সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবন ও জীবিকা: ঘরছাড়া সন্তানদের মাতৃস্নেহে খাওয়ানোতেই তাঁর শান্তনা

জীবন পাল:: এই শহরে পড়াশোনা কিংবা চাকুরীর সুবাদে এসে ব্যাচেলর জীবনকে সঙ্গি করে মায়ের হাতের প্রতিদিনের সুসাদু রান্নাকে মিস করছেন ঘরছাড়া সন্তান । ১৯ বছর ধরেই সেই ঘরছাড়া সন্তানদেরকে মায়ের আঙ্গিকেই রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন কওে যাচ্ছেন এই মাসি। বয়সের ভারে কষ্ট হলেও সন্তানদেও মায়ায় যেন নিজেকে সরিয়ে নিতে নারাজ তিনি। তবুও শরীরের কার্যক্ষমতা আর অসুস্থ্যতার বন্দি জীবনে যেন মন না চাইলেও এতদিনের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে এক রকম বাধ্য হয়ে পড়েছেন মাসি।
দাড়িয়াপাড়ার রসময় স্কুল ঘেষা গলির ভিতরে টিনের ঘরে একরুম নিয়ে মায়ের ¯েœহে ব্যাচেলরদের ২ বেলা খাবার খাইয়ে যাওয়া মাসির পুরো নাম দীপ্তি দাশ। যার বর্তমান বয়স প্রায় ৫৮ বছর।

স্বামী বীরেন্দ্র দাশ প্রায় ৮ মাস হবে মারা গেছেন। যিনি ১২ বছর বয়সে সিলেটে এসেছিলেন। এই এক কক্ষের বাসায় থাকতেন। নূরজাহান বোডিংয়ের পাশে ছোট্ট একটি পানের দোকান নিয়ে বসে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দাড়িয়াপাড়ার এই এক রুমের ঘরটি তখন ভাড়া দিয়ে থাকতে হতনা। বীরেন্দ্র দাশ সরল-সোজা হওয়ায় বাড়ির মালিকের মনে জায়গা কওে নেওয়ায় মালিক ফ্রিতে থাকতে দিয়েছিলেন। তবে মালিক মারা যাবার পর ৯৮ সাল থেকে বাসা ভাড়া দিয়েই থাকতে হচ্ছে। প্রায় ৯২ বছর বয়সে মারা যান দীপ্তি মাসির স্বামী বীরেন্দ্র দাশ। এর আগে মেঝো মেয়ে মুক্তা দাশকে হারান। যখন মুক্তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর । এখন এক রুমের বাসাটিতে একাই থাকেন তিনি। কেননা বড় মেয়ে মণি দাশ ও ছোট ছেলে দিপক দাশকে বিয়ে করিয়েছেন। এতদিন সন্তানদেও মত লালন করে যাওয়া ব্যাচেলর ছেলেদের মায়ার কারণে নিজের ছেলের বাসায় থাকতে রাজি না হলেও স্বামী মৃত্যুর পর একা হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ছেলে আর ছেলের বউয়ের সাথেই থাকার সম্মতি জানিয়েছেন দীপ্তি মাসি।

৭০০ টাকা থেকে এখন বাসা ভাড়া বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫০০ টাকা। ২০০০ সাল থেকে ৪ জন ব্যাচেলরকে ২ বেলা ভাত খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে মাসির এই দায়িত্বের যাত্রা শুরু । তখন জনপ্রতি ২ বেলা খেয়ে মাসিকে দিত মাসে ৬০০ টাকা। প্রথম দিকে তাঁতীপাড়ার গণেশ পাল তার দোকানের কর্মচারীদের রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন দীপ্তি মাসিকে। যার জন্য ১টা হাড়ি,২টা থালা এবং কয়েক মাসের বাজার করে দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে সেই বাজার ও আসবাবপত্র বাবদ ২০০ টাকা করে মাসির কাছ থেকে কেটে রাখতেন তিনি। বর্তমানে মাসির এখানে শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবি মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন প্রত্যেকদিন দুপুর ও রাতের খাবার খাচ্ছেন। জনপ্রতি কেউ ৩৫ টাকা আবার কেউ ৪০ টাকা কওে মাসিকে দিচ্ছেন। কেউ দিনে,কেউবা সপ্তাহে আবার কেউ কেউ মাসে। তবে এখানে যারা খাচ্ছেন তারা প্রত্যেকে মাসিকে নিজেদের মায়ের আসনে বসিয়ে রেখেছেন। মাসির যে কোন ধরনের অসুস্থ্যের কথা শুনলে যে যার মত করে মাসির চিকিৎসাসহ ঔষধ নিয়ে আসতে দায়িত্ববান ছেলেদের মতই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী বিষু বৈদ্য এখানের একজন। খাবার খেতে খেতে তার মন্তব্য-আমার বাড়িতে যেরকম খাবার রান্না হয় মাসির এখানে ঠিক সেরকমই রান্না,সেরকমই খাবার। বলতে হবে বাড়ি থেকে দূরে থেকেও মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পাচ্ছি।
এদিকে হোটেলের খাবার খেতে খেতে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল মো. ফরিদ আহমদ। এখানের বাড়ির আঙ্গিকে মাসির হাতের রান্না করা খাবারের সন্ধান পেয়ে এখন রীতি মত মাসির এতজন আদরের সন্তানদের মধ্যে একজন হয়ে গেছে। তার মতে-মাসি আমাদেরকে নিজেদের সন্তানের মতই মায়া করেন। আমরাও মাসিকে নিজের মায়ের মতই ভালবাসি। আমরা মাসিকে আমাদের ফ্যামিলির একজন সদস্য মনে করে থাকি।

একদিকে মুখের মধ্যে খাবার অন্যদিকে মাসির সাথে তামাশা করতে করতে রাজন দাশের মন্তব্য-খাবারের বেলায় বাড়িতে যেমন বাছবিচার করতে পারি তেমনি মাসির কাছেও একই রকম বাছবিচার করতে পারছি। মাসি পছন্দমত আমাদেও খাবার রান্না করে দিচ্ছেন। যেহেতু ফ্যামিলির সবাইকে ছেড়ে দূরে থাকি সেহেতু বলতে গেলে এটা আমার দ্বিতীয় ফ্যামিলি। কেননা মাসি আমাদের সবাইকে নিজের সন্তানের মতই আপন করে নিয়েছেন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: