সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চাঁদের উল্টো পিঠে গুপ্তধনের আড়ত

নিউজ ডেস্ক:: ধাপে ধাপে একটার পর একটা স্তর পার হচ্ছে ভারতের চন্দ্রযান-২। আর উদ্বেগের প্রহর ততটাই গাঢ় হচ্ছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (আইএসআরও) বিজ্ঞানীদের। ৭ সেপ্টেম্বরের ধাক্কা পার না হওয়া অবধি স্বস্তি নেই ইসরোর। ২৮ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে, তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে যাবে চন্দ্রযান।

২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান-২। লক্ষ্য চাঁদের উল্টো পিঠে বসা। দক্ষিণ মেরুর অজানা রহস্যের সন্ধান। দ্য ওয়াল। চাঁদের দক্ষিণ মেরু যেন গুপ্তধনের আড়ত।

পরতে পরতে রহস্য জড়িয়ে রয়েছে এর অন্ধকার, হিমশীতল, পাথুরে কণায়। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, তেজস্ক্রিয় মৌলের ভাণ্ডার রয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠের ওই রুদ্ধদ্বারে। পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যে কি সেখানেই সুপ্ত? সৌর জগতের অজানা দিকগুলো দরজা বন্ধ করে সেখানেই কি ঘুমিয়ে রয়েছে, কোনো এক অদৃশ্য জাদুর কাঠির ছোঁয়ায়?

তাহলে কেন চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানের জন্য এত ব্যতিব্যস্ত গোটা বিশ্ব! ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানাল তার কয়েকটি কারণ। শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।

ইসরোর ‘অ্যাস্ট্রোস্যাট’ উপগ্রহ দিয়ে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্থির করেছিল প্রতিরক্ষা, নজরদারি আর আবহাওয়া পূর্বাভাসেই আটকে থাকবে না ভারতের মহাকাশ-অভিযান। মহাকাশের গভীর থেকে গভীরতর কক্ষের কপাট খুলবে ইসরো।

মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে সৃষ্টির অজানা, অচেনা মুলুকে। পৃথিবী সৃষ্টির জট যদি খুলতে হয়, তাহলে প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত চাঁদ। কারণ চাঁদ ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের সম্ভাবনাই থাকত না। ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছর ধরে দক্ষিণ মেরু সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত। সৌর জগতের অনেক গোপন রহস্যের বীজ বুনে চলেছে সন্তর্পণে। আমাদের নীল গ্রহের জন্ম রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও সেখানে মেলা সম্ভব। পৃথিবীর আত্মজা হল চাঁদ।

২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীতে যে দিন-রাতের চক্র ঘুরে চলেছে সেটাও সম্ভব হচ্ছে চাঁদের অভিকর্ষ বলের জন্যই। এ টানের কারণেই পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি একটু একটু করে কমছে, বিপরীতে বাড়ছে পৃথিবীর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য। মহাসাগরে জোয়ার-ভাটা থেকে পৃথিবীর ঋতুচক্র সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদ।

কাজেই প্রাণ সৃষ্টির গোপন কথা সেখানেই নিহিত রয়েছে যত্ন করে। ১০ কোটি টন জল রয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ), এমনটাই দাবি মহাকাশবিজ্ঞানীদের। তবে চাঁদে মানববসতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ইসরো। কারণ চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, চৌম্বক ক্ষেত্রও নেই।

তবে বিপুল জলের খোঁজ পেলে, সেখান থেকে তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে ভেঙে নেয়া সম্ভব। এ অক্সিজেন শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্বাভাবিক রাখবে। আর হাইড্রোজেন ব্যবহার করা যেতে পারে জ্বালানি হিসেবে।

পৃথিবীতে যে ভাবে জনবসতি বাড়ছে তাতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে টান পড়তে বাধ্য। এদিকে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো অপ্রচলিত শক্তির (বায়ুমণ্ডল, সৌরশক্তি) বদলে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে পরমাণু বিদ্যুতের ওপর। সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভরসা পরমাণু চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর।

যেভাবে যথেচ্ছ পরিমাণ তেজস্ক্রিয় মৌল ব্যবহার হচ্ছে বিশ্বজুড়ে, তাতে অচিরেই ফাঁকা হয়ে যাবে পৃথিবীর তেজস্ক্রিয় সম্পদ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে তেজস্ক্রিয় মৌলের বড়সড় খনি রয়েছে।

যার লোভেই আমেরিকা, রাশিয়া, চীন বারবারেই অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ ভাগে। আর এবার ভারত। আমেরিকার ‘অ্যাপোলো’ মিশনেরও লক্ষ্য ছিল তেজস্ক্রিয় মৌল আহরণ।

অপ্রচলিত শক্তির উৎপাদন বাড়াতে বর্তমানে তৎপর গোটা বিশ্ব। কারণ ‘গ্রিন হাউস’ গ্যালের প্রভাব কমিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে ভরসা এ শক্তিই।

ইসরো জানিয়েছে, হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন, সোডিয়াম, পারদ (মারকারি) এবং রুপো তো মিলবেই, পাশাপাশি চাঁদের বালিকণা থেকে নিষ্কাশন করা যেতে পারে হিলিয়াম-৩ মৌল। পৃথিবীতে প্রাপ্ত ডয়টেরিয়াম অক্সাইড (D2O)-এর সঙ্গে হিলিয়াম-৩ মৌলের বিক্রিয়ায় তৈরি হবে বিপুল পরিমাণ শক্তি।

এড়ানো যাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বিপদ। চাঁদের ধুলো, বালিকণা হাতড়ে হাতড়ে এ হিলিয়াম-৩ মৌলের খোঁজ চালাবে চন্দ্রযানের রোভার ‘প্রজ্ঞান।’





নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: