সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে প্রভাবশালী চক্রের হাতে ৫০০ একর খাসজমি

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি প্রায় ৫০০ একর খাস ভূমি দখল করে রেখেছে একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখলে রাখলেও প্রশাসনের পক্ষে সরকারি জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মচারীদের ম্যানেজ করে দখলদাররা বছরের পর বছর এই বিশাল আয়তনের ভূমি কব্জা করে রেখেছে। ফলে সরকার গত ৪০ বছরে অন্তত কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সিঁন্দুরখান ইউনিয়নের লাংলিয়াছড়া মৌজার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি ভূমি খেকো চক্র প্রায় ৫০০ একর বনাঞ্চল কেটে দখল করে। এসব দখলদারদের অনেকের শ্রীমঙ্গল শহরে দালান বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিত্তশালীরা দখলকৃত ভূমিতে উৎপাদিত লেবু, আনারস, কলাসহ নানা ফসল থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করলেও সরকার এ থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নাকের ডগায় শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি এসব খাস জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করলেও স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৭৮ সালের প্রথম দিকে ৩২টি ভূমিহীন পরিবার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ একর ভূমিতে কাঁচা ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করে। এসব বাড়িঘরের আশপাশের কিছু টিলাজমি পরিষ্কার করে লেবু-আনারসের চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে শহরের কিছু প্রভাবশালীদের নজর পড়ে এই ভূমির ওপর। তারা বসবাসরত ভূমিহীনদের কাছ থেকে ধীরে ধীরে নামমাত্র মূল্যে এসব জমির ‘দখল’ হাতিয়ে নেয়। ভূমিদস্যুদের দাপটের মুখে একে একে অধিকাংশ ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর গত ৪০ বছরে কয়েক দফা এসব জমির ‘দখল’ উচ্চমূল্যে বেচাকেনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকটি দাগে এই ৫০০ একর খাস জমি সিঁন্দুরখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আছকির মিয়া, ব্যবসায়ী দুলাল হাজী, শাদৎ মিয়া, বল্টু বাবু, শুকুমার রায়, রবীন্দ্র তরনি, শ্যামল দাস, কাজল পাল, হেকিম মিয়া, খতিব মিয়া, চুনু মিয়া ও ফুল মিয়া মহালদারসহ আরো কিছু ব্যক্তির দখলে রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেখানে জালাল মিয়া, রহমান মিয়া, শহিদ, বাবুল মিয়া, হেকিম মিয়া, আবু তাহেরসহ অনেকে সরকারি খাস জমির ওপর পাকা ফাউন্ডেশনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। অনেক পরিবারে নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন সংযোগও নেওয়া হয়েছে। যদিও বৈধ জমির কাগজপত্র ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করার সুযোগ নেই। বেশির ভাগ বাড়িঘর নির্মাণে কাটা হয়েছে পাহাড়-টিলা। লেবু আনারসের বাগান সৃজন করতে উজার করা হয়েছে বনাঞ্চল।

সরেজমিন খাস জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান আবদুর রহমান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে সিঁন্দুরখান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল হেলাল জানান, ‘পাকা ঘর নির্মাণে এ পর্যন্ত আমার কাছে কেউ আবেদন করেনি। তাছাড়া সরকারি খাস জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণে অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

সিঁন্দুরখান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফুল মিয়া মহালদার বলেন, লিজ বন্দোবস্ত পেতে সরকারের কাছে আমি আবেদন করেছি। আমরা চাই সরকার রাজস্ব পাক। এই ভূমির বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা তা মেনে নেব।

ব্যবসায়ী দুলাল হাজী বলেন, ১৯৯০ সালে কিছু দখলদারদের কাছ থেকে দখল কিনে লেবু বাগান করে আসছি। সরকারি লিজ বন্দোবস্ত রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে দুলাল হাজী নেই বললেও সবাই যেভাবে আছে আমিও সেভাবেই আছি বলে জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এ ব্যাপারে জানান, সরকারি খাস জমিতে কেউ পাকা স্থাপনা-এমনকি টিনের ঘর বাড়ি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও নজরুল ইসলাম।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: