সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি : ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি

ছাতক সংবাদদাতা ::

ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নতুন-নতুন এলাকা প্ল¬াবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ডাইকি, বটেরখাল ও বোকা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এখানকার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের রহমতবাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়ক দিয়ে সারাদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শহরের সাথে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বাড়ির আঙ্গিনাসহ নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। ঢলের পানি প্রবেশ করায় অন্তত অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের অলি-গলি ও বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কানাখালি সড়ক, ফকিরটিলা-মাছিমপুর বাজার সড়ক, ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ি-রতনপুর সড়ক, ছনবাড়ি-গাংপাড়-নোয়াকোট সড়ক, কালারুকা ইউনিয়নরে মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, রায়সন্তোষপুর সড়ক, আমেরতল-ধারন সড়ক, পালপুর-খুরমা সড়ক, বোকারভাঙ্গা-সিরাজগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার অধিকাংশ সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারা ও ছাতক-জাউয়া সড়কের বিভিন্ন অংশের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জামুরা, চানপুর, নোয়াগাঁও, ভাসখলা, করচা, গোয়ালগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জামেয়া মুহাম্মদিয়া মুক্তিরগাঁও দাখিল মাদরাসা, চরভাড়া মাদরাসা, বৈশাকান্দি এফআইভিডিবি স্কুল, লামাপাড়া ব্র্যাক স্কুলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নৌপথে ছোট-ছোট নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে লোডিং-আনলোডিং প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েক শতাধিক শ্রমিক। কয়েকটি ষ্টোন ক্রাসার মিল, পোল্টি ফার্ম ও মৎস্য খামারে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। আমন ধানের বীজতলা ও শাক-সবজির বাগানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে কৃষকদের।

এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর, জামুরা, পুরান নোয়াকুট, পান্ডব, রাসনগর, লুভিয়া, বনগাঁও, কাজিরগাঁও, গাংপাড়, নোয়াকুট, রতনপুর, দারোগাখালী, আলমপুর, কুচবাড়ি, রহমতপুর-১, বামনগাঁও, সৈদাবাদ, মোল্লাপাড়া, নিজগাঁও, কুমারদানী, বাহাদুরপুর, নিয়ামতপুর, উত্তর গনেশপুর, দক্ষিণ গনেশপুর, মধ্য গনেশপুর, ইসলামপুর, রহমতপুর-২, গোয়ালগাঁও, পৌরসভার হাসপাতাল রোড, শাহজালাল আবাসিক এলাকা, শ্যামপাড়া, চরেরবন্দ, মোগলপাড়া, তাতিকোনা, বৌলা, লেবারপাড়া, নোয়ারাই ইউনিয়নের জোড়াপানি, জয়নগর, বাশঁটিলা, টিল্লাগাঁও, টেংগার গাঁও, বারকাহন (ভাজনামহল), চড়ভাড়া, বেতুরা, কাড়ইলগাঁও, লক্ষীবাউর, ছাতক সদর ইউনিয়নের কেশবপুর, বড়বাড়ী, আন্ধারীগাঁও, মল্লিকপুর, ব্রম্মাণগাঁও, মাছুখালী, মুক্তিরগাঁও, তিররাই, মান্সীনগর, রাতগাঁও, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর, ঘিলাছড়া, হামিদপুর, নয়া মৈশাপুর, তকিরাই, নোয়াগাঁও, দাহারগাঁও, সেওতরপাড়া, হলিয়ারগাঁও, মৈশাপুর, ছাড়ালকোনা, নাদাপুর, নানছিরি, ইসলামপুর, রসুলপুর, কাঞ্চনপুর, নানশ্রী, শৌলা, চরমহল্লা ইউনিয়নের নবাইচর, কাষ্ঠ গঙ্গা, জালালীচর, হাসারুচর, হাছননগর, কেজাউরা, নানকার, ছোট-কেজাউরা, শাহপুর, খরিদিচর, শাখাইতি, চরমাধব, ভূলাখালী, টেটিয়ারচর, চরচৌড়াই, চুনারুচর, মজুমদারীচর, চরচৌলা, কালারুকা ইউনিয়নের মিত্রগাঁও, হরিশপুর, নানশ্রী শিমুলতলা, পীরপুর, গৌরিপুর, মাধবপুর, খারগাঁও, বিল্লাই, চাঁনপুর, লামাপাড়া, শংকরপুর, নজমপুর, খালপার, রাজাপুর, তালুকপাড়া, আকুপুর, নোয়াগাঁও, বোবরাপুর, দিগলবন্দ, আরতানপুর, সিকন্দরপুর, পৈলনপুর, আজিদরপুর, মালীপুর, রামপুর, কঠালপুর, সাহেবেরগাঁও, উদয়পুর, উজিরপুর, রায়সন্তোষপুর, করছা, শেখকান্দী, ছিক্কা, ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, আসলমপুর, মহদী, সৈদেরগাঁও, সিংচাপইড়, সিরাজগঞ্জ বাজার, সরিষাপাড়া, হবিপুর, মামদপুর, বানিকান্দি, পুরান সিংচাপইড়, জিয়াপুর, আইনাকান্দি, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মায়েরকুল, মর্যাদ, জাতুয়া, হলদিউরা, দত্তখিদ্রা, পরানপুর, বাউর, পরশপুর, হরিশ্বরন, হাতধনালী, রামচন্দ্রপুর, পুরাকাঠি জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দেওকাপন, কাইতকোনা, সাদারাই, গনিপুর, রহিমপুর, হরিপুর, দেবেরগাঁও, ঠারচৌকা, পাইগাঁও, ঝামক, লক্ষমসোম, জাউয়া, খিদ্রাকাপন, হাবিদপুর, বিনন্দপুর, দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া, মোহাম্মদপুর, চক কেসবপুর, দশপাইকা, রামপুর, ছৈলা, বুবরাজান, বসন্তপুর, তালিবপুর, গবিন্দপুর, দুর্গাপুর, জটি, চিছরাওলী, গোপালপুর, মুক্তারপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের লাকেশর, বানারশি, ছৈলা, কহল্লা, ব্রাম্মন ঝুলিয়া, বাগইন, রাধানগর, আনন্দ নগর, পলিরগাঁও, বড় চাল, নোয়াপাড়া, শ্যামনগর, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের পীরপুর, খাগামুড়া, গোয়াশপুর, নোয়াগাঁও, বাউভোগলী, কশ্ববড়াই, গহরপুর, গোবিন্দগঞ্জ পুরানবাজারসহসহ বিভিন্ন এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে নি¤œবিত্ত দিনমজুর মানুষরা কর্মহীন হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, এখন পর্যন্ত ১৫-২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারী জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যেই কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: