সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চিকিৎসায় সফল হচ্ছেন সিলেটের হোমিও চিকিৎসকরা,আগ্রহের সাথে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা

জীবন পাল:: অপারেশন ছাড়ায় কিডনি,ক্যান্সারের মত জটিল রোগ নিরাময়ে সফল হচ্ছেন সিলেটের হোমিও চিকিৎসকরা। ফলাফল পেয়ে প্রতিনিয়তই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
ক্যান্সার,কিডনি সমস্যাসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় সফল হচ্ছেন সিলেটের অভিজ্ঞ কয়েকজন হোমিও চিকিৎসক। আর তাদের এই সফল চিকিৎসার প্রতি রোগীদের ভরসা বাড়ার কারনে ঐসব হোমিও চিকিৎসকদের চেম্বারে বেড়েছে রোগীদের ভিড়। যার ফলে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে এইসব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীসহ তাদের আত্মীয়-স্বজন। প্রতিদিনই ৪,৫ জন এরকম মারাত্মক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীরা পরামর্শসহ চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এমনকি এ রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহে করতে গেলে ক্যান্সার রোগে চিকিৎসাধীন বাবার ঔষধ নিতে হোমিও হেলথ সেন্টারে আসা গোলাপগঞ্জের বাগলা এলাকার লিপি বেগমের মাধ্যমে তার বাবা ৫৫ বছর বয়সী বদরুল আমিনের সাথে ফোনে কথা হয়। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন অনেক ভাল আছি। আমার মত যারা আছেন তাদেরও উচিত কষ্ট পেয়ে সময় না নষ্ট করে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে আরামটা উপভোগ করা। ভাল থাকা।
গোলাপগঞ্জের বাগলার এই বদরুল আমিনের বর্তমান বয়স ৫৫ । গলায় টন্সিল ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। ৬ মাস পর গলায় প্রচন্ড ব্যথা,খেতে না পারা,বুকে ব্যথা সমস্যা নিয়েই হোমিও চিকিৎসা শুরু করেন। বাবার ঔষধ নিতে আসা লিপি বেগমের মন্তব্য – বাবাকে প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত হোমিও চিকিৎসা নিয়ে আমার বাবা এখনও আমাদের মাঝে সুস্থ্য আছেন। এর থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে।
অন্যদিকে বড়লেখার সুরিগাও এলাকার ৫৫ বছর বয়সী বশির উদ্দিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর হোমিও রিসার্চ সেন্টার থেকে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন।
গোলাপগঞ্জের বদরুল আমিন এবং বড়লেখার বশির উদ্দিনের মত সিলেটের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ক্যান্সার রোগী বর্তমানে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে একদম সেরে না উঠলেও অনেকটাই ভাল আছেন। তথ্য সংগ্রহে করতে সিলেটের বিভিন্ন হোমিও সেন্টারগুলো ঘুরে জানা গেল, অন্যান্য ক্যান্সারের পাশাপাশি সিলেটের একটা বড় অংশ খাদ্য নালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। বিড়ি,তামাক,সাদা,জর্দা,ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে এমনটা হয় বলে জানতে পারা যায়। ক্যান্সারে ১ম,২য় স্টেজের রোগীর জন্য এই চিকিৎসা অনেক ভাল। তবে ৪র্থ স্টেজ মানে ক্যামো দিয়ে যারা আসেন তাদের জন্য কিছু করার থাকেনা। তবে যতদিন তারা বাঁচবেন হোমিও চিকিৎসা নিলে আরামে বাঁচবেন এমনটাই দাবি হোমিও সেন্টারগুলোর চিকিৎসকদের।
সিলেটের মির্জাজাঙ্গাল এলাকাতেই রয়েছে ২০টির মত হোমিও সেন্টার। এর বাইরেও রয়েছে অনেক। বর্তমানে সিলেটের প্রায় ৩০% রোগী হোমিওপ্যাথীর উপর নির্ভরশীল। কয়েকজন হোমিও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেল। এর মধ্যে হোমিওপ্যাথী থেকে সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশই গ্রামের সাধারন মানুষ। অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতারনামূলক কর্মকান্ড আর হোমিও চিকিৎসার সহজলভ্য চিকিৎসা এই দুটি কারণকেই সাধারন মানুষের হোমিওর দিকে আগ্রহের কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিজ্ঞ ও পুরনো চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যের ভিক্তিতে জানা গেল হোমিও হেলথ সেন্টার, হোমিও রিসার্চ সেন্টার, আলী হোমিও কমপ্লেক্স,জালালাবাদ হোমিও রিসার্চ সেন্টার,নজরুল হোমিও মেডিক্যাল,মায়া হোমিও ফার্মেসী,হোমিও এইড সেন্টার প্রমুখ হোমিও সেন্টারগুলোতে প্রায় প্রতিদিনিই রোগীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মত। অন্যান্য হোমিও সেন্টারগুলোতে তুলনামূলক রোগী কম থাকলেও নগরীর প্রায় সকল হোমিও সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদান করে সফল হচ্ছেন হোমিও চিকিৎসকরা।

হোমিও এইড সেন্টার: হোমিও চিকিৎসক ডা.মো. ইমদাদুল হক এর মতে-শিশুদের হাড়ছিদ্র রোগের চিকিৎসা করে সফল হয়েছি। বর্তমানে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে আমার কাছে চিকিৎসাধীন আছে প্রায় ২০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা দিয়ে পুরোপুরি ভাল করা সম্ভব হয়েছে ৪ জনকে। ৪ জন যথাক্রমে সিলেটের দাড়িয়াপাড়া,নালিয়া,পিরমহল্লা ্ও কানাইঘাট এলাকার। বাকিরা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। বালাগঞ্জের আব্দুল মিয়া (৩২) ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। প্রতি মাসে তাকে ২-৩ বেগ রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হত। হোমিও চিকিৎসা নিয়ে এখন আর প্রতি মাসে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছেনা। ভালই আছে বলতে হবে।
কথা বলে জানা যায়- এই সেন্টারে গত জানুয়ারী-জুন পর্যন্ত কিডনী,পাথর সমস্যার রোগী চিকিৎসাধীন প্রায় ৪০০ জন। বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগী প্রায় ২০০ জন।
অন্যান্য রোগের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্যারালাইজড রোগী ৫ জন,গ্যাংরিনে আক্রান্ত রোগী প্রায় ২০০ জন,টিউমার আক্রান্ত রোগী প্রায় ৬০০-৭০০ জন,সাইনোসাইটিস আক্রান্ত রোগী প্রায় ৪০০ জন,পাইলস আক্রান্ত রোগী -২০জন।
গ্যাংরিন রোগটা খুব কম মানুষের হয়ে থাকে,তবে হোমিও চিকিৎসায় এ রোগ ১০০% ভাল হয় ।
এই সেন্টারে সপ্তাহে গড়ে ক্যান্সার রোগী আসে ৫/৬ জন । আর কিডনী রোগী ৮/১০ জন ।
হেপাটাইসিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী এই ৬ মাসে প্রায় ১০০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। যার মধ্যে ৬ জন পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ্য হয়ে ্ওঠা রোগীদের মধ্যে গোয়ালাবাজারের ১ জন,ছাতকের ২ জন,সিলেট সদরের ১ জন এবং গোয়াইনঘাটের ১ জন রোগী রয়েছেন।
এর বাইরে হ্যানিমেন হোমিওপ্যাথী সোসাইটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে থাকে। ছাত্রদের ডেভেলপের জন্য প্রতি শুক্রবার সেমিনার হয়।ফ্রি ক্যাম্পে ৪০০-৫০০ রোগীকে ঔষধসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়। বছরে প্রায় ৩০টির মত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়ে থাকে।
এই সেন্টারের চিকিৎসক মনে করেন- অনেকে ২০০ জন রোগী দেখলে ভাল হয় ১ জন। আবার অনেকে ১০ জন রোগীর চিকিৎসা করে ১০ জনই ভাল করছেন। এক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসাটা জরুরী।
আগে এক সময় হোমিও ছিল গরীবের চিকিৎসা। আর এখন উচ্চবিত্ত বলেন আর উচ্চ শিক্ষিত বলেন সকলেই ভাল ফলাফল পাওয়ায় ঝুকছে হোমিওর দিকে।
চিকিৎসক ডা.মো. ইমদাদুল হক এর অভিমত- একবারে নিমূল হওয়ার রোগ ক্যান্সার নয়। এর মধ্যে কিছু কিছু ক্যান্সার ভাল হয়। যার উদাহরন হিসেবে বলবো গোয়াইনঘাটের এক ফুসফুস ক্যান্সার রোগী বর্তমানে সুস্থ্য আছেন।ভাল আছেন।
এক কথায় বলতে গেলে বলবো-অন্যান্য চিকিৎসা থেকে হোমিও চিকিৎসায় ক্যান্সার রোগীরা অনেক ভাল থাকে।প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জালালাবাদ হোমিও রিসার্চ সেন্টার: জালালাবাদ হোমিও রিসার্চ সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. এম.এ মুজাহিদ খান জানান-এই ৮-১০ বছরে আমাদেও রিসার্চ সেন্টার থেকে ১৬০০ ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।যার মধ্যে ১০% রোগী ভাল হয়েছে।
কথা বলে জানা যায়- এই সেন্টারে গত জানুয়ারী-জুন পর্যন্ত ২৫০জন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসাধীন।যার মধ্যে কিডনী রোগী ২০০-২৫০জন।যাদের অধিকাাংশরাই ভাল হয়ে উঠেছেন। ৪/৫ মাসে হোমিও চিকিৎসায় এই রোগীদের ভাল করে তোলে সম্ভব। এই ৬ মাসে প্রোকাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছে ১০-১২ জন। এছাড়াও রয়েছে লিভার সিলোসিস রোগী।

হোমিও হেলথ সেন্টার: ডা. মো. নাজমুল হক জানান-সরকার শায়ত্ব-শাষিত মেডিক্যাল নেই। বিভাগীয় শহরে ১টি করে হাসপাতাল দরকার। যেখানে ডাক্তারসহ শিক্ষার্থীরা রিসার্চ করতে পারবে।গবেষনা করার সুযোগ দরকার।সরকার থেকে ব্যবস্থা নিলে সুবিধা পাওয়া সম্ভবত হত।
প্রত্যেকদিন এই সেন্টারে বিভিন্ন রোগের প্রায় ৫০-৬০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।
২০ বছর আগে তেমন চিকিৎসা ছিলনা।সরকারের সহযোগিতায় চিকিৎসা এগিয়ে যাচ্ছে।পুরোভাবে সরকার দৃষ্টি দিলে আরো এগিয়ে যাবে।চিকিৎসা বঞ্চিতরা চিকিৎসা সেবা পাবে বলে মনে করেন চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক ।
তার ,মতে- নি¤œ-মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরায় হোমিও চিকিৎসার দিকে ঝুকেছে।উচ্চবিত্তদে মধ্যে অধিকাংশরা কিডনী,পাথর,পাইলস,টিউমার,পোষ্টেড লেইন,পিত্তপাথর,জরায়ু টিউমার,জরায়ূ স্থানছ’তি,পলিপাস রোগীর সংখ্যায় বেশি। অপারেশনে যারা অনিচ্ছুক তারায় হোমিওর দিকে ঝুকে থাাকে। এসব চিকিৎসায় অপারেশন ছাড়া হোমিও ঔষধে অনেক সফলতা আসে।
গোলাগঞ্জের বহরগাও এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুহেদা বেগম(২৬)। ব্রেইন টিউমারে হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। হোমিও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে যিনি ডিগ্রি পাস করেছেন।বিয় করে বর্তমানে স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে যিনি ভালই আছেন। জকিগঞ্জের আমেনা বেগম (৬৫) ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কানাইঘাটের ৬৫ বছর বয়সী আসিদ আলী টন্সিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭ ডোজ কেমোথ্যারাপী দেওয়ার পর জ¦ালা-যন্ত্রনা ব্যথা নিয়ে ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর হোমিও চিকিৎসা নিতে আসে। বর্তমানে মোটামোটি ভালই হয়ে উঠছেন। জগন্নাথপুরের ৬০ বছর বয়সী আলী মুক্তার স্বরনালীতে ক্যান্সার নিয়ে ২০১৮ সালে ২৪ নভেম্বর হোমিও চিকিৎসা শুরু করে। বর্তমানে ভাল। এই ৭ মাসে ১৫/২০ জন রোগী এই রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
ব্ল্যাড ক্যান্সারে রোগী ৭ মাসে ১০/১৫ জন। গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জের ৬৫ বছর বয়সী আইয়ুব আলী ব্রেইন টিউমারে চিকিৎসা না করিয়ে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে ভাল হয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী সাবিনা বেগম পেটের ডানদিকে ৭.৫ মিলিমিটার কিডনী পাথর নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হোমিও চিকিৎসা শুরু করে। ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত পরামর্শ মেনে নিয়মিত চিকিৎসা ও ঔষধ চালিয়ে বর্তমানে সুস্থ্য হয়ে উঠেন। প্রতি মাসে ১৫-২০ জন কিডনী রোগী এই সেন্টার থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন।।
এদিকে ফিসটুলা রোগে আক্রান্ত হয় ৩৪ বছর বয়সী মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা কাজল দাশ । চিকিৎসা করাতে গিয়ে অপারেশন করা লাগবে শুনে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর হোমিও চিকিৎসা শুরু করে। বর্তমানে যিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে পাইলস রোগে সাধারন অপারেশন করালেও পুরোপুরি ভাল না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৬ মাস পর রোগটি রিটার্ন হতে পারে। কিন্তু হোমিওতে তা সম্পূর্নরৃপে নিরাময় সম্ভব বলে মনে করছেন এই সেন্টারের চিকিৎসক।
অন্যদিকে দিরাই এর ৭০ বছর বয়সী আলতাফ আলী লিভার ক্যান্সার ( হ্যাপাটোকোলার কারসিওনোমা) নিয়ে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর চিকিৎসা শুরু করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন । জগন্নাথপুরের ৬০ বছর বয়সী জয়নব বিবি ওরাল ক্যান্সার নিয়ে ২০১৬-২০১৭ দিকে চিকিৎসা শুরু করেন। বর্তমানে ভাল আছেন।
কথা বলে জানা যায়- এই সেন্টারে গত জানুয়ারী-জুন পর্যন্ত খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী ৬ মাসে ৭০/৮০ জন হবে। এর মধ্যে মহিলা প্রায় ২০,পুরুষ প্রায় ৫০ জন।লাঙ্ক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ৬ মাসে ৬০-৭০ জন। যার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে পুরুষ বেশি। জরায়ূ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী ৬ মাসে ৩০-৪০ জন। ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী ৬ মাসে ১৫-২০ জন। টন্সিল ক্যান্সাওে আক্রান্ত রোগী ৬ মাসে ২০-৩০ জন।

হোমিওতে ক্যান্সার চিকিৎসা শুরুর ৫-৬ মাস ঔষধ খাওয়ার পর ইমপ্রোভ হতে শুরু করে।কম সংখ্যক রোগী ১ম ষ্টেজে আসে।১-দেড় বছর ঔষধ খেলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
হোমিও সেন্টারগুলোতে অগ্নাশয়,মহিলাদের অভারীতে টিউমার,কিডনী সমস্যা,নাকের সাইনোসাইটিস,টনসিলাইটিস,ভোকাল কর্ড,হাড়ক্ষয়,শরীরের বিভিন্ন টিউমার,মৃগীরোগ,শ^াসকষ্ট,কোষ্ঠকাঠিন্ন,বসন্ত,শে^ত রোগ ও চর্মরোগ রোগের চিকিৎসা নিতে রোগীরা ভাল ফলাফল পাচ্ছে। যার ফলে বর্তমানে হোমিওর প্রতি মানুষের আগ্রটা অনেকগুন বেড়েছে।

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সিলেটের প্রভাষক ডা: আবুল হাসান চৌধুরী জানান, সারা দেশে প্রত্যেকদিন ক্যান্সার আক্রান্ত ১ জন রোগী দ্বারস্থ হয় হোমিও সেন্টারগুলোতে। শহরের তুলনায় গ্রামের রোগী বেশি। একদিকে এলাপ্যাথী টেষ্ট বানিজ্যে ভরসা হারানো,অন্য এলোপ্যাথীর ব্যয়ভার বহনে অক্ষম ব্যক্তিরা হোমিও চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হয়ে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে থাকে। অধিকাংশরা ক্যান্সার রোগীরা ১-২ টা থ্যারাপী দেওয়ার পর হোমিও চিকিৎসায় আসে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ক্যান্সার রোগীর এক থ্যারাপী খরচ ৫০/৬০ হাজার টাকা। যা সাধারন মানুষদেও পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। আমার মতে, ক্যান্সার রোগীদের সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় থ্যারাপী দেওয়া উচিত। বর্তমানে সরকারী খরচে ৫ জনকে দিলেও ৯৫ জন তো নিজ খরচে করতে হচ্ছে। যা পর্যাপ্ত নয়। কেননা, প্রত্যেক দিনই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে থ্যারাপী নিতে হচ্ছে।

১৯৮২ সাল থেকে হোমিওপ্যাথী নিয়ে প্রেকটিস ও রিসার্চ করে যাচ্ছেন সিলেটের হোমিওপ্যাথী চিকিৎসা জগতের পরিচিত নাম চিকিৎসক ডা. মো.আব্দুল হক। যিনি বাংলাদেশ হোমি বোর্ডের সদস্যের পাশাপাশি সিলেট জালালাবাদ হোমিও কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর হিসেবে নিযুক্ত আছেন। হোমিও চিকিৎসায় ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ক্যান্সার,কিডনীসহ জটিল রোগ নিরাময়ে হোমিও চিকিৎসা কতটা সফল জানতে চাইলে তিনি জানান- ফাইবার ষ্টেজে এরকম অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ভাল হওয়ার রেকর্ড আছে। আর ষ্টোন,টিউমারে আক্রান্ত অহরহ রোগী ভাল হয়েছে,ভাল হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন আমার সেন্টারে ৫/৬ জন ক্যান্সার রোগী আসে। খাদ্যনালীর ক্যান্সার,ব্রেইন টিউমারের অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিয়ে ভাল হয়েছে। এই ৩৭ বছরে কমপক্ষে ৮/১০ জন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়ে ভাল হয়েছে। খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে যাদের অনেকে এখনোও বেঁচে আছেন।

সিলেটের কয়েকজন হোমিও চিকিৎসক ও হোমিও রিসার্চ সেন্টার থেকে জানা যায়- হোমিও ঔষধ ধরতে সময় লাগে। তাই ক্যান্সারের মত জটিল রোগ ধরা পড়ার সাথে সাথে হোমিও চিকিৎসা নিতে পারলে অনেকটা সুফল পাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু অধিকাংশরা অন্যান্য চিকিৎসা শেষ কওে একেবাওে শেষের দিকে হোমিওপ্যাথী চিকিৎসায় আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। যে সময় ধরা পড়ে সম্পূর্ণ সেলটা নষ্ট হয়ে যায়।ক্যান্সার সেলটা নষ্ট করার সাথে সাথে ভাল সেলটাও নষ্ট হয়ে যায়। থ্যারাপীর রিয়েকশনে শরীরের মারাত্বক ক্ষতি হতে শুরু করে। তবে থ্যারাপীর মধ্যেও দামী,কমদামী আছে। সিঙ্গাপরের এক ডাক্তারের দেওয়া তথ্যমতে তাদেও ওখানে একটি ক্যামো থ্যারাপীর খরচ বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। যে থ্যারাপী দিলে শরীরের চুল,দাড়ি পড়ে না।
চিকিৎসকরা জানান, হোমিও ডেভেলপ হলে সমাজ উপকৃত হবে হোমিওর দিকে সরকার নজর বাড়ানো দরকার। সরকারী ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল হলে কর্মসংস্থান হবে। ।সরকারী মদত ছাড়া কিছু হয় না। তাছাড়া সুবিধা বলতে এখন প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে ২ জন করে হোমিওপ্যাথী চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারী অর্থায়নে ঢাকার নিকুঞ্জে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়েছে। । যারা সকল কলেজের নীতি নির্ধারক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে হোমিওপ্যাথী বিশ^বিদ্যালয় দরকার। রিসার্চ ছাড়া এই সেক্টরের ডেভেলপ সম্ভব না। মরহুম ডা.হোসেন রাজা চৌধুরী ফারুকী হোমিওপ্যাথী নিয়ে ভাবতেন,ডুবে থাকতেন। যার ফলে তিনি দক্ষিন এশিয়ার নামকরা ও অভিজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন। বর্তমানে ভাল ডাক্তারের সংখ্যা কম। সংখ্যার দিক দিয়ে ডাক্তার বেড়েছে, তবে কোয়ালিটি বাড়েনি।কোয়ালিটি বাড়াতে দরকার হোমিও বিষয়ে পড়াশোনা ও ধ্যান-ধারনা,জ্ঞান আহরন।

এদিকে সাধারন চিকিৎসায় যখন সার্জারীর কথা বলা হয় কেবল তখন হোমিওর দিকে ঝুঁকছে এক শ্রেণীর রোগীরা। হোমিও সম্পর্কে সাধারন মানুষ না জানার ফলে এই সমস্যা। এখন পর্যন্ত হোমিওপ্যাথী চিকিৎসাটা মেন টু মেন চিকিৎসার মধ্যেই রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সময় লাগলেও হোমিওপ্যাথী চিকিৎসাকে পারমামেন্ট চিকিৎসা মনে করছেন ফলাফল পাওয়া সাধারন মানুষসহ হোমিও পেশায় জড়িত সংশ্লিষ্টরা ।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: