর ছোট ছেলে মাছুম আহমদের সাথে বিবাহ দেন।

এসময় আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা ৭ লক্ষ টাকা নেন। বিয়ের সিদ্ধান্তে আশ্বস্থ হয়ে শাহজাহান মা-বাবা এবং ভাইসহ ভিসা কর্তন করে সৌদি আরব হতে একেবারে দেশে চলে আসেন। তারা দেশে আসার পর ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ইসলামী শরীয়তের বিধান মোতাবেক ৬ লক্ষ টাকা করে ২ জনে ১২ লক্ষ টাকা মোহরানা সাব্যস্থক্রমে রেজিষ্টারী কাবিননামা মুলে দুটি বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় বিবাহের স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়, কসমেটিকস ইত্যাদিসহ বাজার করার জন্য আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা আমাদের উভয় পরিবারের নিকট হতে আরও ২০ লক্ষ টাকা নেন এবং কাবিনের টাকা বাবদ ১২ লক্ষ টাকা নেন। পরবর্তীতে শ্বশুড় আব্দুল মন্নান ও শ্বাশুড়ী নেওয়ারুন নেছা জানান, বৃটিশ আইন অনুয়ায়ী স্বামীকে ইংল্যান্ডে নিতে হলে মেয়েরা চাকুরী করতে হবে এবং তাহার ব্যাংক একাউন্টে ১৮ হাজার পাউন্ড অর্থাৎ বাংলাদেশী ২০ লক্ষ টাকা জমা দেখাতে হবে। পরে আমরা সরল বিশ্বাসে দারকর্জ ও বহু কষ্টে আত্মীয় এর সামনে ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট আব্দুল মন্নানকে ২০ লক্ষ টাকা হস্তান্তর করেন। মো. মাছুম আহমদের অপর ভাই লন্ডন প্রবাসী মো. সেলিম আহমদও আব্দুল মন্নানকে ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর লন্ডনে ১৮ হাজার পাউন্ড প্রদান করেন।
আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা ইংল্যান্ডে চলে যান এবং প্রায় এক বছর পর তাদের মেয়ে রুমি বেগম ও সীমা বেগম লন্ডনে চলে যান। লন্ডনে যাওয়ার পর আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা এবং আমাদের স্ত্রীরা কিছুদিন আমাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করলেও এক পর্যায়ে তারাও আমাদের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে ফেলে। আমরা অনেক কষ্ট করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উক্ত বিষয়ে ব্যর্থ হয়ে আমার চাচা লন্ডন প্রবাসী কুদ্দুছ আলী ও ফুফু আখলুছ বিবির মাধ্যমে এক পর্যায়ে জানতে পারি যে, আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা অন্যায়ভাবে, প্রতারণা ও অর্থ লাভের উদ্দেশ্যে আমাদের তালাক না দিয়েই রুমি বেগম ও সীমা বেগমকে লন্ডন প্রবাসী অপর ২ (দুই) ছেলের সঙ্গে ২ (দুই) মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে আব্দুল মন্নান ও নেওয়ারুন নেছা দেশে আসলে এক গ্রাম্য সালিশ বৈঠক হয় এবং ওই সালিশ বৈঠকে তারা আমাদের বিয়েসহ টাকা লেনদেন সবকিছুই অস্বীকার করেন। দিশেহারা হয়ে আব্দুল মন্নান, নেওয়ারুন নেছা ও আমার স্ত্রী রুমি বেগমকে আসামী করে প্রতারণার অভিযোগ এনে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত বিশ্বনাথ সিআর ২৩ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত আব্দুল মন্নানকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদন্ড ও অপর আসামী আব্দুল মন্নানের স্ত্রী নেওয়ারুন নেছা এবং মোচ্ছা. রুমি বেগমকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। আব্দুল মন্নান দেশে আসেন এবং সিলেটের সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে উক্ত মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলে প্রেরণ করেন। পরে আব্দুল মন্নান সিলেটের জেলা জজ আদালত হতে জামিনে এসে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোসহ প্রান নাশের হুমক-দমকী দিয়ে আসলে আমি এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় গত ১৪ জুলাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি এন্ট্রি) করি। যার নং-৭২৮।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শাহজাহান প্রতারক আব্দুল মন্নানের কাছে আমাদের ক্ষতিপূরণসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মাছুম আহমদ। – বিজ্ঞপ্তি



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: