সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৬০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে হোমিও শিক্ষায় বেড়েছে আগ্রহ,সহযোগিতায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

জীবন পাল:: সিলেটে বিভিন্ন মাধ্যমের পাশাপশি হোমিওপ্যাথী শিক্ষার প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে তরুণদের।যাদের মধ্যে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের সংখ্যা প্রায় সমান। জেনারেল লাইনে ডাক্তারি পড়াশোনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই,খরচ এবং সীমিত আসনের ফলে সুযোগ না পাওয়ায় নিজেদের স্বপ্ন পূরনে হোমিওপ্যাথী শিক্ষার প্রতি তরুনদের এই আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নিজ উদ্যোগে ফার্মেসী খুলে প্রেকটিস করা ছাড়া সরকারীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় আগ্রহ থাকলেও এক রকম হতাশ প্রকাশ করছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। এ ক্ষেত্রে তরুনদের আগ্রহটা ধরে রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্র্রতিবেশী দেশ ভারতে হোমিওপ্যাথী বিশ^ বিদ্যালয়সহ চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থাকলেও হোমিও চিকিৎসায় বাংলাদেশে সেরকম সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। সারাদেশে ৬১টি হোমিওপ্যাথ কলেজ থাকলেও সরকারীভাবে তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। বর্তমান সরকার কলেজের শিক্ষকদের বেতনের ২০% হাওে সরকারীভাবে দেওয়ার নিয়ম শুরু করলেও সেই টাকাটাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছেনা। সিলেট জালালাবাদ হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজ ্ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেল।

সরেজমিনে সিলেটে বিভাগের জল্লারপাড়ে অবস্থিত একমাত্র কলেজটির অফিস গিয়ে জানা গেল, ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষেরর পর থেকে হোমিওপ্যাথী বিষয়ে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটা বেড়েছে। এর আগে যেখানে ২০০ জনও ছিলনা। সেখানে এখন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কলেজের রেজিষ্ট্রি ঘাটিয়ে দেখা গেল- ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষে ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী,২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষে ২৮৪ জন শিক্ষার্থী,২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষে ২২৫ জন,২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ বর্ষে ১৯৩ জন পরীক্ষার্থী নিজ নিজ বর্ষের অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী রয়েছেন- ১ম বর্ষে ৬০০ জন,২য় বর্ষে ৫২৫ জন,৩য় বর্ষে ৪২৪ জন ও ৪র্থ বর্ষে ৪৫০ জন। যার মধ্যে বর্তমান ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৪০০জন সামনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে।
সেই হিসেবে দেখা যায় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় ২৪৪২জন শিক্ষার্থী। যাদের মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৪০০ জন ও বর্তমান চলমান ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ৪৩ জন (৬ জুলাই দুপুর ১টা পর্যন্ত) অন্তভুক্ত। ৪টি বর্ষ মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা-১০৬৮ জন।

এর মধ্যে গত জুনের ৩০ তারিখ ১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ বর্ষের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ১৯৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয় ১৮৩ জন শিক্ষার্থী । যাদের মধ্যে ছেলে ১১২ জন এবং মেয়ে ৭১ জন।
যার ফলে হোমিও শিক্ষার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে বলতে হবে।

তবে এ সেক্টরে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অফিস কর্মকর্তারা।
তরুণরা ছাড়াও সিলেটের এই একটিমাত্র হোমিওপ্য্যথী কলেজে বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ ভর্তি হচ্ছে। যাাদের মধ্যে সরকারী চাকুরীজীবি,ব্যাংকারসহ বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানীতে কর্মরতরাও রয়েছেন। সিলেটের এই কলেজে দিবা-নৈশ্যকালীন ক্লাস চালু থাকায় কর্মজীবিরাও ্আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এমনকি ডাক্তার হবার স্বপ্ন পূরনে সরকারী চাকুরীজীবির সহধর্মীরাও হোমিও কলেজে এসে ভর্তি হচ্ছেন। বদলী হলে বদলীকৃত এলাকার যেখানে হোমিওপ্যাথী কলেজ আছে সেখানে টিসি নিয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাবার সুযোগ থাকায় তাদের খুব একটা সমস্যা হচ্ছেনা বলে জানালেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী ডাক্তার হয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথী ডাক্তারদের ঐ রকম সুযোগ সুবিধা না থাকায় চাকুরী তো দুরের কথা নিজেরা প্রেকটিস করা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।। যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা বের হয়েও ডাক্তারী করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।। বিভিন্ন পেশা থেকে এই পেশায় আসার কারনে তাদের অধিকাংশরা বের হয়ে অন্য পেশার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকেন।

তবে বর্তমান সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। আগে যেখানে শিক্ষার্থী তো দুরের কথা,শিক্ষক ডেকে আনা যেত না। সেখানে বর্তমানে পার্টটাইম-ফুলটাইম মিলিয়ে ২৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। যার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যম্যে নতুন ৪ জনকে নয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আর বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১২০০ মত।

জালালাবাদ হোমিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন আর অবসর সময় কাটাতে নয়,ডাক্তার হয়ে ভাল করার লক্ষে তরুণরা হোমিওর দিকে ঝুঁকছে। তাছাড়া এখান থেকে বের হয়ে ৫ বছর মেয়াদী বিএইচএমএস করে হোমিও শিক্ষার্থীরাও বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারছে। আগে সরকার মনোযোগী ছিলনা। মেধাবীরাও আসতো না। কিন্তু এইবার বিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গেছে ১০০ আসনের স্থলে ১০ হাজার আবেদন পড়েছে। যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যাচ্ছে আগ্রহটা বেড়েছে।

বর্তমানে হোমিওপ্যাথী ও শিক্ষার্থীদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জালালাবাদ হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো.আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ খান জানান, এখন তরুণরা হোমিওপ্যাথীর দিকে ঝুঁকছে। যেহেতু বিষয়টা জানার,বুঝার সেহেতু আজকের তরুণরা বিষয়টা জানার চেষ্টা করছে,বুঝার চেষ্টা করছে। তাদের আগ্রহ বাড়ছে। যার ফলে এখনের ২০০ জনে ১০০ জনেই বের হয়ে ডাক্তারী করতে দেখা যাচ্ছে। তাই বলবো, সবকিছুতে আমাদের তরুণদের দরকার। তারাই পারে সবকিছু পাল্টে দিতে। তবে সরকারের সহযোগিতা এখন একান্ত দরকার। সরকারের উচিত এখন হোমিওপ্যাথীর দিকে একটু নজর দেওয়া।

প্রভাষক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হোমিওপ্যাথীর জন্য হোমিওপ্যাথী হাসপাতাল,বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। এটা আর অবসর কাটানোর চিকিৎসা নয়। ভাল চিকিৎসক দিয়ে ভাল মানের সেবা পেতে হোমিওপ্যাথী বান্ধব হওয়া সরকারের দরকার। তাহলে এই সেক্টর থেকে একটা ভাল আউটপুট পাওয়া যাবে।

জালালাবাদ হোমিও কলেজে গিয়ে দেখা গেছে আগ্রহ নিয়েই ক্লাস করতে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। উপস্থিতির দিক দিয়ে কম হলেও মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারটা ছিল চোখে পড়ার মত। কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে জালালাবাদ হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন ফাহিমা ইসলাম। যে বর্তমানে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার মতে,রোগী নয়,রোগের চিকিৎসা হচ্ছে হোমিও। এমবিবিএস পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার মত অবস্থা আমাদের দেশে এখন বড়লোকী ব্যাপার। তাছাড়া চিকিৎসার অবস্থা যা দেখছি সেখান থেকে মনে হয়েছে হোমিওপ্যাথী নিয়ে ভালভাবে পড়াশোনা করে নিজ এলাকায় চেম্বার খুলে গরীব দু:খী মানুষের সেবা করা ভাল হবে। কিছু না পাই,মন থেকে মানুষের দোয়া পাবো। সেটাই আমার জন্য বড় প্রাপ্তি হবে। সেই আকাঙ্কা নিয়ে এই বিষয়ে পড়াশোনা করছি।

এদিকে কুলাউড়ার ব্রাম্মনবাজারে পান্না আক্তার মিতার কাহিনী কিছুটা অন্য রকম। তিনি নিজেই একজন মুমুর্ষ রোগী ছিলেন। একজন হোমিওপ্যাথী চিকিৎসকের চিকিৎসায় সে আজ সুস্থ্য। তাই সুস্থ্য হবার পওে হোমিওর প্রতি তার আগ্রহ জন্মায়। সেই আগ্রহ থেকেই আজ হোমিও বিষয়ে পড়াশোনা করছে।

নাজিয়া তাসমিন এলিজা,তানিয়া বেগম, দিপ সরকার,তরিকুল ইসলাম জুয়েল,জুবায়ের আহমদের মত অনেক তরুন শিক্ষার্থী নিজ আগ্রহ থেকে হোমিওতে ভর্তি হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে যাচ্ছে। কারো স্বপ্ন ভাল হোমিওপ্যাথী ডাক্তার হওয়া,আবার কারো বা ভাল মানের হোমিও সেন্টার খুলে সাধারন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সেবা করা।

২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ পৌর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ডিএইচএমএস এ ভর্তি হয় জুয়েল। উচ্চ শিক্ষা কিংবা চাকুরী কোনটিই করার ইচ্ছা কখনো ছিলনা জুয়েলের। তার ইচ্ছা নিজে কিছু একটা করার। বাবার এলোফ্যাথী ফার্মেসী আছে। কিন্তু কাকার হোমিওপ্যাথী ফার্মেসী থাকলেও সার্টিফিকেটধারী না। যার ফলে জুয়েলের স্বপ্ন হোমিওপ্যাথী বিষয়ে পড়াশোনা করে এ চিকিৎসা সম্পর্কে ভাল ভাবে জানা। ভাল মানের চিকিৎসক হয়ে কাকার সুনামটাকে ধরে রাখতে শক্তভাকে তার হাল ধরা। কাকার সুনাম থাকলেও অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট ছিলনা যা এখনের বিচারে অবৈধ। তাই আমি চাই জেনে শুনে পড়াশোনা করে বৈধ ভাবে কাকার হাল ধরতে। তবে সরকারের উচিত এই সেক্টরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা।

ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ থেকে ২০১৫ সালে এইচ এস সি পাশ করে জালালাবাদ হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজ ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষেও ছাত্রী নাজিয়া তাসমিন এলিজা। তার মতে,সরকারের উচিত হোমিওপ্যাথী চিকিৎসার উন্নয়নে কাজ করা। হোমিওপ্যাথী চিকিৎসকদেও সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা। মানুষের স্বার্থে বাংলাদেশে এর পরিসররা বৃদ্ধি করা। বাইরের দেশের মত আমাদের দেশেও হোমিও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনমত হাসপাতাল এবং এ বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য বিশ^বিদ্যালয় চালু করা। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে যদি একটি করে হোমিও ক্লিনিক করা হয় তাহলে আমাদের মত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে বের হবার পর নিজেদেরকে দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পারতাম।

সিলেট জালালাবাদ হোমিও কলেজের ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন আলাল আহমেদ । কুলাউড়ার ব্রাম্মনবাজারে যাদেও নিজস্ব একটি হোমিও ফার্মেসী আছে। বাবার সাথে সেখানেই প্রেকটিস করা হত আলালের। পরবর্তীতে ডিএইচএমএস ভর্তি হয়ে হোমিও বিষয়ে পড়াশোনা কওে দক্ষতা অর্জন করা। এখন নিজেই বাবার চেম্বারে রোগী দেখেন। চেম্বারে বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগী আসে। তার মধ্যে ভাদেশ্বর,গোলাপগঞ্জ,খাস্তঘাট,ফেঞ্চুগঞ্জ,সিলেট উল্লেখ্যযোগ্য। তার মতে- এই প্রতিষ্ঠান থেকে ভাল ভাবে পড়াশোনা করে বের হয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি মানুষের সেবা করতে পারছি। আমি বলবো তরুণদের এই হোমিওর দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। আর সরকারের উচিত এই সেক্টরটাকে ডেভেলপ করা।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: