সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের তোড়জোড়

নিউজ ডেস্ক:: চলতি বছর অক্টোবরে শেষ হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। সে অনুযায়ী অক্টোবরেই ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ বিষয়ে চলছে তোড়জোড়। যদিও জাতীয় সম্মেলনের আগেই উপজেলা ও জেলা শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভিন্ন কারণে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি দলটি।

জানা গেছে, দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সমস্যার কারণে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। ঠিক কবেনাগাদ শুরু হবে দলটির জেলা উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তাতে জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের পক্ষে তৃণমূলে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার কারণেও তৃণমূলের সম্মেলন আটকে গেছে। এর আগে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছরের মার্চে আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে এই টিম বিভিন্ন বিভাগে সাংগঠনিক সফর করে। সাংগঠনিক সফর থেকে বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনাও দেয়া হয়।

কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়, যা পূর্ণাঙ্গরূপে শুরু হয়নি। এখনো পর্যন্ত হাতে গোনা দু-একটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাড়া কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নেতৃত্বে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাবের কারণে সিদ্ধান্ত বদল করেছে দলটি। ফলে জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রস্তুতির কার্যক্রম স্থগিত রেখে বন্যা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে নেতাকর্মীদের। ফলে জেলা-উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

দলের তৃণমূলের সম্মেলনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নেত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাই সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বন্যা শেষ হলেও আমাদের নেতাকর্মীরা কবলিত এলাকাগুলোয় বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত। এসব সমস্যা সমাধান হলে তৃণমূলের সম্মেলন নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের পর মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৭ সালে ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার সম্মেলন হয়। এ ছাড়া বাকি জেলা ইউনিটগুলোর বেশির ভাগই ২০১২ থেকে ১৬ সালের মধ্যে করা হয়েছে। যদিও সম্মেলনের পরপরই এসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। বেশির ভাগ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। আর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এর মধ্যে এমন কিছু ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর কমিটি কবে হয়েছে সেটা ভুলতে বসেছেন সেই ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলন আর হয়নি। এ ছাড়া ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সম্মেলন না করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৬৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই আহ্বায়ক কমিটির তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সাড়ে ১৪ বছরেও তা হয়নি।

এ ছাড়া মাদারীপুর জেলা কমিটি ২০১৩ সালে করা হলেও সম্মেলন হয়েছিল আরও কয়েক বছর আগে। টাঙ্গাঈলে ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর, কিশোরগঞ্জে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, মানিকগঞ্জে ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, মুন্সীগঞ্জে ২০১৪ সালের ২১ জুন, নরসিংদীতে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি, রাজবাড়ীতে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর, শরীয়তপুরে ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ফরিদপুরে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ, গোপালগঞ্জে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগেরও সবকটি জেলা ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বেশ আগেই। ২০০৬ সালের ২৭ জুন চট্টগ্রাম মহানগরে সম্মেলন হলেও ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সর্বশেষ সম্মেলন হয়- ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। সর্বোশেষ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সম্মেলন না করে কেন্দ্র থেকে কমিটি দেয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, চাঁদপুরে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, কুমিল্লা দক্ষিণে ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা উত্তরে ২০১৬ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ফেনীতে ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, লক্ষ্মীপুরে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ, নোয়াখালীতে ২০১৪ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর, কক্সবাজারে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর বান্দরবানে, ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়িতে, ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে সর্বশেষ সম্মেলন হয়।

রাজশাহী বিভাগের সব কটি জেলা কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এ বিভাগের সিরাজগঞ্জে ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি, নওগাঁয় ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর, নাটোরে ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর, জয়পুরহাটে ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর, বগুড়ায় ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই অবস্থা খুলনা বিভাগের জেলা গুলোয়। খুলনায় ২০১৪ সালে, মেহেরপুরে ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, নড়াইলে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, সাতক্ষীরায় ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, মাগুরায় ২০১৫ সালের ৮ মার্চ, কুষ্টিয়ায় ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর, ঝিনাইদহে ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ, যশোরে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, বাগেরহাটে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, চুয়াডাঙ্গায় ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

২০তম জাতীয় কাউনসিলের পর ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর একমাত্র সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জে ২০১৩ সালে ২৫ জুন, সুনামগঞ্জে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন হয়।

বরিশাল বিভাগের আওতাধীন বরগুনা জেলায় ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর, ভোলায় ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, পটুয়াখালীতে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর, বরিশালে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর, একই দিনে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়, ঝালকাঠিতে ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, পিরোজপুরে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সম্মেলন হয়।

রংপুর বিভাগের আওতাধীন পঞ্চগড়ে ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর, দিনাজপুরে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে, রংপুরে ২০০৮ সালে, কুড়িগ্রামে ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধায় জেলা সম্মেলন ২০১৬ সালের ১২ মার্চ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর সম্মেলন হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৬ মে, নেত্রকোনায় ২০১৪ সালে, শেরপুরে ২০১৫ সালের ১৫ মে, ময়মনসিংহে ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: