সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ‘উলফ প্যাক’ জঙ্গিরা

নিউজ ডেস্ক:: নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ জঙ্গিদের টার্গেট ছিল সুবিধাজনক সময়ে পুলিশের ওপর হামলা করা। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা এক্সক্লুসিভ ডিভাইস বা আইডি তৈরির যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করেছিল। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) দীর্ঘ নজরদারি করে এসব তথ্য নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে শাদী, শাহ এম আসাদুল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল, মাশরিক আহমেদ, মো. আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও এস এম তাসমিন রিফাত।

শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল বলেন, ‘রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নব্য জেএমবির উলফ প্যাক গ্রুপের পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই শিক্ষার্থী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।’
‘এই পাঁচজন পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে সাদী। বাকিরা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। এদের মধ্যে মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে সাদী ও শাহ এম আসাদুল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ-র শিক্ষার্থী।’

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, লোন উলফ বা একাকী শিকারি যাকে একাকী মুজাহিদ বলে জঙ্গিরা। উলফ প্যাক সেরকমই। এরা স্লিপার সেলের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে তাদের সাংগঠনিক কোনও ভিত্তি নেই বা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এরা ‘সেলফ র‌্যাডিক্যালাইজড’ হয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে গ্লোবাল জিহাদ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে হামলার পরিকল্পনা করে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শিবলী একটি ইস্তেহাদি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবাবীল ছিল তাদের আধ্যাত্মিক নেতা। ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ করতো। এই হামলা চালাতে যে অর্থ লাগতো ডার্ক ওয়েব থেকে তা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মাশরিক আহমেদের দায়িত্ব ছিল সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করা। সে যশোরের বাসিন্দা। এছাড়া তারেক ও তাসনিম রিফাত মূলত সদস্য সংগ্রহের কাজ করতো। এই পাঁচ জনের সঙ্গে আরও কিছু নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে পুরো গ্রুপটি সম্পর্কে জানা যাবে।’

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই গ্রুপের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সাদী ২০১৪ সাল থেকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত। হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাসারুজ্জামান চকলেটের মাধ্যমে সে জঙ্গিবাদে জড়ায়। তারা একসঙ্গে কলাবাগান এলাকার আলামীন মসজিদে ‘হালাকা’ (একত্রিত হওয়া) করতো।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবাবীল অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়তে গিয়ে তারা পরস্পর পরিচিত হয়ে ‘উলফ প্যাক’ গ্রুপটি গড়ে তোলে। আবাবীলের বন্ধু হলো মাশরিকের মাধ্যমে তাসনিম রিফাত এই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই গ্রুপটির কাছ থেকে পুলিশের ওপর হামলার এমন কিছু কৌশল জানতে পেরেছেন, যা সত্যিই উদ্বেগের। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে সারাদেশের সব ইউনিটকে জানানো হয়েছে। কৌশলগত কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাইছেন না। তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ‘তাগুত বাহিনী’ আখ্যায়িত করে তাদের টার্গেট করে আসছিল জঙ্গিরা। গত কয়েক বছর ধরে সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। চলতি বছর অন্তত চারটি ঘটনায় পুলিশকে টার্গেট করে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গুলিস্তান ও মালিবাগের দু’টি ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলছেন, পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বেশি সংখ্যক জঙ্গিরা গ্রেফতার বা অভিযানে নিহত হয়েছে। সেজন্য তারা পুলিশকে টার্গেট করছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর পুলিশের ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে জঙ্গিরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে একেবারেই তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। গোপনে গোপনে তারা ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে না পেরে ‘লোন উলফ’ বা ‘উলফ প্যাক’-এর মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে হামলার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। সারা দুনিয়া জুড়েই এই প্রবণতা বেড়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উলফ প্যাকে সাধারণত ৫-৭ জন সদস্য থাকে। আমরা গ্রেফতারকৃতদের আরও কয়েকজন সহযোগীর সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: