সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে সরকারি ও মহিলা কলেজ: একদিনে অনুপস্থিত ১৯ শিক্ষক

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজার সরকারি ও মহিলা কলেজের শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারনে ভেঁঙ্গে পড়ছে জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের পাঠদান কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ সময় শিক্ষকরা ছুটি না নিয়েই কলেজে অনুপস্থিত থাকেন। কলেজে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক নিজের ইচ্ছা মতো আসছেন আবার নিজের ইচ্ছায়ই চলে যাচ্ছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে মহিলা কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, কেউ কেউ আবার মাসে ২/১ দিন ঢাকা থেকে সকালে এসে ক্লাস করে রাতে সার্কিট হাউজে থেকে পরের দিন আবার ঢাকায় চলে যান। ওই শিক্ষকরা নাকি মন্ত্রী ও সচিবের লোক বলে দাবি করেন। এনিয়ে কলেজে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কেউ সাহস করে তাদরে বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছেননা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাতে গুনা কয়েকজন শিক্ষক পরে সবাই পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে ঢাকা থেকে সকালে এসে ক্লাস নিয়ে আবার বিকালে ঢাকায় চলে যান। আবার কয়েকজন মিলে ব্যাচলর হিসেবে ২/১ রুম নিয়ে পালাবদল করে থাকেন।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজের এ অবস্থার জন্য অধ্যক্ষরাই দায়ী। দীর্ঘ দিন যাবত তাদের সাথে আলাপ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। তাদেরকে বলেছিলাম যে সকল শিক্ষকরা কলেজে কম আসেন, তাদের তালিকা দেয়ার জন্য। কিন্তু উনারা দেননি।
জানা যায়, গত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিক সিলেট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা ফলাফলের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব, সময়মতো ক্লাসে না আসা, বাণিজ্যিক মনোভাব ও ক্লাসের সময় কোচিং পড়ানোর কারনেই এমনটি হচ্ছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে গেলে দেখা যায় শিক্ষক আব্দুল বাশের ও জুবায়ের আহমদ এখনও আসেননি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে অপর একজন শিক্ষক বলেন, উভয়ই ছুটিতে আছেন। ১১.১১ মিনিটে ইংরেজি বিভাগে গেলে দেখা যায়, বিভাগীয় প্রধান নাজমিন ইসলাম চৌধুরী এখনও অফিসে আসেননি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে একজন অফিস সহকারী বলেন, ম্যাডাম রাস্তায় আছেন, আসতেছেন। ১১.২৫ মিনিটে অর্থনীতি বিভাগে গেলে দেখা যায় বিভাগীয় প্রধান আকমল হোসেন এখনও আসেননি। ১১.৩৫ মিনিটে বাংলা বিভাগে গেলে দেখা যায়, বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ আলী হোসেন এখনও আসেননি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে এক শিক্ষক বলেন, উনি ঢাকায় ছুটিতে আছেন। কত দিন যাবত ছুটিতে আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষক বলেন, সপ্তাহখানেক যাবত। ওই বিভাগের আরেক শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামও অনুপস্থিত রয়েছেন। ১১.৫০ মিনিটে দর্শন বিভাগে গেলে দেখা যায় শিক্ষক দিলিপ রবি দাস আসেননি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান দেবাশীষ দেব নাথ বলেন, উনি বিয়ের ছুটিতে আছেন। ১২ টায় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে গেলে দেখা যায়, বিভাগীয় প্রধান শুকলা রানী রায় এবং মোঃ হাবিবুর রহমান খান এখনও আসেননি। তবে একজন শিক্ষক বলেন, মোঃ হাবিবুর রহমান খান ছুটিতে আছেন। ১২.১০ মিনিটে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে গেলে বিভাগীয় প্রধান ইমাম উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফজলুল আলী বলেন, উনি ছুটিতে আছেন।

এদিকে শনিবার (২৭ জুলাই) ১০.২০ মিনিটে সরকারি মহিলা কলেজে গেলে দেখা যায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফাতেমা ইয়াছমিন ও মোঃ মহসিন মিয়া এখনও আসেননি। কলেজের একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, ফাতেমা ইয়াসমিন মাসে ২/৩ দিন আসেন। এবিষয়ে জানতে ফাতেমা ইয়াসমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়। ১০.৩২ মিনিটে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে গেলে দেখা যায় বিভাগীয় প্রধান মোঃ রবিউল আউয়াল ও রেজাউল করিম জনি এখনও আসেননি। অফিস সহকারী জানান, শিক্ষক রেজাউল করিম জনি ঢাকা থেকে আসতেছেন। ওই বিভাগের অতিথি শিক্ষক আশিকুর রহমান আছেন। ১১টায় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মুজিব এর কক্ষে গেলে দেখা যায় তালা ঝুলছে। কোথায় আছেন জানতে চাইলে একজন অফিস স্টাফ বলেন, “স্যার সিলেট থেকে আসতেছেন। উনি সপ্তাহে কয়দিন আসেন এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে ২/৩ দিন আসেন। তবে উপাধ্যক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেন। ১১.০৫ মিনিটে ইতিহাস বিভাগে গেলে দেখা যায়, বিভাগীয় প্রধান রওশন আরা ও পলাশ চক্রবর্তী এখনও আসেননি। ১১.১৫ মিনিটে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে গেলে দেখা যায় বিভাগীয় প্রধান শাহ আব্দুল ওয়াদুদ উপস্থিত রয়েছেন কিন্তু প্রভাষক উৎপল সাহা ও মোঃ আব্দুল আওয়াল এখন আসেননি। তবে বিভাগীয় প্রধান জানান, এখনও তাদের ক্লাসের কিছু সময় বাকী আছে।

মৌলভীবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান বলেন, অনেকের ক্লাস দেরিতে থাকায় দেরি করে আসেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপনার কথাও সত্য, কয়েকজন আছেন মাঝে মধ্যে আসেন। তাদেরকে বেশি চাপ দিলে বদলী নিয়ে অন্যত্র চলে যান। তখন শিক্ষক সংকটে পড়ি।

এবিষয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফজলুল আলী বলেন, “অনেকেই ওই দিন একটু পরে এসেছেন। আবার কয়েকজন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কারনে ছুটিতে আছেন।
ক্লাস না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন বলেন, এ নিয়ে আমি গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন সভা সেমিনারে আলোচনা করছি। কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখছি না। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন মহলেও আলোচনা করব। আমি মনে করি ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষকরাই অনেকটা দায়ী।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: