সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চরমভাবে অবহেলিত প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক:: আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকগণ মুখে যতই বলুক না কেন যে প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষার ভিত্তি অথবা প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষার মেরুদন্ড, প্রাথমিক শিক্ষকরা মানুষ গড়ার আসল কারিগর কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত চরমভাবে অবহেলিত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, সময়সূচী, সিলেবাস, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-পদমর্যাদা, পদোন্নতি যে দিক থেকেই তুলনা করা হোকনা কেন, ফলাফল একটাই আসবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকরা সবচেয়ে অবহেলিত। তাহলে শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে অবহেলিত রেখে কীভাবে দেশের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখা হয়?

উন্নত দেশে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রতি বেশী গুরুত্ব আরোপ করা হয় অথচ আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত। ফিনল্যান্ড, সিংগাপুর, জাপান, মালয়েশিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের অবস্থা যাচাই করলে আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ বিষয়টি সহজেই উপলব্ধি করা যায়। উন্নত দেশগুলোর কথা বাদ দিলেও আমাদের প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলংকার প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান আমাদের দেশের থেকেও অনেক উন্নত।

আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদেরতো উপরতলার অনেকে শিক্ষকই মনে করে না, প্রাথমিক শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশাকে অবমূল্যায়ন করে নাক ছিটকায় অথচ দেশের সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে শুধু নিজের নাম দস্তখত করা একজন সর্বনিম্ন ব্যক্তিও একদিন এই প্রাথমিক শিক্ষকদেরই শিক্ষার্থী ছিল। নিম্ন আর্থ-সামাজিক পদমর্যাদার কারণে প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীরা কখনো আকৃষ্ট হয়না, তারপরও যারা আসে তাদেরকে যথাযোগ্য মূল্যায়ন না করার কারণে তারাও এ পেশা থেকে পালানোর চেষ্টা করে, আর যারা এ পেশা ছেড়ে যেতে পারেনা তারাও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হয়ে যায়।

অথচ মানুষ গড়ার আসল কারিগর হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন পদমর্যাদা হওয়া উচিত অন্য পেশাজীবীদের থেকে বেশী। কিন্তু অন্য পেশাজীবীদের থেকে বেশী হওয়াতো দূরের কথা বরং শিক্ষকদের বেতন-পদমর্যাদা তাদের সমযোগ্যতার অন্য পেশাজীবীদের থেকে অনেক কম।

প্রাথমিকের একজন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক। তাছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পরে প্রত্যেক শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর ডিপার্টমেন্টের অধীনে বাধ্যতামূলকভাবে দেড় বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন নামে একটি অত্যাধুনিক ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। স্নাতক+ডিপ্লোমাধারী হয়েও একজন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। অথচ এসএসসি অথবা এইচএসসির পরে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে অন্য সকল ডিপ্লোমাধারীরা বেতন পাচ্ছেন ১০ম গ্রেডে। এটা কি বৈষম্য নয়? অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডের জন্য আন্দোলন করে আসলেও তাদের দাবী এখনও পূরণ করা হয়নি বরং এটা নিয়ে একের পর এক তালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ চলছে।

বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে আগত অন্য পেশাজীবীরা সরাসরি ১০ম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও প্রাথমিকে যোগদানকৃত প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১২তম গ্রেডে। প্রাথমিক শিক্ষা যদি সত্যিকারে শিক্ষার ভিত্তি হয় ও শিক্ষকরা যদি সত্যিকারে মানুষ গড়ার কারিগর হয় তাহলে কেন প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষকরা এত অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার? এভাবে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি আর বেশী দিন অবহেলা চলতে থাকলে দেশ ও জাতি ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

মাহফিজুর রহমান মামুন
সহকারী শিক্ষক, পঞ্চগড়



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: