সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য শ্রী জগন্নাথদেব রাস্তায় বের হন

শ্রীধর দত্ত:: চার ধামের একধাম শ্রীজগন্নাথ ধাম। বঙ্গোপসাগরের মনোরম সমুদ্রতটে জগৎপতি শ্রী জগন্নাথদেব উড়িষ্যার পুরীতে নিত্য বিরাজিত। জগন্নাথ শব্দের অর্থ জগতের নাথ। আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়া বা রথ দ্বিতীয়া তিথিতে এই মহোৎসব উদ্‌যাপিত হয়। ভক্তদের দর্শন দানের জন্য তিনি রত্নবেদী ত্যাগ করে রাজপথে বেরিয়ে আসেন। ভগবানকে দর্শন এবং প্রার্থনা করার জন্য ভক্তগন মন্দিরে ছুটে যায়। কিন্তু রথযাত্রায় ভগবান স্বয়ং তাঁর ভক্তদের দর্শন দেওয়ার জন্য রথে আরোহন করে রাজপথে পরিভ্রমণ করেন। এই জন্য জগন্নাথদেবের আরেক নাম পতিত পাবন।

ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের বিবিধ উৎসবের মধ্যে সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যমন্ডিত উৎসব হল রথযাত্রা মহোৎসব। পুরাণে বর্ণিত আছে ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব, তাঁর অগ্রজ ভ্রাতা বলদেব ও কণিষ্ঠা ভগ্নি সুভদ্রা মহারাণীকে নিয়ে পুরী ধামে রত্ন সিংহাসনে বিরাজিত আছেন। সত্যযুগে মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বর্গলোকের দেবশিল্পী বিশ্বকর্মাকে দিয়ে পুরীর শ্রীমন্দির নির্মাণ করেছিলেন এবং প্রজাপতি ব্রহ্মা তা উদ্বোধন করেছিলেন।

দ্বাপর যুগের শেষভাগে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন ও ধর্ম সংস্তাপনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। দ্বারকাধীশরূপে রাজত্ব করার সময়ে একবার সূর্যগ্রহণের সময় সমস্ত দ্বারকাবাসীদের নিয়ে তিনি কুরুক্ষেত্রের ব্রহ্মকুন্ডের তীরে উপনীত হয়েছিলেন। এইদিকে সমস্ত বৃন্দাবনবাসী ভক্তরাও সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে কুরুক্ষেত্রে এসেছিলেন। অনেককাল পরে ব্রজবাসীদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মিলন হল। ব্রজবাসীরা শ্রীকৃষ্ণকে রাজবেশে দর্শন করতে চাইলেন না। তারা ভগবানের উদ্দেশ্যে মিনতি নিবেদন করেছিলেন, “হে আমাদের প্রাণনাথ কৃষ্ণ, দেখ এখানে আমরা সকলে রয়েছি, তুমিও এখানে উপস্থিত রয়েছ, কিন্তু শুধু একটি বিষয়ের অভাব রয়েছে। সেটি হচ্ছে আমাদের বাল্যলীলাস্থলী বৃন্দাবন ধাম, যেখানে আমরা মধুময় বাল্যলীলা উপভোগ করেছিলাম। চল, চল, আমরা আবার সেই বৃন্দাবনের অরণ্যে ফিরে যাই।” এই বলে ব্রজবাসীগণ কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর রথের ঘোড়া ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই রথ টানতে টানতে শ্রীধাম বৃন্দাবনে নিয়ে গেলেন। সেই লীলাকে স্মরণ করে আজও সারা পৃথিবীর ভক্তগণ শ্রীজগন্নাথদেবকে বৃন্দাবনে (গু-িচা মন্দির) নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। ভক্তরা যেভাবে রথের রশি ধরে ভগবানকে হৃদবৃন্দাবনে আকর্ষণ করেন, সেইরকম ভগবানও তাঁর ভক্তদের এই জড় জগতের জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে তাঁর ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কেউ যদি রথের দড়ি ধরে টানে বা রথ স্পর্শ করে বা রথোপরি বিগ্রহ সমূহকে দর্শন করে তাহলে তার মুক্তি সুনিশ্চিত।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শান্তি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে রথযাত্রা উৎসব বিশেষ ভূমিকা রাখবে- এই কামনা করি।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: