সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আত্মীয়, প্রতিবেশী এবং পরিচিতজনদের মাধ্যমে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে!

নিউজ ডেস্ক:: কেবল গত ছয় মাসেই ৪৯৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত বছরের চেয়ে যা ৪১ শতাংশ বেশি। আর চলতি মাসের প্রথম সাতদিনে ধর্ষিত হয়েছে ৪১ শিশু। ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে, ২৩ জনকে। আতংকের বিষয় হচ্ছে, এসবই হয়েছে নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী বা পরিচিতজনের মাধ্যমে।

মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায়, পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন, মানবাধিকার ও সমাজ বিশ্লেষকরা।

সায়মার বাবার অসহায়ত্বই যেন, এই সমাজের এখনকার বাস্তবতা। গেল শুক্রবার রাজধানীর বনগ্রামে, সাত বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ আরেকবার কেঁপে ওঠে।

একদিন আগে বৃহস্পতিবার, নারায়ণগঞ্জের, ‘বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও অধ্যক্ষ আল আমিনকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করে রাব। অনুসন্ধান বলছে, দেড় বছরে তিনি ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন।

একই রকম অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের ‘মিজমিজি অক্সফোর্ড হাইস্কুলে’র শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে পর্ণগ্রাফির মামলাও হয়েছে।

দক্ষিণের জেলা চট্টগ্রামের আনোয়ারার ঘটনাটি তো, আরো ভয়াবহ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে, চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক গণধোলাইয়ের শিকার।

এমন সব বীভৎস ঘটনা, দেশের প্রায় সব জায়গায় প্রতিদিনই হচ্ছে। ১৫টি জাতীয় দৈনিক পর্যালোচনা করে, ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ বলছে :

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৯৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ জন আবার গণধর্ষণের শিকার। প্রতিবন্ধী ২৭ জন। কেবল এপ্রিল ও মে- দুই মাসে, ধর্ষণ সংখ্যা ২৪১। এর চেষ্টা হয়েছে, ৭৪ জনকে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, ২৩ জনকে। সবচে’ ভয়াবহ হলো, চলতি জুলাই মাসের প্রথম সাতদিনেই ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে ছয়টি গণধর্ষণ এবং ২৩ জনকে পরে খুন করা হয়েছে।

সংস্থার সভাপতি পরিসংখ্যানকে উদ্বেগজনক মন্তব্য কোরে বললেন, বেশিরভাগ শিশুই নিকটজনের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে।

এমন মানসিক বিকৃতির একক কারণ নেই বলে মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক। তবে এজন্য প্রধানতঃ, পর্ণগ্রাফির অবাধ বিস্তার ও বিকৃত যৌনাকাংখাকে দায়ী করলেন তিনি।

আর, এই মানবাধিকার কর্মীর মতে, সঠিক বিচার ও শাস্তি না হওয়ায়, ধর্ষকরা নিবৃত্ত হচ্ছে না।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, সামাজিক দায়বদ্ধতা যেমন জরুরি, তেমন উপযুক্ত বিচারের দৃষ্টান্ত রাখার তাগিদ দিলেন, সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: