সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ন্যায় বিচার ও বিভ্রান্তির অবসান চান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবারক আলী

নিজস্ব সংবাদদাতা ::
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এলাকাবাসীসহ সকল মহলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সিঙ্গেরকাছ গ্রামের বাসিন্দা আবারক আলী। একই সাথে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক ঘোষিত প্রতারক আহমদ আলীর কাছ থেকে তার পাওনা আদায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচারও চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা তুলে ধরেছেন। আবারক আলী সিঙ্গেরকাছ পাবলিক বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের তিনবারের নির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি ও সিঙ্গেরকাছ আলীম মাদরাসার দাতা সদস্য এবং সিঙ্গেরকাছ বাজার জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্বেও রয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে উপরন্তু সিঙ্গেরকাছ গ্রামের আহমদ আলী আমার এবং আমার ছেলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচার রটাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমে আহমদ আলীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে আমার ছেলে সেবুল নাকি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আমার ছেলে সেবুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তার সাজাও হয়নি। আমাদেরকে যে মামলায় ফাসানো হয়েছিল সে মামলায় আমরা খালাস পেয়েছি। আর বলা হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং অতীতে দায়েরকৃত সবকটি রাজনৈতিক মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। সেগুলোর মধ্যে দুটি মামলা বিচারাধীন আছে।’

‘এছাড়া ওই সংবাদে আরও বলা হয়েছে আমার মালিকানাধীন ৬টি দোকানকোঠা রয়েছে। মূলত ৭টি দোকানের মালিক আমি। আরও মিথ্যাচার করা হয়েছে আমার দোকানগুলো নাকি সরকারি জমিতে। স্পষ্ট ঘোষণা করতে চাই আমার দোকানগুলোর জমির খরিদাসূত্রেপ্রাপ্ত মালিক আমি। সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে মহল বিশেষ এই অপপ্রচার চালিয়েছে। এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকল মহলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।’
তিনি বলেন, সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সঙ্গে আমার ছবিও ছাপা হয়েছে। পুলিশ আমাকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী আহমদ আলী আমার আত্মীয়। পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন সুসম্পর্ক ছিল। সে আমার স্ত্রীর বড় বোনের ছেলে। তার ছোট ভাইয়ের কাছে আমার এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সে কারণে পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক থাকায় সরল বিশ্বাসে আমি কথার ফাঁদে পা দিয়ে আজ চরম বিপদগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে তার পিতা মারা যাওয়ার পর সে অনেকটা আমাদের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে। লন্ডনে থেকে যখন দেশের বাড়ির সহায় সম্পত্তি দেখাশুনা করতে পারছিলনা তখন সেগুলো আমরা তদারকি করি। একপর্যায়ে আহমদ আলী তার মালিকানাধীন সিঙ্গেরকাছ বাজারে থাকা দুতলা বাসা এবং দুটি দোকানকোঠা আমার কাছে বিক্রি করতে চান। এ সময় তার সঙ্গে কথাবার্তা হয় যেহেতু তিনি লন্ডনে থাকবেন সেহেতু ব্র্যাক ব্যাংকে চলমান তার একটি লোন এর কিস্তি প্রতিমাসে আমরা পরিশোধ করবো। পরিশোধের পরিমাণ যখন দেড়কোটি টাকা হবে তখন তিনি আমাকে জমিসহ দোকানকোঠা রেজিস্ট্রি করে দিবেন। যেহেতু পূর্বেও আমাদের মধ্যে লেনদেন হয়েছে এবং আমি তার কাছে তখনও ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিলাম। যা আমি পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করি। সে কারণে আমি তার প্রস্তাবে রাজি হই এবং আহমদ আলীর নামে পূবালী সিঙ্গেরকাছ শাখা থেকে ৩৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩২৬ টাকার একটি পে-অর্ডার প্রদান করি। তার নেওয়া ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা হতে লোন-এর কিস্তি প্রতিমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে আমরা ৫৫টি পেমেন্টের মাধ্যমে ৭৭ লক্ষ ২৪ হাজার ২৫৫ টাকা জমা দেই। এই টাকাসহ সর্বমোট আমরা তাকে নানাভাবে যখন এক কোটি ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৮১ টাকা পরিশোধ করি তখন আমরা বলি যে, দুতলা ভবন ও দুটি দোকানকোঠা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য। তখন সে তালবাহানা শুরু করে। প্রথমদিকে দিচ্ছি দিব বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি নিরুপায় হয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির আলী এবং ইউপি সদস্য যথাক্রমে ইরণ মিয়া, নূর উদ্দিন, গোলাম হোসেন, আবদুল মজিদসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচারপ্রার্থী হই। সালিশানগণ তখন উভয়পক্ষকে ডেকে দুপক্ষের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা করে জামানতের চেক গ্রহণ করেন। এরপর তারা পরপর চারবার উভয়পক্ষকে সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ করেন। আমি সবকটি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও আহমদ আলী কোনো বৈঠকে উপস্থিত হননি। ফলে ইউপি চেয়ারম্যান সালিশানদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আহমদ আলীকে প্রতারক হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর আহমদ আলী, তার ভাইগণ ও তার ছেলেরা ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে আমার এক ছেলের বাসায় পর্যন্ত আক্রমণ করে। তখন তার ছেলেকে সেখানকরা পুলিশ আটক করে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।’



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: